বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন। এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা দুনিয়া। এই বারের ভোটের সব থেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় আওয়ামী লীগের না থাকা। অনেকেই মনে করছেন, আগামীদিনে বাংলাদেশে শুরু হতে চলেছে তারেক যুগ। তবে আওয়ামী লীগ নেত্রী তথা দলের সভাপতি নেতা-কর্মীদের ভোটের দিন একটি টাস্ক দিয়েছে। তাদের টাস্ক হবে ভোটের দিন বুথ বয়কট করা। আওয়ামী লীগ মনে করছে, ওই দিন দলের নেতা-কর্মী বুথমুখো না হলে ভোটের বৈধতা প্রশ্নের মুখে পড়ে যাবে। বাংলাদেশের প্রথম সারির রাজনৈতিক দলগুলি এখন থেকে নানা অংক কষতে শুরু করেছে। কী হলে কী হবে, এটাই এখন তাদের আলাপের বিষয়। সব থেকে বড়ো প্রশ্ন সেনাবাহিনীর ভূমিকা কী হবে? তারা বিশেষ। একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ নেবে? না কি ভোট যাতে অবাধ হয়, মানুষ যাতে নির্ভয়ে তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে?
এই অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। নিউজ বর্তমান সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে সেনাবাহিনীর এক সদস্য তাঁর মায়ের সঙ্গে কথা বলছেন। মা ছেলের কী কথোপকথন হয়েছে সেটা এখানে তুলে ধরা হল। ছেলে সেনাবাহিনীতে কর্মরত।
মা – হ্যালো সোহেল। কেমন আছোস বাবা ?
ছেলে সোহেল – ভালো আছি মা। তোমরা ভালো? বাবা কেমন আছে?
মা –ভালো আছি। আমরা সবাই ভালো। তুই আসবি কবে বাবা? এবার তো অনেকদিন হল।
সোহেল- মা, এবার আসা একটু ঝামেলা। সবাই ব্যস্ত থাকবে। নির্বাচন ডিউটি চলতেছে। আচ্চা মা, তুমি ভোট দিতে যাবে তো?
মা – আমরা দুই বুড়াবুড়ি এই ভিড়ভাট্টার মধ্যে যাইয়া কী করব?
সোহেল – কী বলতেছো মা এগুলো? আমি সারাদিন কষ্ট করে যাচ্ছি। আমাদের পুরো সেনাবাহিনী দিনরাত কাজ করতেছে। যেন ভালো একটা নির্বাচন হয়। যেন সবাই ভোট দিতে পারে। তোমরা আমার বাবা-মা হয়ে ভোট দেবে না। এটা হবে না। অবশ্যই যাবে তোমরা। কোনও সমস্যা হবে না।
মা – আচ্ছা বাবা যাব। ভোট শেষ করে তাড়াতাড়ি বাড়িতে আয় বাবা।
সোহেল – ঠিক আছে মা। রাখি তাহলে।
ভিডিও শেষে একটি ক্যাপশন – আপনার দেশে আপনার অপেক্ষায়।
এই ভিডিও সেনাবাহিনীর তরফ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল মনে করছে, বাহিনীকে নিয়ে জনমানসে যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল, সেই ধারণা ভাঙতেই ভোটের আগে বাহিনীর তরফে এই ধরনের প্রচার করা হচ্ছে। দেশবাসীকে বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে বাহিনী বিশেষ কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষে নয়। সেনাবাহিনী প্রথম থেকেই দেশের পক্ষে ছিল, দেশের পক্ষেই থাকবে। আসন্ন ভোটে যাতে দেশের মানুষ নির্ভয়ে তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তার জন্য তারা এই ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছে।
বলা হচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাসে সেনাবাহিনী মানুষের মনে আস্থা জোগাতে এই ভাবে কখনও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেনি। মনে করা হচ্ছে, সেনাবাহিনী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করে ব্যারাকে ফিরে যেতে চাইছে। অপর দিকে কূটনৈতিকস্তরেও বাংলাদেশের ভোট নিয়ে তৈরি হয়েছে সক্রিয়তা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক প্রতিনিধিদল পাঠাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post