বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাস্তি কী হবে? যাবজ্জীবন সাজা না কি মৃত্যুদণ্ড? এই খবর যখন লেখা হচ্ছে, সেই সময় বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার,বিচারপতি মহম্মদ শফিউল আলম, বিচারপতি মহম্মদ মোতিহুল হক এনার চৌধুরীর এজলাসে পড়া শুরু হয়েছে ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়। রবিবার রাত থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হিংসাত্মক ঘটনার খবর পাওয়া গিয়েছে। গাড়ি, অ্যাম্বুল্যান্স, বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো খবর এসেছে। হয়েছে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি অন্য দুই অপরাধী হলেন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং বাংলাদেশের প্রাক্তন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। এর মধ্যে হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান বাংলাদেশে নেই। আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজস্বাক্ষী হয়েছিলেন।
এই রায়কে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল তথা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সহ রাজধানী ঢাকা সহ গোটা দেশ টানটান উত্তেজনায় রয়েছে। রবিবার এবং সোমবার আওয়ামী লীগের তরফ থেকে শাটডাউন (হরতাল) কর্মসূচি পালনের ডাক দেওয়া হয়েছে। রবিবার সাংবাদিক সম্মেলন করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী। পুলিশবাহিনীকে তিনি বলেছেন, কেউ বাসে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে বা কারও হাতে বোমা দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে গুলি করতে হবে। একই নির্দেশ দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনার। ঢাকা নগর পুলিশ জানিয়েছে, প্রত্যেকটি রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ মোড়, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভবন এবং সংবেদনশীল স্থানে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাসিনার মামলার রায় সরাসি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ টেলিভিশন। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঢাকার তিতুমীর কলেজের মূল ফটকের সামনে, আমতলির মোড় এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে। তবে বাসে আগুন দেওয়া থেকে শুরু করে অশান্তির ঘটনা যাতে এড়ানো যায় সে জন্য আরও কড়া করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এর আগে গত ১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগের তরফ থেকে ঢাকা লকডাউন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। সরকারের তরফ থেকে সেই কর্মসূচি বানচাল করার জন্য লাগাতার প্রচার চালিয়ে গিয়েছে। একদিকে সরকারের প্রচার অপর দিকে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি – মানুষ স্বভাবতই বেশ আতঙ্কে ছিল। তাই, ভয় পেয়ে মানুষ সেদিন ঘরে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। সে কারণে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি অনেকটাই সফল হয়েছে। এবার আর সরকার সেই পথে না হাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রবিবার রাজধানী ঢাকার শাটডাউন কর্মসূচিতে যান চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক থাকলেও ঢাকার বাইরে এর প্রভাব পড়ে। রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণের যোগাযোগ ব্যহত হয়। বহু জায়গায় শাটজাউনের সমর্থনে মিছিল করে আওয়ামী লীগ। গত কয়েকদিন এখানে ওখানে চোরাগোপ্তা বোমা বিস্ফোরণ ও যানবাহনের আগুন দেওয়া হচ্ছে। ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগকারী দক্ষিণে রাস্তাগুলি বড়ো বড়ো গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে যান চলাচল।
গণঅভ্যুত্থান দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সোমবার ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-১-এ বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত হবে সাজা। তার আগেই মুখ খুললেন মুজিবকন্যা। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যে। তিনি আরও দাবি করেন, এই সমস্ত রায়ের পরোয়া করেন না তিনি। আল্লাহ জীবন দিয়েছেন, তিনিই নেবেন, দাবি হাসিনার। একটি অডিয়ো বার্তায় নিজের রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা দেন তিনি।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post