শেখ হাসিনা ফিরছেন বাংলাদেশে। তাঁকে ফেরাবে সাউথব্লক। এমন কৌশলে দিল্লি থেকে তিনি ঢাকা যাবেন, সেটা না টের পাবে যমুনাভবনের বাসিন্দা, না উত্তরপাড়া। তাঁকে হয়তো এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে, যে পরিস্থিতিতে তিনি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে বাধ্য হয়ে বলবেন, আওয়ামী লীগের ওপর থেকে দয়া করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করুন। তার একটা ক্ষেত্র কিন্তু তৈরি হয়ে গিয়েছে।
গত ১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগের তরফ থেকে ডাকা হয়েছিল ঢাকা লকডাউন কর্মসূচি। কর্মসূচি থেকে এটা পরিষ্কার যে এটা শুধু রাজধানীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল গোটা দেশ অচল হয়ে গিয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কিন্তু ঘরেই ছিল। হাসিনা সরকারকে যে ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা কিন্তু এখন স্পষ্ট।
আরও একটা বিষয় লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর বঙ্গবন্ধুকন্যা সমাজ মাধ্যমে তাঁর বক্তব্য রেখেছেন। ভারতের মিডিয়াকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সাক্ষাৎকার দিয়েছে বিশ্বের প্রথম সারির গণমাধ্যমকে। কিন্তু কোথাও কিন্তু তিনি একবারের জন্য আমেরিকা বা ডিপ স্টেটের দিকে আঙুল তোলেননি। এটা জানার পরেও যে তাঁকে ঢাকাছাড়া করেছিল ওই ডিপস্টেট। আর তাঁকে সরিয়ে ইউনূসকে তারাই বসিয়েছিল। কেন তিনি আমেরিকার বিরুদ্ধে মুখ খোলেননি এখন সেটা কিন্তু পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। দেশে ফেরার ক্ষেত্রে আমেরিকাও তার পাশে দাঁড়াতে পারে। ভারত আস্তে আস্তে সেই জমি তৈরি করে দিচ্ছে।
হাসিনার দেশের ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে গোটা দেশ। তারা দেখেছে এই ১৪ মাসে বাংলাদেশে কী হয়েছে। সাম্প্রদায়িক পরিবেশ হয়েছে অসাম্প্রদায়িক। মৌলবাদ মাথাচাড়া দিয়েছে। মব সন্ত্রাস বেড়েছে। ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়িতে নির্বিবাদে তাণ্ডব চালিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি। আর অপর দিকে, তদারকি সরকার প্রধানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া যত মামলা দায়ের হয়েছিল ক্ষমতায় বসে তিনি নিজেই নিজেকে সেই মামলা থেকে অব্যাহত নিয়েছেন। মানে নিজের বিচার তিনি নিজেই করেছেন। আর যে আওয়ামী লীগের হাত ধরে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল, সেই দলের প্রধান মুখের বিরুদ্ধে নানা মামলা দায়ের করে তাঁকেই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। সেই কাঠগড়া যে কাঠগড়া তৈরি হয়েছিল হাসিনার আমলে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তির মাথাদের বিচারের উদ্দেশ্যে।
এখানেই শেষ নয়, এনসিপি, জামায়াত এবং বিএনপি একজোট হয়েছে। ইউনূসের মতো তাদের গলায় এক সুর – হাসিনাকে কোনওভাবেই দেশে ফিরতে দেওয়া যাবে না। ইতিমধ্যে আমরা জেনেছি, ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের সঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্করের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছে। সূত্র বলছে, সাউথব্লকের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, হাসিনাকে ঢাকা ফিরিয়ে দিতে তারা বদ্ধপরিকর। তবে কবে তিনি ফিরবেন, সেটা কিন্তু সুস্পষ্টভাবে সাউথব্লকের তরফ থেকে ওয়াশিংটনকে জানানো হয়নি কৌশলগত কারণে।
আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য তদারকি সরকার প্রধানের ওপর আন্তর্জাতিক মহল থেকে লাগাতার চাপ তৈরি করা হচ্ছে। একটি সূত্রে থেকে দাবি করা হয়েছে, ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওপরেও চাপ তৈরি করা হচ্ছে। ইউনূসের এখন সময়টা একেবারেই ভালো যাচ্ছে না। না সেনাবাহিনী তাঁর পাশে আছে, না পুলিশের একাংশ তাঁর পাশে আছে। এমনকী উপদেষ্টাদের অনেকেই এখন পালিয়ে যাওয়ার জন্য রাস্তা খুঁজছেন। তাঁরাও টের পেয়েছেন হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত। আর তিনি ফিরলে এই সব উপদেষ্টাদের ধরে ধরে পদ্মার জলে ছুঁড়ে ফেলবেন। মানে আপনি বাঁচলে বাপের নাম।












Discussion about this post