শেখ হাসিনার শাসনকালে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ছিল অতি মধুর। দুই দেশের মধ্যে আর্থিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান ছিল নিত্যদিনের বিষয়। বাংলাদেশের পশ্চিমপ্রান্তে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং পূর্বপ্রান্তে ভারতের ত্রিপুরা, এই দুটি রাজ্যই বাংলাভাষী। ফলে সবধরণের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক একাত্মতা লক্ষ্য করা যেত। কিন্তু গত বছর রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হওয়া অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের বদলে পাকিস্তানের সাথে তাঁদের সমস্ত যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে শুরু করেছে। বিগত দেড় বছরে পাকিস্তানপন্থী জামাতিদের হাত ধরে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বৃদ্ধি, ভারত বিদ্বেষী মনোভাব বৃদ্ধি হতে দেখছি আমরা। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ক্রমাগত পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশকে সঁপে দিচ্ছেন। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শীর্ষ জেনারেলদের আনাগোনা, ঘনঘন বৈঠক ও পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে জাহাজের আগমণ ভারতকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। আরেকটি ফ্যাক্টর রয়েছে, সেটা হল বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া এবং বারবার আবেদনের পরও তাঁকে ঢাকার হাতে তুলে না দেওয়ার নয়া দিল্লির সিদ্ধান্ত। সবমিলিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সবধরণের সম্পর্ক কার্যত অস্তমিত। ঠিক এই আবহেই জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান দুই দিনের সফরে নতুন দিল্লি আসছেন আগামী ১৯ নভেম্বর। জানা যাচ্ছে, ১৯ এবং ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে চলা কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের সপ্তম বৈঠকে যোগ দিতে ভারতের রাজধানীতে থাকবেন বাংলাদেশের এনএসএ।
খুবই গুরুত্বপূর্ণ আহবে খলিলুর রহমানের ভারতে আসা। এবং এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট হতে চলেছে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলের আগ্রহ তাই তৈরি হচ্ছে এই সফরকে ঘিরে। জানা যাচ্ছে, কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের ফাঁকে খলিলুর রহমানের সাথে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে। খুবই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ঘটনার মধ্যে এই বৈঠক হতে পারে। যেমন ইউনুস সরকারের আমলে পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের প্রশ্নাতীত সখ্যতা বেড়েছে। সম্প্রতি, চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে পাক নৌসেনার যুদ্ধজাহাজ ‘পিএনএস সইফ’। বাংলাদেশে এসেছিলেন পাক নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ। আবার ঢাকা সফর করে গিয়েছেন, পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা। খুব স্বভাবতই বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাথে পাকিস্তানের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের ঘন ঘন ঢাকা সফরের বিষয়ে তাঁদের উদ্বেগগুলি ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এমনকি ডোভাল-খলিলুর বৈঠক হলে, এই বিষয়ে আরও গভীর আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাম্প্রতিক দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডের সাথেও বাংলাদেশে কয়েকটি যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বিশেষ করে ফরিদাবাদে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমান বিস্ফোরকের ডিটোনেটর এবং অন্যান্য রাসায়নিক বাংলাদেশ থেকেই ভারতে পাচার হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। এছাড়াও ধৃত একাধিক চিকিৎসকের তথ্য যাচাই করেও এনআইএ গোয়েন্দারা বাংলাদেশি যোগসুত্র পেয়েছেন বলেও জানা যাচ্ছে। ঠিক এই আবহেই বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে আমন্ত্রণ জানাল নয়া দিল্লি। সূত্রের খবর, বিগত দেড় বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের আধিকারিক পর্যায়ে কয়েকটি বৈঠক হলেও শীর্ষ পর্যায়ে সেরকম উল্লেখযোগ্য বৈঠক নেই। গত বছর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ সভা চলাকালীন সাইডলাইনে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। পাশাপাশি চলতি বছরের প্রথম দিকে বিমস্টেকের সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের একটি সৌজন্য সাক্ষাতের বাইরে সেরকম কোনও বৈঠক হয়নি। এবার ভারতে আসছেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা তথা ইউনূসের অত্যন্ত ঘনিষ্ট সহযোগী খলিলুর রহমান। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা করছেন মুহাম্মদ ইউনুস?
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post