বেশ কয়েকমাস আগে সেনানিবাসে সেনাপ্রধানের করা মন্তব্যের পর চাউর হয়েছিল, মহম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। নাহিদ ইসলাম এই খবর সামনে নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু শেষমেষ সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে, সিদ্ধান্ত বদল করেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। এইবার এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে ওয়াকিবহাল মহল বলছে, পদত্যাগ করতে চাওয়াটা বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। আগামী দুই এক মাসের মধ্যে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হবে, তাতে ইউনূস নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারবেন না। সেই কারণে তিনি সসম্মানে বিদায় নেবেন। এই রকম একটি ধারণা আলোচনা হতে শুরু করেছে। আদেও এটি গুজব নাকি সত্যিই তিনি পদত্যাগ করবেন? নতুন নায়ক হতে চলেছে বাংলাদেশে?কি বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা? চলুন আলোচনা করা যাক।
কেন মহম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের কথা উঠছে? এই বিষয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে বা যারা ইউনূসকে ক্ষমতায় এনেছিল, তারাই এমন একটি পরিবেশ তৈরি করছে, যাতে নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে না হয়। সেই পরিকল্পনা ইউনূসের বিরুদ্ধে চলে যাবে।
বাংলাদেশে দেখা গেল, জামাতের মিছিল, প্রতিবাদ। যেখানে তাদের দাবি, জুলাই সনদ অনুযায়ী যাতে নির্বাচন হয়। এমনকি বিচার, সংস্কার ছাড়া নির্বাচন করা যাবে না। অর্থাৎ এই শক্তিগুলো প্রত্যেকে চাইছে, ইউনূস ক্ষমতায় আরও কিছুদিন টিকে থাকুক। কারণ তিনি ক্ষমতায় থাকলে অনেকের সুবিধা হবে। কিন্তু এটা চাইছে না বিএনপি। বিএনপি চাইছে, যত দ্রুত নির্বাচন হোক।
এদিকে এনসিপি নেতা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়। পরবর্তীকালে যদিও এনসিপির তরফে বলা হয়েছে, এটা দলীয় অবস্থান নয়। এখানেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এনসিপি, জামাত সহ ইসলামী দলগুলি চাইছে, যাতে কোনওমতে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন না হয়। অথবা পিআর পদ্ধতিতে যাতে নির্বাচন হয়। প্রয়োজনে তারা আন্দোলন যাবে। তারপর তারা ঘোষণা করবে, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না। জামাত এক মুহূর্তে সবথেকে সক্রিয় দল। বিএনপির থেকেও তারা অত্যন্ত সক্রিয়। কারণ বলা হয়, জামাতের যত জন সমর্থক, ততজন কর্মী রয়েছে। ফলে একসঙ্গে তারা নামলে নির্বাচন হবে না।
আর একটি বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করছেন বিশেষজ্ঞরা। মহম্মদ ইউনূস বিশ্ব দরবারে যে সম্মানীয় ব্যক্তি, তাতে এমন জটিলতা তৈরি হলে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হবে। কারণ যারা তাকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল, আজ তারাই তার বিরুদ্ধে যাচ্ছে। যেটা আন্তর্জাতিক স্তরে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই তার পদত্যাগের বিষয়টি দেখতে পারছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post