১৩ তারিখ আওয়ামী লীগের লকডাউন কর্মসূচি পালিত হল। অনেকেই বলছেন, লকডাউন কর্মসূচি কোনওভাবেই সফল হয়নি। কিন্তু দেখা গেল, ঢাকার রাস্তা প্রায় স্তব্ধ। এমনকি সাধারণ জনতা এই লকডাউন সফল করতে সাহাষ্য করেছে। এখন ভাবছেন তো কিভাবে? সেটাই আলোচনা করব এই প্রতিবেদনে। অনেকেই বলছেন, শত শত বাংলাদেশী এখনও শেখ হাসিনার দলকে সমর্থন করে। পাশাপাশি তারাই গোপনে এমন কাজ করে দিল, যা আওয়ামী লীগের পক্ষে আরও রাস্তা সহজ হয়ে গেল।
১৩ তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণার দিন। আগামী ১৭ই নভেম্বর রায় ঘোষিত হবে। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের লকডাউন ছিল ঢাকা জুড়ে। সেদিন সাধারণ মানুষকে রাস্তায় প্রায় দেখা যায়নি। এদিকে ওইদিনই প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচন নিয়ে বক্তব্য রাখলেন। তিনি জানিয়ে দিলেন, গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন একইদিনে অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে আওয়ামী লীগের লকডাউন প্রসঙ্গে প্রেশ উরদেষ্টা শফিকুল আলম বলেন, ঢাকাবাসী প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য শোনার জন্য ঘর থেকে বেরোননি। কিন্তু এটাকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বলার চেষ্টা করছে, তাদের লকডাউন কর্মসূচি সফল হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ঢাকার বাইরে তো সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বেরিয়েছে। তারা তাদের স্বাভাবিক জীবন যাপন করেছেন। কেন শুধু ঢাকাতেই হল? আসল কারণ হিসাবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আওয়ামী লীগ ঢাকাতে লকডাউনের কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল। আর তাতেই সাড়া দিয়েছে মানুষ। তারা সমর্থন করেছে। শুধু তাই নয়, বহু সাধারণ মানুষ যারা কাজের কারণে বেরিয়েছিলেন, তারা সহযোগিতা করেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সঙ্গে। কোথাও কোনও বিক্ষিপ্তকারে স্লোগান উঠলে বা মিছিল হলে, তারা কোনও অভিযোগ ছাড়াই পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছছেন। একইসঙ্গে তারা বলেছেন, কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সন্মুখীন হননি। বরং নিজেদের স্বেচ্ছায় পথ ঘুরিয়ে নিয়েছেন তারা। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, এখনও আওয়ামী লীগের সমর্থক রয়েছে দেশে। এবং তারা শেখ হাসিনাকে চায়।
অন্যদিকে কিছুক্ষেত্রে ছবি উঠে আসছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, সেনাবাহিনীর সামনে জয় বাংলা স্লোগান দিচ্ছে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা। শেখ হাসিনার নাম ধরে স্লোগান দিচ্ছে। কিন্তু সেনাও কোনও পদক্ষেপ করছে না। অর্থাৎ সেনা সদস্যদের মধ্যে এখনও আওয়ামী লীগ সমর্থক রয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের অন্দরে আওয়ামী লীগের একটি বিপুল পরিমাণে সমর্থক আছেন। যদি কোনওভাবে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে দাঁড়ায় তাতে বিরোধী দল তো হবেই। পাশাপাশি স্বচ্ছ নির্বাচন হলে তারা ক্ষমতায় আসতে পারে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনী মূলো ঝুলিয়ে দিলেন সাধারণ মানুষের সামনে। তবে যেভাবে শেখ হাসিনার সমর্থক দেশে বাড়ছে, তাতে ইউনূসের সরকারের প্রতি মানুষ অতীষ্ঠ, সেটা পরিস্কার। এদিকে আওয়ামী লীগ আবার ১৬ এবং ১৭ তারিখ শাটডাউনের ডাক দিয়েছে। এদিকে ১৭ তারিখ শেখ হাসিনার সাজা ঘোষণা করা হবে। এখন দেখার, শেষমেশ কি পরিস্থিতি তৈরি হয়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post