বাংলাদেশে গোপালগঞ্জের ঘটনায় নিন্দা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। যেভাবে একটি বিক্ষোভ ঠেকাতে, সেনাবাহিনী গুলি চালালো, তাতে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সেনাবাহিনীর গুলিতে সরকারিভাবে ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। পরবর্তীকালে আর একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সেনাবাহিনী গোপালগঞ্জে বুধবার যে গুলি চালিয়েছে, তাতে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ কর্মী বা গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষ বা জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের গায়ে লেগেছে সেটা ভাবার কোনও কারণ নেই। কারণ সেই গুলি চালানো হয়েছে মুক্তি যুদ্ধের ভাবাবেগকে আঘাত হানার জন্য। যে সেনাবাহিনী বা সেনাপ্রধানের উপর দেশের মানুষের এত ভরসা, তাদের তাদের এমন কাজ? তবে কি ইউনূসের কাছে বিক্রি হয়ে গেলেন জেনারেল ওয়াকার? উঠছে প্রশ্ন। অনেকে ক্ষুব্ধ হয়ে বলছেন, নির্লজ্জতার নিদর্শন দেখালেন সেনাপ্রধান।
ডিপ স্টেটের চক্রান্তে মহম্মদ ইউনূস দেশের ক্ষমতায় রয়েছেন বলে অনেকে মনে করেন। সেই কারণেই বাংলাদেশের পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। এমনকি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। এর আগে বিএসএফ এবং বিজেবি একসঙ্গে সীমান্ত পাহারা দিত। অনুপ্রবেশের খবর তেমন লক্ষ্য করা যেত না। সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের ঘটনা লক্ষ্য করা গেলেও সরকার হিন্দুদের উপর অত্যাচার করেছে, এমন খবর উঠে আসেনি। ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক যে তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছে, সেটার পিছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র কাজ করেছে বলে অনুমান। এটা করে থাকলে চীন এবং পাকিস্তান করেছে। তারা মনে করেছিল, ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক ভালো থাকলে, সার্কের মিটিং করা সম্ভব নয়। এমনকি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকলে, বাংলাদেশের বাজার চীন এবং পাকিস্তানের জন্য সুবিধা করতে পারবে না। অর্থাৎ পুরোটাই আন্তর্জাতিক একটা ষড়যন্ত্র। এমনকি গোপালগঞ্জের ঘটনায় সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানোর ঘটনা শুধুমাত্র সেনাবাহিনী বা ইউনুসের মদত নয়, মদত রয়েছে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রও।
বুধবার গোপালগঞ্জের ঘটনায় বিক্ষোভ রুখতে সেনাবাহিনী গুলি চালায়। তাতে সরকারি মতে মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। বেসরকারি মতে মৃত্যু হয়েছে তারও বেশি। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উঠে এসেছে একগুচ্ছ প্রশ্ন। প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ করেই ছাত্রনেতারা গোপালগঞ্জে কেন গেলেন? তবে কি শেখ হাসিনার গড়কে দখল করে সেখানে সভা করে আসবেন, সেই বীরত্ব দেখাতে চেয়েছিলেন? তারা ভাবলেন কি করে, বঙ্গবন্ধুর কবর ভেঙে দেওয়ার কথা বলাতে আওয়ামী লীগ কর্মী বা সাধারণ মানুষ চুপ থাকবে? গত বছর ছাত্রদের উপর গুলি চালানোর ঘটনায় যদি শেখ হাসিনাকে মানবতা বিরোধী বলা হয়, তবে সাধারণ মানুষের উপর গুলি চালানোতে মহম্মদ ইউনূস কেন কাঠগড়ায় উঠবে না? সেনাবাহিনীকে গুলি চালানোর নির্দেশ দিল কে? কোথায় ছিলেন সেনাপ্রধান? নাহিদ, সারজিস, হাসনাত রা এত হুংকার দেওয়ার পর সেনা বাঙ্কারে লুকিয়ে পালিয়ে গেলেন কেন? অর্থাৎ তাদের ভয় ছিল। যেখানে বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে আধারে ডোবাতে চাইছেন তারা, তাতে সাধারণ মানুষ ক্ষিপ্ত।












Discussion about this post