কেউ নিজের জন্য খাল কেটে কুমীর আনে? আনে নয়, এনে ফেলেছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান। তাঁর ঘরে বিপদ বাইরে বিপদ। হাসিনা ফিরলেও তাঁর বিপদ। আবার যদি বিএনপি ক্ষমতায় ফেরে তাতেও তাঁর বিপদ। কোন বিপদের ওজন কতটা, তা বলা মুশকিল। হাসিনা ফিরলে তাঁর কী কী বিপদ হতে পারে, তার একটা অনুমান আমারা ইতিমধ্যে পেয়েছি।
প্রথমতো তিনি হাসিনার সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। বাহিনীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। সর্বোপরি সেনার আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়ে মৌলবাদী শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। জেনারেল এখন কার্যত বারুদের স্তুপের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গে ওয়াকার অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে গিয়েছেন। আর তার জন্য দায়ী তিনি। কারণ, সে দেশের জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে জেনারেল ওয়াকার তাঁর বাহিনীকে জড়িয়ে ফেলেছেন। বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের আগামী দিনে যদি ক্ষমতার মসনদে বিএনপি আসীন হয়, তাহলে ২০০৪ সালে গ্রেনেড বিস্ফোরণ মামলায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে চালানো তৎকালীন সেনা-পুলিশ অভিযানের সঙ্গে যাদের সংযোগ ছিল তারা কঠোর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সম্মুখীন হতে পারেন। বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সেনা অফিসার এক গণমাধ্যমের প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, গ্রেনেড বিস্ফোরণের ঘটনায় তারেক রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল অত্যন্ত নির্মমভাবে। পাঁ দড়িয়ে দিয়ে বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই অবস্থায় তাঁকে বেধরক মারধর করা হয়। মারের চোটে তারেকের মেরুদণ্ডের হার ভেঙে যায়। চিকিৎসার জন্য তাঁকে লন্ডন নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। জিয়া-পুত্রকে এমনভাবে মারা হয়েছিল যে দাঁড়িয়ে থাকার শারীরিক ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। হুইল চেয়ারে করে তারেককে বিমানে ওঠানো হয়েছিল। আর সব কিছুই হয়েছে জেনারেল ওয়াকারের নির্দেশেই। শুনতে অবাক লাগলেও এটা বাস্তব তথ্য। বাহিনীতে তখন তিনি একজন জুনিয়ার অফিসার। বাহিনীর একজন জুনিয়র অফিসারের হাতে দলের অন্যতম মুখ তারেকের এই শারীরিক নির্যতনের কথা বিএনপির সকলের মনে আছে। তাঁরা জেনারেলকে এখনও ক্ষমা করেনি। আগামীদিনেও করবে না।
আবার আওয়ামী লীগ যদি বাংলাদেশের ক্ষমতায় পুনরায় আসীন হয়, তাহলেও ওয়াকারের বিপদ। সেই বিপদের কারণ লুকিয়ে আছে গত ৫ অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে। এই ঘটনার কয়েকদিন আগে সেনাপ্রধান ওয়াকার হাসিনাকে জানিয়েছিলেন, তাঁর (হাসিনার) আর নির্দেশ মানতে বাধ্য হয় বাহিনী। সেদিন থেকে কিন্তু হাসিনার সঙ্গে সরকারিভাবে সেনাবাহিনীর সম্পর্কের ইতি ঘটে। সুতরাং, জনগণের দ্বারা একটি নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার আসল কারিগরকে তো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বসলে রেয়াত করবে না, তা ধরে নেওয়া যেতে পারে। এমনকী তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা পর্যন্ত করতে দ্বিধা করবে না হাসিনার দল। দরকার তাদের শুধু মসনদে ফেরা। ইতিমধ্যে আমরা জেনে গিয়েছি যে হাসিনা সরকারের পতন নিশ্চিত করতে সেনাপ্রধান ওয়াকার বিদেশি শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। বাংলাদেশ সংবিধান এর বড়ো শাস্তির বিধান রয়েছে।
এই দুই শত্রুর বাইরেও আরও শত্রু রয়েছে সেনাপ্রধান ওয়াকারের। সেই শত্রুদের মধ্যে একটি শত্রু হল জামায়াত। গত বছরের গণঅভ্যুত্থানে জামাতের টার্গেট ছিল হাসিনাকে খতম করা। বলা হচ্ছে হাসিনাকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে আসার জন্য সেফ প্যাসেজ করেদিয়েছিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার। সুতরাং, তারা যে বদাল নেওয়ার জন্য সুযোগ খুঁজছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামাতের তরফ থেকে ইউনূসের হাতে একটি তালিকা ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকায় তাঁদের নাম রয়েছে, যাদের জামাত মনে করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এদের বিচার হওয়া প্রয়োজন। তালিকায় ওয়াকারের নাম রয়েছে।
প্রকাশ্যে গুলি। একবার নয়, একাধিকবার। বলা হচ্ছে গুলি মাথার এফোঁড় ওফোঁড় করে বেরিয়ে গিয়েছে। যারা গুলি চালিয়েছে, তারা এসেছিল বাইকের...
Read more












Discussion about this post