ব্যাপারাটা এমন নয় যে ইউনূস সাহেবে ভোট করাতে চান না। আসলে তিনি ভোট পিছোতে চান, কারণ তার প্রভুদের অনেক কাজ বাকী। আর সেই সব কাজ তিনি যত দ্রুত সম্বভ হবে ভেবেছিলেন, তত দ্রুত সম্বভ হচ্ছে না। কারণ দেশটা বাংলাদেশ। বাংলাদেশের রাজাকাররা স্বীকার না করলেও, পাকিস্তান স্থীকার করে যে তারা ৩০ লক্ষ্য বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে, এবং দু লক্ষ্য মা বোনের সম্ভ্রম নষ্ট করেছে। তা যে দেশে ত্রিশ লক্ষ্যের বেশী মানুষ আত্মবলিদান দিতে পারে, তারা তো আর ভীতু জাতি না। ফলে ইউনূস সাহেব যা খুশি করে, পার পাচ্ছেন না। হাসিনা না থাকলেও হাসিনা বিরোধীরাও প্রতিবাদ করছে। আর ইউনূস সাহেবকে মানুষ তখনই চিনতে পারছে, যখন তারা বিপদে পড়ছে। বিপদেই পড়লেই হাসিনা আর ইউনূসের মধ্যে ফ্যারাকটা চোখে পড়ছে। ফলে বলা যায় যত দিন যাচ্ছে, মানুষ হাসিনার জন্য মুখ খুলছে। কিন্তু ইউনূস সাহেবের তো কিছু করার নেই, অনেক আগেই কড়াইলের আগুন লাগা ঐ বস্তিটি যে সুপার মার্কেট বানানো হবে তা তো খবরে এসেছিল। ফলে ইউনূস কি চাইছেন তা বুঝতে হিমসিম খাচ্ছে বিভিন্ন দলের রাজনীতিবিদরা। তিনি যতবার মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করতে চাইছেন, ততবারই হাসিনার কাছে হেরে যাচ্ছেন। হাসিনার শক্তির ভীত হল মুক্তিযুদ্ধ। আর বাংলাদেশবাসী যে মুক্তি যুদ্ধের বিরোধী কোন দলের হাতে ক্ষমতা তুলে দেবে না, তা বুঝতে পারছে সব দলের নেতা নেত্রীরা।যে কারণে সফিকুর সাহেবও নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান বলে দাবী করেন। আবার কখনও বলেন তারা মুক্তি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন নি তার নিদৃষ্ট কারণ আছে। যাই হোক তিনি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান বলে মুক্তিযুদ্ধকে সম্মান এবং স্বিকৃতি দিয়েছেন। ফলে জুলাই আন্দোলোনে হাসিনার ঐ রাজাকারের নাতি পুতি আর মুক্তিযোদ্ধা বক্তব্যটি, জামাতের আমির বা তার দলের গায়ে লাগার কথা না।এখন যেটি প্রাসঙ্গিক ইউনূস সাহেবের কাছে তা হল, রাজাকারের নাতি পুতি যারা ৫ই আগস্টের আগে দু-বেলা খেতে পেত না। তারা এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। এই বক্তব্য আমাদের না, বলেছে যুলাই যোদ্ধারাই।যারা এক সময় এই রাজাকারের নাতি পুতিকে নেতা মনে করত। তারা এখন প্রশ্ন তুলছে, কোটা বিরোধী আন্দোলোন করা সারজিসের শ্বশুর, কার সুপারিশে প্রধান বিচারপতি? তাহলে কি এখন বাংলাদেশে কোটা বাতিল করে সুপারিশ প্রথা চালু হল। কেউ কেউ সোনা উদ্ধার নিয়ে প্রশ্ন করছেন, হাসিনা যদি সব বিদেশে পাচার করে দিয়েছিল, তাহলে তার লকারে পরিবারের সব সম্পত্তি রাখলেন কি করে। পাকিস্তানি রাজাকারদের মসিহা ইউনূস সাহেবের কাছে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের কোন অপরাধই অপরাধ নয়। অপরাধ হল হাসিনার। তার কেন সম্পত্তি থাকবে? এই প্রশ্ন তুলে দেশের মানুষকে খেপিয়ে তুলে, তার যে মাস্টার প্ল্যান, কিছু দিনের জন্য সেই বিষয়টি থেকে জনগনকে দুরে রাখা। কড়াইলে আগুন লেগে দেড় হাজার পরিবার নিশ্বঃ, শোনা যাচ্ছে ইউনূস সাহেবের মাস্টার প্লান ঐ জায়গায় বিলাস বহুল মার্কেট কমপ্লেক্স বানানো, আর সেই কারণের আগুন কিনা বলা মুশকিল। আর এসবের ফলে দেশের সাধারণ মানুষে বেশী করে যে হাসিনার দিকে ঝুঁকছেন, সেটা তিনি বুঝতে পারছেন না।যেমন বন্দর বিক্রির দিনেই ঘটেছিল হাসিনার রায় দান এবং ধানমন্ডি ৩২ ভাঙার ঘটনা।ঠিক সেই রকম ভাবে খবরের অভিমুখ আগুনের দিক থেকে ঘুরিয়ে দিতেই, হাসিনার লকারে ৯ কেজি সোনার গহনা। যদিও সেই গহনা উদ্ধারের যে ছবি দেখানো হচ্ছে সেখানে কয়েকটি লোক কি সব মাপ জোপ করছেন দেখা যাচ্ছে,গহনা উদ্ধারের ছবি দেখা যাচ্ছে না। শুধু তাই নয় লকারের যে মাপ আর যে পরিমান সোনার গহনা উদ্ধার হয়েছে, যেখানে আবার পুঁধি পাথর, এ সবও আছে, ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে ঐ মাপের লকারে কি ৯ কেজি গহনা রাখা সম্ভব? সোনার বাট বানিয়ে রাখলে হয়তো সম্ভব হত। আওয়ামীলীগ বলবে এ সবই তাদের নজরে থাকছে, দিন যেদিন ঘুরবে, সেদিন এর জবাব দিতে হবে আজকের উদ্ধারকারী দলকে। যদিও হাসিনা তার গহনা থাকাটাকে অস্থিকার করেন নি। তিনি বলেছেন যে তারা সমভ্রান্ত পরিবার থেকে এসেছেন, তাই তাদের তো সোনা দানা অর্থ থাকবেই। তবে ইউনূসকে বিপদে ফেলে তিনি বলেছেন যে ঐ সোনা দানা নিয়ে আগুন লেগে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করুক ইউনূস সরকার। যে মহুর্তে ইউনূস সাহেব ভেবেছিলেন তিনি মোক্ষম চাল দিয়েছেন, এবার তিনি যমুনায় বিরাট করে সেলিব্রেশন করবেন, ঠিক সেই মহুর্তে হাসিনার এই বক্তব্য তার চাল দেওয়ার আগেই কিস্তি মাত করে দেওয়ার মত।












Discussion about this post