কেল্লা-কাণ্ডের তদন্ত বাংলাদেশের জড়িত থাকার প্রমাণ হাতে পাচ্ছেন ভারতের গোয়েন্দারা। বিস্ফোরণের পরে পরে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টের সঙ্গে তারা সেই তথ্য মিলিয়ে দেখতে শুরু করেছেন। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লির ঘটনা ছিল নমুনামাত্র। জঙ্গিদের আরও বড় ধরনের পরিকল্পনা ছিল। ভারতীয় গোয়েন্দাদের কূটচালে সেই সব পরিকল্পনা বানচাল হয়ে গিয়েছে।
এই খবরের থেকেও আরও ভয়ঙ্কর খবর হল বাংলাদেশ কার্যত বারুদের স্তুপের ওপর বসে রয়েছে। বসিয়েছেন তদারকি সরকার প্রধান, পরোক্ষভাবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার এক শীর্ষকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হয়েছে জঙ্গিঘাঁটি। এমনকী তদারকি সরকার প্রধানের বাসভবনের খুব কাছেই একটি জঙ্গি শিবির তৈরি করা হয়েছে। তাকে কেন্দ্র করে ১০০ মিটারের মধ্যে আকাশে চক্কর কাটছে ড্রোন। কোথায় কোথায় জঙ্গিঘাঁটি তৈরি হয়েছে তার একটা তালিকা তুলে ধরা যাক।
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার ওই শীর্ষকর্তার বয়ান অনুসারে, জঙ্গি শিবির তৈরি হয়েছে ময়মনসিং, জামালপুর, রংপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজারে। এমনকী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও তারা ঢুকে পড়েছে। যে লালমনির হাট পরিদর্শনে গিয়েছিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার, সেই লালমনিহাটের বায়ুসেনা ছাউনি থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে তৈরি হয়েছে জঙ্গিদের আস্তানা। ভারতের ওই গণমাধ্যম বলছে, জঙ্গিরা নির্বিবাদে আম জনতার সঙ্গে মিশে গিয়েছে। এই সব শিবির অধিকাংশ জামাতুল মুজাহিদিনের। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পৌঁছে গিয়েছে এই সব শিবির গড়ে ওঠার খবর। শিবিরের সদস্যদের সঙ্গে আন্তর্জাতিকস্তরে তাদের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগায়োগ রয়েছে।
স্মরণ করিয়ে দেওয়া যেতে পারে, কিছুদিন আগে ভারতীয় সেনাগোয়েন্দাদের একটি দল বাংলাদেশ সফর করে। বৈঠক করেন সেনাপ্রধান ওয়াকারের সঙ্গে। তাঁর হাতে তুলে দেন স্যাটেলাইট ইমেজ। যেখানে ধরা পড়েছে সীমান্তে তৈরি হয়েছে একাধিক জঙ্গি শিবির। সাউথব্লকের তরফ থেকে কিন্তু ওই সফরেই উত্তরপাড়ার বড়ো কর্তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল তারা যেন ওই সব জঙ্গিঘাঁটি নিউট্রালাইজ করার উদ্যোগ নেয়। সেটা যে তারা করেনি, দিল্লির কেল্লা-কাণ্ডে তার প্রমাণ পাওয়া গেল। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখনও পর্যন্ত যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তার মধ্যে দুজনের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ভারত কী এবার ঢাকার বিরুদ্ধে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে চালাবে?
সরাসরি হ্যাঁ বলা যাচ্ছে না। তবে একটা তথ্য তুলে ধরা যেতে পারে, যে তথ্য তেমনই ইঙ্গিত দেয়। তার আগে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরতে হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটি গত ৭ নভেম্বর বৈঠকে বসে। সেখানে লালকেল্লার বিস্ফোরণ নিয়ে আলোচনা হয়। সেই আলোচনার পরেই সাউথব্লক থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় লালকেল্লার হামলা সন্ত্রাসী। সেই ঘোষণার পর কিন্তু জাতীয় তদন্ত সংস্থা আরও বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। তদন্ত আসে গতি। নানা প্রান্তে চলে সাঁড়াশি অভিযান। পুলওয়ামায় হামলার পর ১২ দিন বাদে ভারত জবাবি হামলা চালায়। পহেলগাঁও হামলার দু সপ্তাহের মাথায় ভারতীয় সেনা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালায়। এই হিসেবে ধরে নেওয়া যেতে পারে, আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মাথায় ভারতীয় সেনার তরফ থেকে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হওয়ার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেই সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের নিশানায় যমুনাভবন চলে এলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।












Discussion about this post