বাংলাদেশের সেনাবাহীনিকে সাধারণ পুলিশের মত করে ব্যবহার করছে ইউনূস সরকার তথা এনসিপি। তারা হয়তো ভাবছে যতদিন এই সরকার থাকবে ততদিনই এনসিপিকে সুরক্ষা দেবে সেনা। আর তারা হয়তো এও ভাবছে তারা অনাদি কাল পর্যন্ত ইউনূসকে ক্ষমতায় রাখতে পারবে। তাই তারা এখন বলছে ফেব্রুয়ারীতে ভোট হবে না। বা তারা ভোট হতে দেবে না। ফেব্রুয়ারীতে ভোট হলে যাদের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা প্রবল, সেই বিএনপি কি এই খবরদারি মেনে নেবে। বিএনপি বলছে, ফেব্রুয়ারীতে ভোট হোক বা না হোক, ফেব্রুয়ারীর পরে রাস্তায় সেনাও থাকবে না আর এই সরকারও থাকবে না। ফলে আগামী দিনে সেনা কি সিদ্ধান্ত নেয় সেটিই দেখার। তারা কি তাদের গরিমা নস্ট করে সাধারণ পুলিশ মত রাস্তায় থাকবে, নাকি যাদের হাতে দেশের সুরক্ষার ভার, সেই দায়িত্ব পালনের জন্য সেনা ক্যান্টনমেন্টে ফিরে যাবে। যদিও সেনাই শেষ কথা বলবে।তারা ইউনূসের কথা মেনে রাস্তায় এনসিপিকে পাহারা দেবে কিনা। নাকি তারা ইউনূসকে বাধ্য করবে ফেব্রুয়ারীতে ভোট করাতে। যদিও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তবর্তীকালীন সরকারের ওপর সেনাবাহিনীর প্রভাবই থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা৷ এই প্রভাব কতটা হবে তা নির্ভর করছে ইউনূস ও তার উপদেষ্টা পরিষদের সক্ষমতার ওপর৷বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই সরকারের মেয়াদ তিন মাসের অনেক বেশি হবে, কারণ অনেক সংস্কার কাজ করতে হবে,এই অজুহাত তারা তুলে ধরবে।
শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে ‘দায়িত্ব নেয়ার’ কথা বলেছেন৷ তারপর থেকে রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর সহায়তায় দেশ, সরকার চলছে৷
এরইমধ্যে পুলিশ প্রধানসহ প্রশাসন ও বিচারবিভাগের গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে, ভেঙে দেয়া হয়েছে জাতীয় সংসদ৷
পুলিশ সদস্যরা কর্মবিরতি পালন করায় সেনাসদস্য এবং শিক্ষার্থীরা দৃশ্যমান কিছু দায়িত্ব পালন করছেন৷
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যতদিন থাকবে তাদের সেনা সমর্থনেই কাজ করতে হবে বলে মনে করেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা৷ নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘‘এই সরকারের মূল ভিত্তি কী তা আমাদের বুঝতে হবে৷ বিএনপিতো দ্রুত নির্বাচন চায়৷ এখন এই সরকার ছয়মাস বা এক বছরের বেশি যদি থাকে তাহলে কি রাজনৈতিক দলগুলো তা মেনে নেবে? তারা তো দ্রুত নির্বাচন চায়৷ আর এই শিক্ষার্থীরা কত দিন মাঠে থাকবে? তারা কি পড়াশুনা বাদ দিয়ে এই কাজই করবে? তাহলে এটা পরিষ্কার যে সেনাবাহিনীর সমর্থনেই নতুন সরকারকে এগিয়ে যেতে হবে৷ আর সেনাপ্রধান যেহেতু দায়িত্ব নিয়েছেন বলেছেন, তাই তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে৷”
‘‘এটাকে প্রভাব বলেন আর যাই বলেন এটা থাকবে৷ তবে কতটা প্রভাব থাকবে তা নির্ভর করবে সরকারের কাঠামো ও সক্ষমতার ওপর৷ এই সরকার যত বেশি সময় নেবে তত বেশি সেনাবাহিনীর সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করতে হবে৷”
