গভীর সঙ্কটে বেগম জিয়া। দলনেত্রীকে দেখতে শনিবার সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ছুটে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। সকাল সোয়া ১০টার দিকে হাসপাতালে যান দলের মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ।
বেগম জিয়া ফুসফুসে সংক্রমণ থেকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এরপর দেখা দেয় নিউমোনিয়া। এর সঙ্গে রয়েছে কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের পুরোনো সমস্যা। ফলে পরিস্থিতি এমন যে একটি রোগের চিকিৎসা করতে গেলে আরেকটির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল শুক্রবার খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থাকে ‘অত্যন্ত সংকটময়’ বলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির নেতারা বলছেন, গত দুই দিনে তাঁর অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। চিকিৎসকেরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্ভব হলে দ্রুত সিঙ্গাপুরে নেওয়ার বিষয়ে চিন্তা করছেন।
জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে প্রার্থনা চেয়েছেন। তাঁর সুস্থতা কামনা করে গতকাল সারা দেশে মসজিদে মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত করেছে বিএনপি।খালেদা জিয়ার প্রতি সবার আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিচ্ছেন ইউনূস-ও। সমস্ত রকমের চিকিৎসা সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘চিকিৎসায় কোনও ধরনের ত্রুটি থাকা উচিত নয়। সরকার প্রয়োজনীয় সমস্ত সাহায্য করবে।’’ তিনি বলেন, ‘‘গণতন্ত্রের উত্থানের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জাতির অন্যতম অনুপ্রেরণা বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর সুস্বাস্থ্য দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’’
এমন পরিস্থিতিতে গতকাল শুক্রবার খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থাকে ‘অত্যন্ত সংকটময়’ বলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির নেতারা বলছেন, গত দুই দিনে তাঁর অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। চিকিৎসকেরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্ভব হলে দ্রুত সিঙ্গাপুরে নেওয়ার বিষয়ে চিন্তা করছেন।
এই খবর যখন লেখা হচ্ছে, সেই সময় এভারকেয়ার হাসপাতালে বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের থিকথিকে ভিড়। তাদের অনেকেই মনে করছেন দলনেত্রী বোধহয় জীবিত নেই। শুক্রবার রাত ১১টার পর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে ভিড় জমাতে থাকেন তাঁরা। বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান ও মির্জা আব্বাস হাসপাতালে গিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত থেকে দলীয় প্রধানের স্বাস্থ্যের খবর নিয়েছেন। রাত ১২টার পর হাসপাতালে ফটকে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘মেডিক্যাল বোর্ড বসেছিল, বোর্ড তাঁর (খালেদা জিয়া) সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করেছে এবং যা যা করা দরকার, তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা সালাম দিয়েছি, উনি রিপ্লাই দিয়েছেন। উনি আমাদের চিনতে পেরেছেন।’ তিনি জানান, এর আগেও বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এমন হয়েছিল, তিনি বিশ্বাস করেন এবারও বেগম জিয়া সুস্থ হয়ে উঠবেন।
খালেদা জিয়াকে দেখতে গতকাল বিকেলে হাসপাতালে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পরে হাসপাতালের সামনে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের আমীর খসরু বলেন, ‘আমরা দূর থেকে দেখেছি।
গতকাল রাত ১১টা ৪০ মিনিটে বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং তাঁর বিশেষ সহকারী মনির হায়দার এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। এ সময় সেখানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছিলেন। বিএনপির আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা ড. আব্দুল মঈন খানও একই সময় হাসপাতালে আসেন। রাত ১২টা ৬ মিনিটে আসিফ নজরুল হাসপাতাল ত্যাগ করেন। জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জামানও রাতে হাসপাতালে গিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যের খবর নেন। আরো গিয়েছিলেন বিএনপি নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরী। রাতে জুলাই শহীদ মীর মুগ্ধর ভাই মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ ওই হাসপাতালে যান।
প্রকাশ্যে গুলি। একবার নয়, একাধিকবার। বলা হচ্ছে গুলি মাথার এফোঁড় ওফোঁড় করে বেরিয়ে গিয়েছে। যারা গুলি চালিয়েছে, তারা এসেছিল বাইকের...
Read more












Discussion about this post