বাংলাদেশে নির্বাচনের তফশীল ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এরপর যা ঘটল, তাতে নির্বাচন কি আদেও হবে বাংলাদেশে? এই প্রশ্নটাই উঠছে। ইনক্লাব মঞ্চের আহ্বায়ক তথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে শুক্রবার জুম্মার নামাজের পরে গুলি করা হয়। কেউ কেউ বলছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে একটি গোষ্ঠী চাইছে, নির্বাচন না হোক দেশে। নির্বাচন যদি না হয়, তবে কাদের লাভ? সেই নিয়ে তো রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা অনেক আগেই বলার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এরমধ্যে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান বলছেন, এই কঠিন পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কথা। সেই কঠিন চ্যালেঞ্জটা আসলে কি? সামনে আর কি কি কঠিন চ্যালেঞ্জ আছে? আগামী নির্বাচনটা হওয়া কি বড় চ্যালেঞ্জ? যেটা তিনি তার অধস্তন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বললেন? তাদের প্রস্তুত থাকার কথা বলছেন?
চট্টগ্রাম সেনানিবাসে দি ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারে ওয়েস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ৩৮ তম বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলন ২০২৫-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার। আর সেখানেই তিনি বেশ কয়েকটি বক্তব্য রাখেন। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান বলেন, নিষ্ঠা, একাগ্রতা এবং পেশাদারীর সঙ্গে আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সক্ষমতা অর্জন করে একবিংশ শতাব্দীর কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। জানা যায়, আন্তঃ বাহিনীর জনসংযোগ পরিদফতর জানিয়েছে, ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে সেনাবাহিনীর প্রধান এই রেজিমেন্টের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, গবেষণা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা-সহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
সেনাপ্রধানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বক্তব্য নিয়ে অনেকেই কাটাছেঁড়া করতে বসেছেন। আসলে কোন দিকে ইঙ্গিত করতে চাইলেন সেনাপ্রধান? নির্বাচন প্রসঙ্গে? নাকি দেশের এমন একটা সংকট আসতে চলেছে বলে তিনি অনুমান করছেন, তার উদ্দেশ্যে বলার চেষ্টা করলেন?
এরমধ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু রয়টার্সকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন। যদিও সেই মন্তব্য ইতিবাচক। তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ আছে বলে জানান রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি বলেছেন, সেনাপ্রধান গণতন্ত্রে ফিরে যেতে চান। কোনওভাবেই সামরিক শাসন চান না। কিংবা ক্ষমতা দখল করতে চান না। সেনাপ্রধান নিজেও বারবার এই কথা বলেছেন। এই কথা বলে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন। একজন সেনাকর্তা হিসাবে যখন নির্বাচন করার কথা বলছেন, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে কেন সরকার নির্বাচন চাইছে না, তা নিয়ে অনেক কথায় আলোচনা হয়েছে বাংলাদেশে। এমনটি এটা বলার চেষ্টাও হয়েছিল, যখন সেনাবাহিনী মেজিট্রেসি পাওয়ার নিয়ে দেশের রাস্তায় রয়েছে, তখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেন এমন? তবে নির্দিষ্টভাবে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার নিজের ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছেন বিভিন্ন সময়। যেমন সেনাবাহিনীকে নিয়ে রাজনৈতিক দলের নেতারা নানা মন্তব্য করেছেন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে সেনাপ্রধান এবং সেনাবাহিনী তেমন কোনও পদক্ষেপ করেনি। বরং সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। যেটা নিয়েও প্রবলভাবে প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু এখন যখন বাংলাদেশের রাস্তায় প্রকাশ্যে গুলির ঘটনা ঘটে, তখন সেই দায় তো সেনাবাহিনীকে নিতে হবে। জানা যায়, ইনক্লাব মঞ্চের আহ্বায়ক তথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে শুক্রবার জুম্মার নামাজের পরে গুলি করা হয়। তাঁর মাথায় গুলি লাগে। গুরুতর অবস্থায় হাদিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার পর তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এই একটি ইস্যুই নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। যদি নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে ১২ তারিখের পর ১৭ তারিখ থেকে রমজান শুরু। সুতরায়, ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিলে নির্বাচন সম্ভব নয়। এরপর জুনের দিকে বর্ষার মরসুম। অর্থাৎ ২০২৬ এর বছরের শেষের দিকে পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে সেই দিকেই ইঙ্গত করলেন কিনা সেনাপ্রধান তা নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে দেশের পরিস্থিতি যখন সেনাবাহিনী দেখছে, তখন তারা কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে, সেটাই দেখার।












Discussion about this post