বাংলাদেশে নির্বাচন কবে হবে, এটাই এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আর আগামী এপ্রিল বা জুনের মধ্যে নির্বাচন করাতে চান। তারপর একদিনও ক্ষমতায় থাকতে চান না তিনি। কিন্তু বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চান। সেটা তার বক্তব্যের শ্রেষ্ঠ করেছেন। এমনকি সেনানিবাসে সেবা কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকেও এটি উল্লেখ করেছেন। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, মোহাম্মদ ইউনুসের দেওয়া নির্বাচনের সময় কি আদেও মানবেন সেনা প্রধান? ইতিমধ্যেই দেশের সেনা ৯০ দিনের বেশি সময় দিতে নারাজ। এর মধ্যেই এমন কিছু তদারকি সরকারকে করতে হবে, যাতে অন্তত বোঝা যায় নির্বাচন মনুষ সচেষ্ট এই সরকার। এর জন্য সেনাবাহিনী যা যা করার তাই করবে। এই বিষয়ে উঠে আসছে বেশ কিছু ইঙ্গিত। যেগুলি মুহাম্মদ ইউনূসের বিপক্ষে যেতে পারে। সেনাপ্রধান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বলে ইমার্জেন্সী পাওয়ারের কথা ঘোষণা করতে পারেন। বলা হতেই পারে, এখনও পর্যন্ত তদারকি সরকার এমন কিছু করেনি, যেটা থেকে বোঝা যায় নির্বাচন নিয়ে সচেষ্ট তারা। তাই সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলিকে ডেকে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা উঠতে পারে। অর্থাৎ সেনাপ্রধানের ৯০ দিনের সময়সীমা গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত ইউনূসের, বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মোহম্মদ ইউনূসের শুধু তারিখ পে তারিখ। প্রথমে ক্ষমতা হাতে নিয়েই তিনি বলেছিলেন, যে কোনও মুহূর্তে নির্বাচনের জন্য তিনি প্রস্তুত। এখন সেটা বাড়তে বাড়তে ১০ মাসে থেকেছে। কিন্তু নির্বাচনের কথা উঠলেই সংস্কারের কথা বলছেন প্রধান উপদেষ্টা। শুধু তাই নয়, ছাত্রনেতাদের বক্তব্যকেই প্রাধান্য দিচ্ছে ইউনুস। আর সেটাই ভালো চোখে দেখছেন না সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। বলছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এমনকি এই সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ রাজনৈতিক দলগুলিও। ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের কথা বললেও মোহাম্মদ ইউনুস উপদেষ্টা মন্ডলীর বৈঠকে এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলেছেন। এরপর একদিনও তিনি নাকি ক্ষমতায় থাকতে চান না। এদিকে সেনাপ্রধানের বক্তব্যে চাপে পড়ে পদত্যাগের ইচ্ছায় প্রকাশ করেন মহম্মদ ইউনূস। কিন্তু শেষমেষ জানিয়ে দেওয়া হয় তিনি পদত্যাগ করছেন না। অনেকে এটি নাটক বলে উল্লেখ করছেন। তবে সেনাপ্রধান নরমপন্থী বলে পরিচিত হলেও দেশের স্বার্থে যে কোনও মুহূর্তে চরমপন্থী হতে বেশি সময় নেবেন না। তার ৯০ দিনের সময়সীমা সেই জায়গা থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় সীমার মধ্যেই যদি তদারকি সরকার নির্বাচনের সচেষ্ট ভূমিকা না দেখান, তবে এই সরকারের জন্য বিপদ ঘনিয়ে আসবে, সেটা বলাই বাহুল্য। অন্যদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সংগঠন গুলি কে তার পাশে চাইছেন। শনিবার তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। এখন দেখার, শেষমেশ কি পরিস্থিতি তৈরি হয়।












Discussion about this post