শপথ গ্রহণ করলেন বাংলাদেশের নব নিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরমধ্যে একটি বিষয় উঠে এসেছে। তারেক রহমান ভারত সফরে কবে যাচ্ছেন? তারেক রহমান-নরেন্দ্র মোদি বৈঠক কবে হচ্ছে? এর কারণ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রী। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর একান্ত সাক্ষাতকারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লেখা আরও এক দফা চিঠি হস্তান্তর হয় ভারতীয় প্রতিনিধির মাধ্যমে। যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানান ভারত সফরে, তখন প্রশ্নটা উঠছে, যে কবে সফরে যাবেন তারেক? প্রথম সফর কি তাঁর ভারত হবে? এর আগেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী, তারেক রহমানকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিতে। তখন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। তাঁর হাত দিয়েই নরেন্দ্র মোদির চিঠি পাঠিয়েছিলেন তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ফের আরও একটি চিঠি এল আমন্ত্রণের। ফলে প্রশ্নটা উঠছে, কবে ভারত সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান? তবে কি খুব দ্রুত শেখ হাসিনা ফিরতে চলেছেন? কারণ মনে করা হচ্ছে, বিএনপির তরফে আবেদন করা হবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পনের। আর যদি তারেক ভারতে যান, তাহলে হাসিনার উপস্থিতিতেই দিল্লি তাঁর দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে পারে। কারণ এর আগেও শেখ হাসিনার জীবনে এমন ঘটনা ঘটেছে।
তারেক রহমান যে খুব তাড়াতাড়ি ভারতে যাচ্ছেন, সেটা মোটামুটি পরিষ্কার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মোদি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নব নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের জন্য ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আমন্ত্রণে তারেক রহমানের স্ত্রী ডঃ জুবাইদি রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানের কথাও উল্লেখ রয়েছে। এই চিঠিতে মোদি লেখেন, ভারতে আপনাকে আন্তরিক স্বাগত জানাতে আমরা প্রস্তুত। তিনি সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয় এবং তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী লেখেন, আপনি যখন গুরুত্বপুর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করছেন, তখন আপনার সাফল্য কামনা করি। এই বিজয় বাংলাদেশের জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধির পথে দেশকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য এটা বহিঃপ্রকাশ। দুই ঘনিষ্ট প্রতিবেশী হিসাবে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক, ইতিহাস, সাংস্কৃতিক বন্ধন ও শান্তি সমৃদ্ধির ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। এমনকি তিনি, দুই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রাধিকারের কথাও উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী নতুন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা, জ্বালানি, স্বাস্থ্য সেবা এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য প্রস্তুতি ব্যক্ত করেন। তিনি লেখেন, একে অপরের টেকসই উন্নয়নের অনুঘটক হতে পারে। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বারবার ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কোনও সময় দেননি নরেন্দ্র মোদি। তবে একটি সাইডলাইনে বৈঠক হয়েছে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে মুহাম্মদ ইউনূসের। অন্যদিকে মুহাম্মদ ইউনূসের তরফে অনুরোধ করা হয়েছিল, যেন শেখ হাসিনা কোনও কথা না বলেন বাংলাদেশ প্রসঙ্গে। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী সেটা মানেননি। অর্থাৎ মুহাম্মদ ইউনূসকে কোনওভাবেই মান্যতা দেয়নি ভারত।
এর আগে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর, পট পরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্রপতি হিসাবে দেশ শাসনের ভার হাতে নেন, তখন শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা ভারতে আশ্রয় থাকার সময়ে জিয়াউর রহমান ভারত সফর করেছিলেন। দেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে হাসিনার দেশে ফেরার সম্পর্কে আলোচনা হয়েছিল। যদিও সেগুলি তখন প্রকাশিত হয়নি। তারপরই জিয়াউর রহমানের আমলে শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা বাংলাদেশে পা রাখেন। সালটা ছিল ১৯৮১। যখন জিয়াউর রহমান শাসন ক্ষমতায় ছিলেন। এবার তাঁর পুত্র তারেক রহমান শাসন ক্ষমতায়। এবারও শেখ হাসিনা দেশের বাইরে, এমনকি ভারতেই অবস্থান করছেন। কেউ কেউ বলছেন, ইতিহাস ফিরে আসে। আর শেখ হাসিনার জীবনে সেটা জ্বলন্ত উদাহরণ। অনেকে বলছেন, তারেক রহমান ভারত সফর করার পর শেখ হাসিনা যদি বাংলাদেশে ফেরেন, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। সেটা দুটি ভিত্তিতে হতে পারে। একটি হল, শেখ হাসিনাকে তারেক রহমান ফেরত চাইলেন বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর জন্য। আর একটি হল, একটা সমঝোতা হতে পারে যে আওয়ামী লীগ যেন রাজনীতি করতে পারে। এবং শেখ হাসিনাকে প্রতিহিংসার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে যে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল, সেটা নতুন করে ফের আপিল করে বিচারকার্য শেষ করে অব্যাহতি দিয়ে নতুন করে রাজনীতিতে প্রবেশ করতে দেওয়া। তবে এতোটুকু নিশ্চিত, যে তারেক রহমান আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। এটাও পরিষ্কার, মুহাম্মদ ইউনূসের যে অবৈধ আইনের প্রয়োগ, তার মধ্যে তারেক রহমান থাকবেন না। মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, দেশের শাসনভার হাতে নিয়ে তারেক রহমান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কতটা সুনিশ্চিত করতে পারেন।












Discussion about this post