বাংলাদেশের এই মুহূর্তে আলোচনার বিষয় সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব। দেশের বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে ঘিরে নানা আলোচনা, সমালোচনা তৈরি হয়েছে দেশের অন্দরে। ২০২৪ সালের ২৪ জুন থেকে শুরু করে ২০২৭ সালের ২৩ জুন পর্যন্ত তিন বছরের জন্য সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের এক বছরের মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করছে দেশের বেশ কিছু সংগঠন। শুধু তাই নয়, তাঁর অপসারণের দাবি জানানো হচ্ছে। মূলত যারা অপসারণের দাবি জানাচ্ছে, তারা প্রত্যেকটি সরকার বিরোধী এবং তথাকথিত দেশ বিরোধী সংগঠন। তবে তাদের মধ্যে যেসাধারণ জনগণও নেই, সেটা হলফ করে বলা যায় না। কারণ এই ওয়াকারের বাহিনী গোপালগঞ্জে বেশ কিছু জনগণকে গুলি করে হত্যা করেছে। যা দেখেছে গোটা দেশ। তাদের দাবি, সেনাপ্রধানকে অপসারণ না করলে রাষ্ট্রের পুনর্গঠন সম্ভব নয়। এটাকে কেন্দ্র করে দেশের অন্তরে তুমল উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে কি ওয়াকার বদলে যাবে? তবে নতুন সেনাপ্রধান কে হবেন? কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তালিকায় রয়েছে বিরাট চমক।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই অপসারণের চেষ্টা সামরিক বা প্রশাসনিক নয়। এটি রাজনৈতিকভাবে পরিকল্পিত। সেনাপ্রধানের নিয়োগ ও মেয়াদ নির্ধারিত হয় আর্মি অ্যাক্ট ১৯৫২ এবং সরকারের জারি করা প্রশাসনিক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী। বিশ্লেষকদের মতে, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর মধ্যে যে বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টি হয়েছে, সেটা রাজনৈতিক কিছু সত্যান্বেষী গোষ্ঠীর কারণে। তাই তাদের লক্ষ্য, এই নেতৃত্বকে সরিয়ে সেনাবাহিনীর নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করা। এখন, প্রশ্ন হচ্ছে যদি সেনাপ্রধান ওয়াকারকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তবে তার জায়গায় কে আসীন হবে? সেনাবাহিনীর নিয়ম অনুযায়ী সেনাপ্রধানের পরবর্তী নিয়োগ আলোচনা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নির্বাচিত হয়। কিন্তু বর্তমান সময়ে লক্ষ্য করলে দেখা যাচ্ছে, সেই তালিকা অত্যন্ত ছোট। কারণ জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের সঙ্গে একই ব্যাচে অধিকাংশ লেফটট্যান্ট জেনারেল সাইফুল আলম, মুজিবর রহমান অবসরে গিয়েছেন।
ওয়াকার জামানের পর সম্ভাব্য তালিকায় প্রথম নাম রয়েছে লেফটেন্ট জেনারেল মোঃ শামীম। তিনি বর্তমানে জ্যৈষ্ঠ কর্মকর্তা। তার যোগ্যতা অনুযায়ী সেনাপ্রধান হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। এরপর উঠে আসছে লেফটেন্যান্ট জেনারেল কামরুল হাসানের নাম। ইনি ২০২৩ সালে জেনারেল পদে পদোন্নতি পান। বর্তমানে তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত। এছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন বেশ কয়েকটি নাম। যেমন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফজলুর রহমান। তিনি বর্তমানে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল হিসেবে কর্মরত। এছাড়াও লেফটেন্যান্ট জেনারেল মইনুল রহমান। তিনি সামরিক মহলে দক্ষ আধিকারিক হিসেবে পরিচিত।
পরবর্তী সেনাপ্রধান কে হবেন, এই আবহে একটি নাম চর্চায় উঠে এসেছে। সেটি হল, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত গোলাম আব্দুল্লাহ আজমি। তিনি একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, যদি আমি চাকরিতে থাকতাম, তবে দেশের সেনাবাহিনীর বড় পদে থাকতাম। কিন্তু এখন তিনি অবসরপ্রাপ্ত।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী এমন একটা জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নাক গলাতে পারছেন। যেটা দেশের বাহিনীর জন্য অত্যন্ত খারাপ। এরমধ্যে দেশের অন্দরে বিশৃঙ্খলা হওয়ার কারণে সেনাবাহিনীকে মাঠে নামাতে বাধ্য হয়েছে। এখনও তারা ম্যাজিট্রেসি পাওয়ারে মাঠে। অন্যদিকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জমানও রাজনৈতিক প্যাঁচে পড়ে বহুবার বিতর্কিত হয়েছেন। ফলে সবমিলিয়ে পরিস্থিতি এখন কোন গড়ায়, সেটাই দেখার।
প্রকাশ্যে গুলি। একবার নয়, একাধিকবার। বলা হচ্ছে গুলি মাথার এফোঁড় ওফোঁড় করে বেরিয়ে গিয়েছে। যারা গুলি চালিয়েছে, তারা এসেছিল বাইকের...
Read more












Discussion about this post