বাংলাদেশে নির্বাচন শেষ হয়েছে। জয়ী হয়েছে বিএনপি। তারেক রহমান হলেন বাংলাদেশের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী। এরপর প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক হবে বাংলাদেশের? এর দিকেই তাকিয়ে রয়েছে অনেকে। তবে বাংলাদেশে নির্বাচন শেষে সবথেকে বড় বিষয় হয়ে উঠেছেন শেখ হাসিনা। পাশাপাশি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। কারণ শেখ হাসিনার সরকারের পতনের দেড় বছর পরও অনেকে সেনাপ্রধানকে নিয়ে চর্চা করতে ছাড়ছেন না। তার কারণ, অনেকেই বলে থাকে, হাসিনাকে দেশ ছাড়া করার পিছনে ওয়াকারের ভূমিকা রয়েছে। অনেকে আবার বলেন, দেশ ছাড়া করার পরিকল্পনা ছিল না ওয়াকারের। শেখ হাসিনাকে প্রাণে মেরে ফেলার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আদতে কোনটা সত্যি?
২০২৪ সালের ৫ই অগাষ্ট, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন তিনি। কিন্তু ভারতে থেকেও দলীয় নেতা, কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন শেখ হাসিনা। একাধিক অডিও বার্তা দিয়েছেন। যার মাধ্যমে তাঁর দলকে সতেজ রেখেছেন হাসিনা। এরমধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অডিও বার্তা। যেটা শেখ হাসিনা একইরকমভাবে তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের দিয়েছেন। পাশাপাশি দেশবাসীর জন্যও সেই বার্তা রয়েছে। যেটা ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। যে অডিও ক্লিপ ২০২৫ এর ১৮ই জুলাইয়ের। এনসিপির মার্চ টু গোপালগঞ্জ নিয়ে কথা বলতে শোনা যায় শেখ হাসিনাকে। এই ঘটনায় সেনার গুলিতে ৫ জনের মৃত্যু হয়। এমনকি এই ঘটনার পর ৬ হাজার মামলা দেওয়া হয় গোপালগঞ্জবাসীকে। সেই ঘটনার পর গ্রেফতারও করা হয় অনেককেই। আর এই অডিও বার্তাতে শেখ হাসিনা বলছেন, গোপালগঞ্জের ঘটনা নিয়ে তাঁর কাছে জবাবদিহি করেছেন ওয়াকার। তাহলে কি ওয়াকার এখনও পর্যন্ত শেখ হাসিনার সঙ্গে আগের যেমন বিশ্বস্ত সম্পর্ক ছিল, সেই সম্পর্ক তিনি ধরে রেখেছেন? নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে? সেদিন গোপালগঞ্জে ঠিক কি হয়েছিল? জানা যায়, এনসিপি নেতারা গোপালগঞ্জে একটি কর্মসূচি করে। কিন্তু গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষ এবং আওয়ামী লীগ সমর্থকরা সেটা মানতে পারেনি। তাঁদের উপর আক্রমণ হলে প্রতিহত করে গোপালগঞ্জের মানুষ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এনসিপি নেতাদের বাঁচাতে সেনা আসরে নামে। সাধারণ মানুষের উপর গুলি চালায় সেনা। সেইসময় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এমনকি অগ্নি সংযোগের মতো ঘটনাও ঘটে। শেখ হাসিনার যে অডিও বার্তাটি ভাইরাল হয়েছে, তার ভিত্তিতে বোঝা যাচ্ছে, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও শেখ হাসিনার সঙ্গে সেনাপ্রধানের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। অন্তত ২০২৫ এর জুলাই পর্যন্ত। তাহলে প্রশ্ন, এখনও কি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে ওয়াকারের? এখনও কি ওয়াকার উজ জামান নিয়মিত জবাবদিহি করছেন শেখ হাসিনাকে? বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কি শেখ হাসিনা জবাবদিহি চাইছেন সেনাপ্রধানের থেকে? ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে ফের ক্ষমতা বদল হল। নতুন সরকারে বিএনপি। তারেক রহমান হলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। এই সমস্ত ঘটনা কি শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছে দিয়েছেন ওয়াকার?
ওই অডিওতে শেখ হাসিনা বলছেন, তিনি ওয়াকারকে প্রশ্ন করেছিলেন কেন গোপালগঞ্জের ঘটনা ঘটল? কার কি উদ্দেশ্য? তখন নাকি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান কোনও উত্তর দেননি। তিনি নাকি তখন বলেছিলেন, তার উপর চাপ ছিল। কিন্তু প্রশ্ন, তিনি তো সেনাপ্রধান। তাঁকে চাপ কে দেবে? এই প্রশ্নটা উঠছে। ২০২৪ সালের ৫ই অগাষ্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর জেনারেল ওয়াকার শেখ হাসিনাকে তড়িঘড়ি ফোন করেছিলেন। ফোন করে বলেছিলেন, আমার উপর একটু ভরসা করতে পারলেন না? অর্থাৎ ওয়াকারের উপর ভরসা করতে পারেননি শেখ হাসিনা। হাসিনা দেশ ছাড়তে অবাক হয়েছিলেন ওয়াকার। কারণ তাঁর নাকি পরিকল্পনা ছিল হাসিনা দেশে রাখতে। কারণ একটি গোষ্ঠী চেয়েছিল শেখ হাসিনাকে প্রাণে মেরে ফেলতে। যেখানে সাহাষ্য করতে চেয়েছিলেন সেনাপ্রধান। যদিও অনেকে বলছেন, বিষয়টা পুরো উল্টো। বরং ওয়াকারই বায়ু সেনার বিমান করে শেখ হাসিনাকে ভারতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। তবে জানা যাচ্ছে, সেদিন নাকি ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ফোন করেছিলেন শেখ হাসিনাকে। এরপরই হাসিনা দেশে ছাড়ার পরিকল্পনা নেন। এমনকি ২০ মিনিয়ের মধ্যে হাসিনা দেশ গণভবন ছাড়েন। এদিকে সেনাপ্রধান রাস্তা থেকে সেনাবাহিনী তুলে নেন। উন্মুক্ত জনতাকে গণভবনে প্রবেশ করতে দেন। যার ফলে গণভবনে লুটপাট চলে। চলে ভাঙচুর। ফলে ৫ই অগাষ্ট ঠিক কি ঘটেছিল, সেই নিয়ে নানারকম তত্ত্ব রয়েছে। অন্যদিকে এটাও জানা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত শেখ হাসিনা সেনাপ্রধানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। তবে কি কিছু আড়াল রাখার জন্যই সেনাপ্রধান বাধ্য হয়ে যোগাযোগ রাখতেন? এমন নানা প্রশ্ন উঠছে। তবে এটা পরিস্কার, যে হাসিনা বাংলাদেশের পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। এখন দেখার, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর শেখ হাসিনার অবস্থান বদলায় কিনা!












Discussion about this post