মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে। এরপর থেকেই অপেক্ষা চলছিল হাসিনাকে দেশে ফেরত এনে ফাঁসি কার্যকর করার। সম্প্রতি বেশকিছু আইনের ফাক – ফোকর জন সমুক্ষে আসছে যা হাসিনার এই ফাঁসির রায়কে কার্যকর করার আশাকে নিরাশায় রূপান্তরিত করছে। বর্তমানে শেখ হাসিনার পক্ষের আইনজীবীরা এমনকিছু আইনি যুক্তি তুলে ধরছে যা প্রসিকিউটর টিমের এতদিনের গড়ে তোলা আইনি কৌশল গুলিকে বিপাকে ফেলে দিচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, আইনের এই সকল বেড়াজালকে ছিড়ে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কি শেষ পর্যন্ত বাতিল হবে ? এই প্রশ্নেই উত্তাল গোটা বাংলাদেশ। এই প্রশ্নের উত্তরেই লুকিয়ে আছে বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার ও চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের কর্মজীবনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা। শেখ হাসিনার বিচারের প্রক্রিয়া পুননিধারিত ভাবেই এগোচ্ছিল কিন্তু হটাৎই এমন কিছু আইনি ধারা, যুক্তি ও ব্যাখ্যা সামনে আসছে যা পুরো মামলাই পাল্টে দিতে পারে। আইনজীবীরা বলছেন, মামলার ভিত্তি যে স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল তাতে ধরা পড়তে চলেছে গভীর ফাটলের। এগুলো যদি আদালতে প্রমান হয় তাহলে প্রসিকিউটরের সাজানো কৌশল এক নিমিষেই ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। এহেন পরিস্থিতি বিচার – ব্যবস্থার জন্য বড় ধাক্কা। যা পুরো মামলাকে এক নতুন মোড়ে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করাবে।
এদিকে জনগণের উত্তেজনা আরও বাড়ছে হাসিনার রায় ও মামলা গুলি নিয়ে। রায় কার্যকরের স্বপক্ষে থাকা মানুষের রোজ নতুন তথ্য খুঁজে বার করছে। অন্যদিকে জটিল ট্রাইবুনালের অভ্যন্তরের অবস্থা। বিচারপতি মর্তুজা ও চিফ প্রসিকিউটরের সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক বড় চ্যালেঞ্জ। এতদিন প্রসিকিউশন দাবি করেছিল ছাত্র – জনতা আন্দোলনে পুলিশ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল কিন্তু আদালতে সকল ব্যাখ্যা প্রতিস্থাপনের পর তা নতুন মোর নিয়েছে। ছাত্র – জনতা আন্দোলনে পুলিশের গুলি চালিয়ে হত্যার কথা ঘিরে যে অভিযোগ মামলার প্রধান কারণ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে তা এখন প্রশ্নের মুখে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাই সেদিকেই নজর রাখছে গোটা দেশ। ১৫৩ নম্বর বিধান এখন বাংলাদেশের রানৈতিক ও আইনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। এই বিধানে উল্লেখ করা হয়েছে, নিদিষ্ট ৩ টি পরিস্থিতিতে পুলিশ কোনও উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা না নিয়েই গুলি চালাতে আইনগত ভাবে সক্ষম। নিদিষ্ট এই ৩ টি পরিস্থিতি হল যথা – প্রথমত, আত্মরক্ষা ও নিরাপত্তা, দ্বিতীয়ত, গণ অস্থিরতা, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ, তৃতীয়ত, যদি কোনও দাগি ও মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি আইনি হেফাজত থেকে পালিয়ে যায় তাকে যদি থামানোর কোনও উপায় না থাকে তাহলে পুলিশ গুলি চালাতে পারে। এই ৩ টিই এখন আদালতের মূল ঢাল। ফলে এই ৩ টি ভিত্তিই অভিযোগ ও সকল প্রকল্পনা এবং ট্রাইবুনালের রায়কে নাড়িয়ে দিচ্ছে। এটিই হাসিনার রায় ও গণ হত্যার অভিযোগকে প্রশ্ন বিদ্ধ করার জন্য যথেষ্ট।












Discussion about this post