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর ফারুক বলেন, ‘‘এই সরকার তো তিন মাসের জন্য না৷ এই সরকারের অনেক কাজ আছে৷ নানা জায়গায় দলীয়করণ হয়েছে, তা দূর করতে হবে৷ বিচার বিভাগ সংস্কার করতে হবে৷ দুর্নীতির বিচার করতে হবে৷ অনেক ছাত্র-সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে৷ তার বিচার করতে হবে৷ এটা তো এখন আর কোটা সংস্কারে সীমাবদ্ধ নাই৷ এখন তো এই সরকারকে ছাত্র-জনতার দাবি অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কার করতে হবে৷ ফলে এটা কোনোভাবেই তিন মাসের সরকার নয়৷”
তার কথা, ‘‘এটা কোনো সেনা শাসন নয়, এটা কোনো জরুরি অবস্থা নয়৷ তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সেনাবাহিনীর সহায়তা করতে হবে৷ পুলিশের সহায়তা লাগবে৷ তাদের ইমেজ পুনরুদ্ধারের জন্যই তারা সহায়তা করবে৷” যার অর্থ হল গোপালগঞ্জের মত সাধারণ মানুষকে মেরে এনসিপিকে রক্ষা করা। তিনি আরও বলেন ‘‘এটা ক্যু নয়, এটা মার্শাল ল নয়, এটা জরুরি অবস্থা নয়৷ সেনবাহিনী এখানে সহায়তা করছে৷ এটা একটা ট্রানজিশন৷ তাই সবখানে সেনাবাহিনী থাকলে আস্থা বাড়ে৷ এখন দেশের যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তাতে সেনাবাহিনীর আরো বড় ভূমিকা নিতে হবে,” মনে করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. শহীদুল হক৷
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, ‘‘আমরা যতই গণঅভ্যুত্থান, গণআন্দোলন বলি না কেন এই সরকারের পিছনে সেনাবাহিনী প্রচ্ছন্নভাবে আছে৷ শুরুতেই সেনাবাহিনী এখানে হস্তক্ষেপ করেছে৷ তারা যদি আওয়ামী লীগ সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার না করত তাহলে আওয়ামী লীগ সরকার এখনো থাকতো৷ যেহেতু সেনাবাহিনী এই কাজটি করেছে তাই তারা মনে করে তাদের একটা লেজিটেমিসি এবং অথরিটি ডেভেলপ করেছে৷ তাই তারা মনে করে নতুন সরকারের ওপর তাদের প্রভাব থাকবে৷ হয়তা মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের মতো হবে না৷ তবে তাদের একটি প্রচ্ছন্ন ছায়া এই সরকারের ওপর থাকবে৷”
‘‘সরকারের কম্পোজিশন কেমন হবে তার ওপর নির্ভর করছে সেনাবাহিনীর প্রভাব কতটা থাকবে৷ যদি এই সরকারে সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তারা বেশি থাকেন তাহলে তার একটা প্রভাব পড়বে৷ সরকার যত বেশি সময় নেবে তাদের ওপর সামরিক বাহিনীর প্রভাব তত বাড়বে,” কিন্তু দেখা যাচ্ছে সরকার বিশেষ একটি দলকেই গুরুত্ব দিচ্ছে। সেনাকে তাদের সুরক্ষায় কাজে লাগাচ্ছে। সেনার বলে বলিয়ান হয়ে তারা যেখানে যা খুশি বলছে আর যা খুশি করছে। কিন্তু সেনা কতদিন এই সুরক্ষা দেবে। ভোট না করালে বিএনপির মত দলগুলি কি মেনে নেবে। তারাও তো পথে নামবে, তখন যে বিরোধ সৃষ্টি হবে তা কি সেনা সামলাতে পারবে। এমনিতেই এই ছাত্রনেতাদের কোন জনসমর্থন নেই, যেটুকু জনসমর্থন দেখা যাচ্ছে সেটি সেনার ভয়ে আর টাকার জোরে। ফলে সেনা সরে গেলে কি হবে এই এনসিপি নামক দলটির তা তারাও ভালো করেই বুঝতে পারছে।












Discussion about this post