২০২৪ এর আগস্টের পাঁচ তারিখের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে গিয়েছেন। দলের সর্বোচ্চ নেত্রী তথা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কোনও রকমে পালিয়ে ভারতে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। একইভাবে তাঁর আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও ভারতের আশ্রয়ে। সে সময়ে বাংলাদেশের জনগণ ভেবেছিলেন, হাসিনার আমলে যারা দুর্নীতি ও অনাচার করেছিলেন তাঁদের বিচার হবে, শাস্তির আওতায় আনা হবে প্রত্যেককে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল, আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনার সমর্থক হলেই, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এমনকি বিচারের নামে দমন-পীড়ন নির্যাতন চলতে শুরু করে গোটা বাংলাদেশ জুড়ে। বাংলাদেশের জগগণ এটাও অবাক হয়ে দেখলো, মব সন্ত্রাস করে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। মুক্তিযোদ্ধাদের গলায় জুতার মালা ঝুলেছে বা তাঁদের মুখে কালি মাখিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষক-আমলা-সাংবাদিকসহ যে কোনও স্বাধীন পেশার মানুষ আওয়ামী লীগের সমর্থক হলেই তাঁরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। আরও পরে দেখা গেল, যারা এই অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করছেন, তাঁদেরই আওয়ামী লীগের সমর্থক বানিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে শুরু হল। আর শেখ হাসিনা এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার যাবতীয় রেকর্ড ছাড়িয়ে গেল ইউনূসের সরকার। বাংলাদেশের পুলিশ, প্রশাসন, আইন-আদালত এমনকি সেনাবাহিনীর মধ্যেও নিজেদের লোক ঢুকিয়ে দিয়ে আস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রের দখল নিয়ে নিল একদল কট্টর মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধী লোকজন।
শেখ হাসিনার বিচার চলছে বাংলাদেশে। এরমধ্যেই দুটি মামলার রায় হয়ে গিয়েছে। আরও অনেকগুলি মামলা চলমান। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচিত রায় হল, ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-একে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়। কিন্তু এই আদালতে হাসিনার বিচার আদৌ যুক্তিসঙ্গত কিনা, এই আদালত এমন রায় দিতে পারে কিনা, সেটা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে একাধিক মহলে। এমনকি বিদেশের বহু সংস্থাও এই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। একবার বিষয়টি জেনে নেওয়া যাক।
১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন প্রণয়নের সময় আন্তর্জাতিক আইনে সংজ্ঞায়িত কিছু অপরাধকে এখানে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল বলেই এই ট্রাইব্যুনালকে ‘আন্তর্জাতিক’ বলা হয়েছিল। এখন ওই আইনটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংশোধন করে মুহাম্মদ ইউনূস সরকার একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। কিন্তু এটা কি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড রক্ষা করেছে? এর উত্তরে প্রথমেই যে কথাটা বলা যায়, আন্তর্জাতিক আইনের রোম সংবিধিতে যা উল্লেখ আছে, তার মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অপরাধ নির্ণয় হয়। সেই রোম সংবিধির ৬৩ অনুচ্ছেদের বক্তব্য অনুযায়ী, আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার বিচার ও ফাঁসির সাজা হয়ে গেল খোদ আসামী এবং তাঁর পক্ষের কোনও আইনজীবীর অনুপস্থিতিতেই। যদিও রাষ্ট্রপক্ষ একজন আইনজীবী নিয়োগ করেছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও হাসিনার দাবি, তাঁরা আইনজীবী নিয়োগ করতে আবেদন করেছিলেন, কিন্তু কাউকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। যারা আবেদন করেছিলেন, তাঁদের ভয় দেখিয়ে, হুমকি দিয়ে মামলা থেকে দূরে রাখা হয়েছে বলেই দাবি আওয়ামী লীগের। আবার রায় ঘোষণার সময়ে ট্রাইব্যুনালে যেভাবে করতালি পরেছে, তাতে কি কথিত ট্রাইব্যুনালকে আন্তর্জাতিক মানদন্ডের বলে দাবি করা যায়? আবার মৃতের সংখ্যা সঠিক নির্ধারণ করতে পারেনি, কোনও মৃতের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ঠিকঠাক নেই, শেখ হাসিনার অডিও রেকর্ড আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পরীক্ষা করা হয়েছিল কিনা সেটা কেউ জানে না। প্রত্যহক্ষ সাক্ষী নেই, একমাত্র আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন রাজসাক্ষী দিয়েছেন। তাঁর মুখের কথাই কি এই বিচারের মানদণ্ড? প্রশ্ন অনেক, উত্তরও সবগুলোর নেই। তবুও এই রায় ঘিরে উচ্ছ্বাসে ভাসছেন ইউনূস বাহিনী। আবার অইনজ্ঞরা দাবি করছেন রাজসাক্ষীর শাস্তির বিষয়টিও বেশ হাস্যকর। আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ্ আল মামুনকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের কারাদন্ড মানে সাক্ষীকে সাজা প্রদান। এটি গুরুতর আইনি অনিয়ম। এমন নজির বিচারিক ইতিহাসে নেই। কারণ এটি বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫ এর ৪ উপধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা কোনও রায় না, এটা আসলে একটা ইস্যু। যার সাহায্যে বাংলাদেশের জনগণের নজর অন্যদিকে ঘুরিয়ে একের পর এক অপকর্ম করে যেতে পারে ইউনূস সরকার। এই রায় একদিকে ভারতবিরোধী বক্তব্য প্রদানের জন্য যেমন ইস্যু তৈরি করা, তেমনই জনগণকে এদিকে ব্যকস্ত রেখে দেশের বন্দর বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়া। আসলে হাসিনার বিরুদ্ধে কথিত রায় নামক একটি ইস্যু তৈরি করে বাংলাদেশকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিল মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। যার ফল ভোগ করবে পরবর্তী সরকার এবং সে দেশের জনগণ।
প্রকাশ্যে গুলি। একবার নয়, একাধিকবার। বলা হচ্ছে গুলি মাথার এফোঁড় ওফোঁড় করে বেরিয়ে গিয়েছে। যারা গুলি চালিয়েছে, তারা এসেছিল বাইকের...
Read more












Discussion about this post