কিছুদিন আগে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী সিন্ধু প্রদেশ নিয়ে বেশ রহস্যজনক মন্তব্য করেছিলেন। দিল্লিতে আয়োজিত সিন্ধি সমাজ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ভৌগলিক সীমানা কখনও চিরস্থায়ী হতে পারে না। কাল হয়তো ভারতের সঙ্গে জুড়ে যেতে পারে।’ তাঁর এই মন্তব্য পাকিস্তানের আঁতে ঘা লাগে। তারা পালটা ভারতকে এ দেশের দুটি অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দিয়েছে।
ঠিক কী বলেছিলেন আমাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সে দিকে একবার আলোকপাত করা যাক। সিন্ধি সমাজ সম্মেলনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই প্রসঙ্গে আডবানীর কথা স্মরণ করেন। রাজনাথ বলেন, ‘আডবানী একটি বইতে লিখেছিলেন সিন্ধি হিন্দু। তাঁর প্রজন্মের লোকেরা ভারত থেকে সিন্ধের পৃথকীকরণ মেনে নিতে পারেননি। গোটা ভারতেই হিন্দুরা সিন্ধু নদকে পবিত্র বলে মনে করে। এই নদের জল শুধুমাত্র হিন্দুদের কাছে নয়, মুসলিমদের কাছেও পবিত্র। আব-এ-জমজমের মতোই পবিত্র বলে মনে করতেন সিন্ধের বহু বাসিন্দা। আজ সিন্ধু ভারতের অংশ নয় ঠিক। সভ্যতাগত দিক থেকে সিন্ধ সব সময় ভারতের অংশ হয়ে থাকবে। বাকি থাকে ভূখণ্ডের কথা। সীমান্তে বদল হতেই পারে। কে বলতে পারে, হয়তো কাল সিন্ধ ভারতে চলে এলো। ’ ভবিষ্যতে ‘নিজে থেকেই’ ভারতের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর সাপেক্ষে তাঁর যুক্তি ছিল সেখানে চলতে থাকা অন্তর্দ্বন্দ্ব। সেখানকার মানুষজন আর পাকিস্তানে থাকতে চান না। স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান উঠছে। তাই কোনও আগ্রাসন ছাড়াই ভারতের হবে বলে মনে করেন রাজনাথ মনে করেন। এবং বিশ্বাসও করেন। এর আগে মরক্কোতে ভারতীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে এক আলোচনায় তিনি দাবি করেছিলেন, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর একসময় নিজে থেকেই ভারত ভূখণ্ডে যুক্ত হবে।
রাজনাথের এই মন্তব্যে গায়ে জ্বালা ধরিয়েছে পাকিস্তানের। সে দেশের বিদেশমন্ত্রক বিবৃতি জারি করে জানায়, ‘এই ধরনের মন্তব্য হিন্দুত্ববাদী মানসিকতার পরিচয় বহন করে। এই মন্তব্য প্রতিষ্ঠিত বাস্তবকে চ্যালেঞ্জ করে। এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের বিরোধী। রাজনাথ সিং এবং সে দেশের রাজনৈতিক নেতাদের কাছে আমাদের অনুরোধ, তারা যেন উস্কানিমূলক, আঞ্চলিক শান্তির পরিপন্থী মন্তব্য যেন না করে। ’
বিবৃতির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে ভারতে বসবাসকারী সংখ্যালঘুদের বিষয়টি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ভারত সরকার যদি নিজের দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা, বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে মনোনিবেশ করে তাহলে সেটা অনেক গঠনমূলক হবে। ’ পাক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় ভারতের অভ্যন্তরীণ আঞ্চলিক সমস্যার প্রসঙ্গ। দাবি করা হয় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নাগরিকেরা নিপীড়িত। ইসলামাবাদের দাবি, ‘যারা হিংসায় মদত দেয়, তাদের জবাবদিহি করতেই হবে। ভারত আগে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জনগণের অভিযোগগুলির সমাধান করুক। সেখানে যারা বসবাস করছে, এত বছর বাদেও তাদের প্রান্তিক পরিচয় বিলোপ হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন, হিংসা চলছেই।’
সম্প্রতি পাক অধিগৃহীত কাশ্মীরে থাকা সন্ত্রাসঘাঁটিগুলিতে ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক অপারেশন সিঁদুর নিয়ে আলোচনা চলেছে। অনেকেই বলছেন, ভারতের উচিত ছিল তখন পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ভেতরে আরও এগিয়ে গিয়ে নিজেদের দাবি করা অঞ্চল সুরক্ষিত করা। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়ে কোনও বাড়তি মন্তব্য করেনি।
রাজনাথ সিংহের মন্তব্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। উস্কেছে বিতর্কও। এটি কি ভারতের ভবিষ্যৎ কৌশলের ইঙ্গিত, না কি শুধুই সভ্যতাগত আবেগের পুনরুল্লেখ? উঠছে প্রশ্ন। জবাব দেবে সময়।
প্রকাশ্যে গুলি। একবার নয়, একাধিকবার। বলা হচ্ছে গুলি মাথার এফোঁড় ওফোঁড় করে বেরিয়ে গিয়েছে। যারা গুলি চালিয়েছে, তারা এসেছিল বাইকের...
Read more












Discussion about this post