ঢাকার রাস্তায় নেমে পড়েছে সরকারের পোশা গুণ্ডাবাহিনী। নানা প্রান্ত থেকে পাওয়া যাচ্ছে হিংসাত্মক ঘটনার খবর। পুলিশের তরফ থেকে বিক্ষোভকারীদের দেখামাত্র গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করতে জামাত এবং মৌলবাদী শক্তি এক জোট হয়েছে। নানা প্রান্ত থেকে যে সব খবর হিংসাত্মক ঘটনার খবর এসেছে তার সংখ্যাগরিষ্ঠের পিছনে তাদের হাত রয়েছে।
এদিকে, হাসিনা এবং তাঁর আমলের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের রায় ঘিরে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তার মোকাবিলার জন্য সরকার প্রস্তুত বলে জানিয়ে দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং জলসম্পদ মন্ত্রকের উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান। সোমবার, অর্থাৎ রায়দানের দিন সকালে তিনি ধামনমন্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে ‘দ্য সোল অব জুট’ নামে একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছিলেন।
দেশের নাশকতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দা রিজওয়ানা বলেন, ‘বিদেশ থেকে কারা মদত দিচ্ছে, দেশের কারা বাসে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে, কারা সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে সেই নামগুলো আপনারা জানেন। তদন্ত করে সরকারের কাছে যে সব নামের তালিকা উঠে আসছে, সরকার সেই তালিকা সংবাদমাধ্যমের কাছে তুলে ধরছে। ’
হিংসাত্মক ঘটনা প্রসঙ্গে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও তিনি মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন,‘হিংসাত্মক ঘটনা যেমন ককটেল বোমা বিস্ফোরণ, বাসে অগ্নিসংযোগ এই সব নিয়ে গণমাধ্যমের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করা উচিত। গণমাধ্যম চাইলে আতঙ্কটা ছড়াতে পারে; আবার যারা এই হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের নিন্দা করে সহিংসতার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে পারে।
রবিবার রাতে তাঁর বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন ‘আপনার বাড়িতে ককটেল মারবে আর আপনি নিশ্চিন্ত থাকবেন, তা তো হতে পারে না। তবে আতঙ্কিত হওয়া এক জিনিস, আর নিশ্চিন্ত না থাকা অন্য জিনিস। আর সতর্ক হওয়া বা থাকাটা আরও অন্য বিষয়। কথা হচ্ছে যে এ রকম একটা শান্ত পরিবেশে যে এ রকম অস্থিতিশীলতা গড়ে তোলা হচ্ছে, এটার ব্যাপারে জনমত গড়ে তুলতে হবে। আপনারা এগিয়ে আসুন। সরকারের যা করার সরকার তা করবে।’ গণমাধ্যমের কাছে তাঁর আর্জি – এই ধরনের ঘটনা যাতে বৃদ্ধি না পায় সে দিকে গণমাধ্যমের লক্ষ্য রাখা উচিত। গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে হবে। উপদেষ্টা আরও জানান, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। ওরা যা চেষ্টা করেছে, সেই পর্যায়ে যেতে পারবে না।’
এদিকে, রবিবার রাতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মস্তফাপুর এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা একটি ব্যানার হাতে নিয়ে মিছিল বের করে। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে মস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ডের দিকে এগোতে শুরু করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ২০ থেকে ২২টি মশাল ছিল। মশালমিছিলে অংশ নেওয়া সবাই মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় ছিলেন।
এর আগে শাটডাউন কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে রোববার ভোর সাড়ে ৬টায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে গোপালপুর এলাকায় একাধিক গাছ কেটে ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়। এ সময় মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভও করেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মীরা। প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সকাল সাড়ে নয়টায় কালকিনি ও ডাসার থানার পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post