সংবাদের শিরোনাম মনে করায় কালিপ্রসন্ন ঘোষের অন্যতম বিখ্যাত কবিতা ‘পারিব না’। কমবেশি সকলেই আমরা এই কবিতাটি পড়েছি। তাও এই প্রতিবেদনের স্বার্থে কবিতাটির উল্লেখ করতে হয়।
‘পারিবো না – এ কথাটি বলিও না আর/কেন পারিবে না তাহা ভাবো একবার,/ পাঁচজনে পারে যাহা,/ তুমিও পারিবে তাহা/পারো কি না পারো করো যতন আবার/একবার না পারিলে দেখো শতবার।’
ইউনূস এবং তাঁর সরকার এখনও পর্যন্ত শতবার চেষ্টা করেনি। করেছেন বেশ কয়েকবার। প্রথম দুবার হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে। এবার হাসিনা, তার বোন রেহানা এবং ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকে হাতে পেতে শরৎচন্দ্রের মেজদার মতো তৃতীয়বার মাঠে অবতীর্ন হলেন। এই তিনের সঙ্গে রয়েছে আরও ১৪জন। টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তাঁর মা রেহানার জন্য ঢাকার পূর্বাচলে একটি জমি পেতে মাসি তথা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনার ওপর চাপ তৈরি করেন। হাসিনা সেই সময় বাংলাদেশের ক্ষমতা মসনদে। অভিযোগ, আপন ভাগ্নির অনুরোধে কাছে নতিস্বীকার করেন হাসিনা। রেহানাকে তিনি রাজউকের ১০ কাঠা সরকারি জমি বরাদ্দ করেন। তদারকি সরকারের দাবি, এই দুর্নীতির পাকচক্রে জড়িত আরও ১৪ জন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন আদালত এদের দোষী সাব্যস্ত করেছে। আর যাঁর বয়ান এই এতজনকে দোষী সাব্যস্ত করল, সেই রাজউকের প্রাক্তন কর্মকর্তা খুরসিদ আলমের আইনজীবী এজলাসকে বলেন, তাঁর মক্কেলের কোনও দোষ নেই। সে শুধু সরকারি নির্দেশ পালন করেছে মাত্র। অপর দিকে অভিযোগ ওঠার পরে পরেই রেহানা নীতি নৈতিকতার খাতিরে এমপি পদ থেকে ইস্তফা দেন। তিনি ব্রিটেনের দুর্নীতি দমন বিরোধী মন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন। যদিও রেহানা জোরের সঙ্গে দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন। এটা রাষ্ট্রের মদতে হেনস্তার একটি প্লট। হাসিনার সঙ্গে ইউনূসের দ্বন্দ্বে তিনি বলির পাঁঠা হয়েছেন। ইউনূস সম্প্রতি লন্ডনে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য চিঠি পাঠিয়েছিলেন রেহানা। কিন্তু তাঁর সঙ্গে দেখা করার সময় পর্যন্ত পাননি তদারকি সরকার প্রধান।
আদালতের এই ঘোষণায় ফুঁসছে ব্রিটেন। সে দেশের পাঁচজন শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী ঢাকার হাইকমিশনারকে চিঠি পাঠিয়েছেন। এই পাঁচজনের মধ্যে রয়েছেন ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের স্ত্রী শেরি ব্লেয়ার, ডমিনিক গ্রিভ, ফিলিপ স্যান্ডস, জিওফ্রি রবার্টসন। তাঁরা যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তাঁরা বিচারপ্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। জানিয়েছেন, এই মামলায় রেহানার পক্ষে যে আইনজীবীকে নিয়োগ করা হয়েছিল, তাকে আদালতে সওয়াল করতে পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। তাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। এমনকী তাঁর মেয়েকে হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁদের মতে এই বিচারপ্রক্রিয়া ‘কনট্রিভড অ্যান্ড আনফেয়ার। ’
পাঁচজন তাদের চিঠিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘টিউলিপ যুক্তরাজ্যের নাগরিক। যুক্তরাজ্যে থাকেন। তিনি পলাতক নন। তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলে মামলা করা হয়েছে, সেই মামলার স্বপক্ষে সরকার তথ্যপ্রমাণ আদালতে পেশ করতে পারেনি। তাছাড়া যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই টিউলিপ সিদ্দিকিকেও বাংলাদেশ সরকারের তরফে কোনও অভিযোগপত্র বা প্রমাণ দেখানো হয়নি। ’ এই প্রসঙ্গে তাঁরা চিঠিতে ইউনূসের বচন তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, তদারকি সরকার প্রধান বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন। ন্যায় বিচারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করছেন। আর সেই সময় বাংলাদেশের এই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তারা রীতিমতো উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। চিঠিতে এই পাঁচজন দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশে সর্বত্র একটা ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরির অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগের সঙ্গে এটি পুরোপুরি মিলে যায়। ’
মামলার রায় আগামী ১ ডিসেম্বর।
প্রকাশ্যে গুলি। একবার নয়, একাধিকবার। বলা হচ্ছে গুলি মাথার এফোঁড় ওফোঁড় করে বেরিয়ে গিয়েছে। যারা গুলি চালিয়েছে, তারা এসেছিল বাইকের...
Read more












Discussion about this post