মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মিলিয়ে ৪৯ জনকে নিয়ে তারেক রহমান তাঁর মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। বাদ পড়েছেন সেখানে বাদ পড়েছেন বিএনপির অভিজ্ঞ নেতাদের কয়েক জন। গত কয়েক দিন ধরে যাদের নাম আলোচনায় থাকলেও মন্ত্রিসভা থেকে তারা বাদ পড়েন। তাদের মধ্যে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পরিষদ স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আছেন। রয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টামণ্ডলীর নেতাও। মন্ত্রিপরিষদের তালিকায় নাম না থাকলেও সন্ধ্যায় মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, রুহুল কবির রিজভীসহ পাঁচ জনকে মন্ত্রী পদমর্যাদায়, পাঁচ জনকে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যক্তি বলেছেন, ‘বাদ পড়া সিনিয়রদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো পরবর্তী সময় কোনো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় থাকবেন’। তবে তারেক রহমানের এই নতুন মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের চমক দেখা গেছে। বিশেষ করে দলের স্থায়ী কমিটির বেশ কয়েক জন জ্যেষ্ঠ নেতা ও রাজপথের পরিচিত মুখকে এই তালিকায় দেখা যায়নি। মন্ত্রিসভায় ডাক না পাওয়া শীর্ষ নেতাদের মধ্যে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, জমির উদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও সেলিমা রহমান। যদিও এদের মধ্যে জমির উদ্দিন সরকার শারীরিকভাবে অসুস্থ। এছাড়া সিনিয়র নেতা আমানউল্লাহ আমান নেই মন্ত্রিপরিষদে। এছাড়া সিনিয়র নেতাদের মধ্যে শামসুজ্জামান দুদু, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আসাদুজ্জামান রিপন দলের মনোনয়ই পাননি। আলোচনা ছিল টেকনোক্র্যাট কোটায় তাদের কেউ মন্ত্রিসভায় নেতা হতে পারেন। কিন্তু তেমনটি দেখা যায়নি।
সাবেক মন্ত্রীদের মধ্যে মীর নাছির, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, লুত্ফুজ্জামান বাবরের নাম আলোচনায় থাকলেও তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় তারা নেই। বিএনপির নেতাদের মধ্যে টেকনোক্র্যাট হিসেবে যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেলের নাম আলোচনায় থাকলেও, তার ঠাঁই হয়নি। নতুন মন্ত্রিসভায় গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, এনডিএমের ববি হাজ্জাজ দায়িত্ব পেয়েছেন। তবে বিএনপির সঙ্গে যুগপত্ আন্দোলনে শরিক হওয়াদের মধ্যে বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, ভাসানী জনশক্তি পার্টির শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বা ধর্মভিত্তিক দলগুলোর কোনো নেতার জায়গা হয়নি মন্ত্রিসভায়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাবলে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ জনকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মন্ত্রী পদমর্যাদায় মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) শামসুল ইসলাম, জাহেদ উর রহমান, মাহাদি আমিন ও রেহান আসিফ আসাদকে।
বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছিল, নতুন মন্ত্রিসভা আকারে খুব ছোটে হবে। প্রবীণ ও নবীনদের নিয়ে তৈরি হেব ক্যাবিনেট। মন্ত্রিসভায় কাদের রাখা হবে, সে বিষয়ে দলের কোনও নেতা মুখ খুলতে রাজি হননি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ১৯ বছর পর ক্ষমতায় আসা বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভার রূপ কেমন হবে, তা নিয়ে সব মহলের দৃষ্টি রয়েছে। কারণ, বিএনপির প্রধান তারেক রহমান ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয়ের পর বিএনপির চেয়ারম্যান জাতীয় ঐক্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার রাজনীতি বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।












Discussion about this post