গত বছর বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন ও গণ অভ্যুত্থানে হওয়া ঐতিহাসিক ঘটনায় ওতপ্রোত ভাবে জড়িত ছিল বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীরই ঘনিষ্ট সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ্জামান। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হওয়া গভীর ষড়যন্ত্রটি ছিল পূর্ব পরিকিল্পিত। যার মাথা ওয়াকার। ২০১৮ সাল থেকে চলছিল এই ষড়যন্তের পরিকল্পনাটি। যা ওয়াকার দায়িত্ত নেওয়ার পর গত বছর তা বাস্তবায়িত হয়। ওয়াকার যেইদিন দায়িত্ব নিয়েছে সেইদিন জামাত শিবির আনন্দে মিষ্টি খেয়েছে। জুলাই – অগাস্ট আন্দোলনের মাস্টার মাইন্ড ওয়াকার এই পরিস্থিতি তৈরী করতে ষড়যন্ত্রকারী জঙ্গিদের সম্পূর্ণ সহায়তা করেছিলেন। এমনকি অনেক আন্দোলনকারীকে বলতে শোনা যায়, আমাদের মূল লক্ষ্যই ছিল শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সড়ানো এবং বাংলাদেশ থেকে চিরতরে মুক্তি যুদ্ধের নাম মুছে ফেলা। হাসিনাকে সড়িয়ে দেওয়ার ফল তো এখন সকলেই দেখতে পারছে। সাথে বাংলাদেশের মানুষও হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। এরপর ইউনুস ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশকে জঙ্গি দেশ বানানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।
গণভবন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বাসভবনে অগস্টের শেষে মধ্য রাত পর্যন্ত বৈঠক হত। এভাবে সকলকে রাতে ব্যস্ত করে রাখাটাও ছিল ওয়াকারের একটা কৌশল। বৈঠকের সকল তথ্য জামাতের কাছে চলে যেত। জামাত সেই অনুযায়ীই প্রস্তুতি নিয়ে পরের দিনই আন্দোলন শুরু করত। অন্যদিকে সরকার বৈঠকেই ব্যস্ত ছিল। এমনকি ওয়াকার হাসিনাকে বলেছিল, বাহিনী পরিস্থিতি সামলে নেবে। আপনার লোক নামানোর দরকার নাই। এমনকি ভয়াবহ ৫ ই অগস্টের আগের দিন রাতে অর্থাৎ ৪ ই অগাস্ট মধ্য রাত অবধি হাসিনা সরকারের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সাথে বৈঠক করেন, সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বাসঘাতক ওয়াকার ও। সব ক্ষেত্রেই ওয়াকার একই কথাই বলত, আমরা সব সামলে নেবো। ৫ তারিখ কি হতে চলেছিল তা ওয়াকার জানলেও ভুনাক্ষরেও টের পেতে দেয়নি সরকারকে। এমনকি ৪ তারিখ রাতে বিএনপির এক নেতা পুলিশের এক কর্মকর্তাকে বলেছিলেন, কালকে আমরা ফাইনাল খেলা খেলবো। আমাদের ডিজিএফআই থেকে গ্রীন সিগন্যাল দেওয়া হয়ে গেছে।
৫ ই অগাস্ট সকাল ১০ টা পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার পরিবেশ একদমই স্বাভাবিক ছিল। এরপরেই আর্মির তরফে জামাত শিবিরের জঙ্গিদের কাছে বলা হয়, তোমরা চলে আসো। রাস্তায় বাধা দেওয়া হবে না। এরপরেই উত্তরার দিক থেকে জনগণের একটা ঢল আসে। সেই সময় পুলিশের সকল কর্মকর্তারা সড়ে যেতে বাধ্য হয়। গুলশানেরও একই অবস্থাই হয়। এরপর ঢাকার ডিআইজি হারুন ভাইয়ের নেতৃত্বে পুলিশ সক্রিয় হয়ে উঠলে সেনাবাহিনীর দুজন অফিসার এসে তাকে ও তার বাহিনীকে ওই অবস্থা থেকে সড়ে যেতে বলে। তারা বলে, তারা পরিস্থিতি সামলে নেবে। এরপর শুরু হয় মব, ছাত্র – জনতা ও জঙ্গিদের তান্ডব। অর্থাৎ সেনা বাহিনী ৪ ই অগাস্ট ও ৫ ই অগাস্ট শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সরকারের সাথে বেইমানি করেছে। শেষ প্রতিরোধটাও তারা করতে দেয়নি। ৫ ই অগাস্ট মব গণভবনের উদ্দেশ্যে গেলে ওয়াকার জামাতের জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের সাথে চক্রান্ত করেছিল যে, হাসিনাকে গণভবনেই হত্যা করা হবে। যে শেখ হাসিনা ওয়াকারকে সকল কিছু উপেক্ষা করে সেনাপ্রধান বানিয়েছিলেন সেই বিশ্বাসঘাতক ওয়াকারই হাসিনাকে পিঠ – পিছে হাসিনাকে হত্যার চক্রান্ত করেছিল।












Discussion about this post