সম্প্রতি ভারত সফরে এসেছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। বৈঠক হয়েছে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে। সেই বৈঠকেই সূত্র মারফত খবর, ভারতের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অবিলম্বে বাংলাদেশে চলা জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির নির্মূল করতে হবে। বাংলাদেশ যেভাবে পাক জঙ্গিদের সেফ করিডোর হয়ে উঠছে, সেটা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় ভারতের কাছে। কোথায় কোথায় রয়েছে জঙ্গি শিবির, সেটা একেবারে গ্রাফিক্যালি জানানো হয়েছে খলিলুর রহমানকে। খলিলুরের হাতে ফাইল ধরিয়েছেন অজিত দোভাল। পাশাপাশি খলিলুর রহমানের হাতে তথ্য প্রমাণ তুলে দিয়ে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে ভারতের তরফে।
খলিলুর রহমান ভারত সফরে এসে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠকে কি কি উঠে এল, তা নিয়ে কৌতুহলের শেষ নেই। যদিও দু দেশের পক্ষ থেকেই জানানো হয়েছে, নিরাপত্তাজনীত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সূত্র মারফত খবর, মূলত চারটি বিষয়ের উপর আলোচনা হয়েছে। প্রথমত, বাংলাদেশে যে ধরণের কার্যকলাপ চলছে, জঙ্গিদের বাড়বাড়ন্ত শুরু হয়েছে, তাতে দুই দেশের জন্য নিরাপত্ত হুমকি হতে পারে। এমনকি ভারত যে খুব বেশি প্রভাবিত হচ্ছে, সেটা বলাই বাহুল্য। সেই সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশকে সাবধান করা হয়েছে ওই বৈঠক থেকে। অন্যদিকে দ্বিতীয় বিষয় হিসাবে উঠে আসছে, তা হল, দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনায় যত তদন্ত এগোচ্ছে ততই একের পর এক বিষয় উঠে আসছে। দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনা জঙ্গ নাশকতা হিসাবেই দেখছে ভারত। তাতে যে তথ্য উঠে এসেছে, সেখানে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে, সে দেশে বসেই এই ছক কষা হয়েছে বলে প্রমাণ মিলছে। সেই সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি বা কূটনৈতিক ভাষায় ডসিয়ার তুলে দেওযা হয়েছে খলিলুর রহমানের হাতে। তৃতীয় বিষয়, সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টা বিভিন্ন সময় ভারতের স্পর্শকাতর এলাকা নিয়ে মন্তব্য করেছে। এই বিষয় থেকে যেন বিরত থাকে বাংলাদেশ। সেই বিষয়ে তুলে ধরা হয়েছে ওই বৈঠকে। অন্যদিকে শেষ বিষয়টি হল, জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের একটি বই প্রকাশ করা হয়েছে। যে বইয়ের মধ্যে একটি গ্রাফিতি দেওয়া হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের একটি ম্যাপ রয়েছে। যে ম্যাপে ভারতের কিছু অঞ্চল ঢুকিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেই বিষয়ে অবগত করা হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে। ফলে সবমিলিয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে খলিলুর রহমানের বৈঠকে বাংলাদেশ যে চাপে পরল, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
তবে বাংলাদেশের গণমাধ্যম খবর করছিল যে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ নিয়ে কথা হয়েছে দুই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার মধ্যে। তবে তেমন খবর সামনে আসেনিষ। শেষমেষ যদিও ভারত নিজেদের ভাষ্য এই বিষয়ে জানিয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের ফেরত পাঠানো নিয়ে ঢাকার চিঠি প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের কাছ থেকে অনুরোধ পেয়েছি। সেই অনুরোধ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। বিচার বিভাগীয় পদ্ধতি ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অঙ্গ হিসাবে আমরা বাংলাদেশের মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। এর মধ্যে শান্তি, গণতন্ত্র, সবাইকে নিয়ে চলা এবং স্থায়িত্বের বিষয়টি রয়েছে। আমরা গঠনমূলকভাবে সব পক্ষের সঙ্গে জড়িত থাকব। তবে দিল্লি বিস্ফোরণের পর যে যে তথ্য ভারতের কাছে এসেছে, সেগুলি বাংলাদেশের সঙ্গে কোনও না কোনওভাবে যোগসূত্র পাওয়া যাচ্ছে। তবে অজিত দোভাল যে তথ্য তুলে দিয়েছেন, তাতে বাংলাদেশ কি পদক্ষেপ নেয় জঙ্গি দমনে সেটাই দেখার।












Discussion about this post