গত বছর ৫ ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে। অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠিত হওয়ার পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে চলছে দেশ। এরমধ্যে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে আদেও নির্বাচন হবে কিনা, সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বাংলাদেশের বহু ব্যক্তিত্ব যেমন সাংবাদিক থেকে অনেকে বলছেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন তারা দেখছেন না। তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারছেন না। কারণ তার ফিরতে না পারাটা একক সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে না। এই ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে রাজনৈতিক বিষয়টি যখন অনেক জটিল করে তুলেছেন, ঠিক সেই সময় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলছেন, আর একটা অভ্যুত্থানের কথা। আরও একটা অভ্যুত্থান নাকি প্রয়োজন। সেই অভ্যুত্থানটা কার বিরুদ্ধে? বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের কথা বলছেন তিনি? যাকে তারা ক্ষমতায় বসালেন, সেই মুহাম্মদ ইউনূসকে টার্গেট করছেন নাহিদরা? আসলে কি বলতে চাইলেন তিনি?
বাংলাদেশে একটি অভ্যুত্থান হয়েছে প্রায় ১৬ মাস কেটে গিয়েছে। এরমধ্যে দেখা যাচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, বাজারদর নিয়ন্ত্রণের বাইরে। মব কালচার বাড়ছে। এরই মাঝে খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তারেক রহমান কেন দেশে ফিরতে পারছে না, সেটা নিয়ে গোটা জাতি উদ্বিগ্ন। তখন নাহিদ ইসলাম অভ্যুত্থানের কথা বলছেন। তিনি বলছেন, মানুষের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষিত হলে অভ্যুত্থান হতে পারে। শনিবার দুপুরে ঢাকার একটি হোটেলে অভ্যুত্থানের অনৈতিক আকাঙ্খা বিষয়ে এক আলোচনায় অংশ নিয়ে নাহিদ ইসলাম এই কথা বলেন। সেখানে তিনি বলেন, সামাজিক মূল্যবোধের পরিবর্তন না ঘটলে সংস্কার চেকসই কখওনই হবে না। সমাজ স্থিতিশীল হবে না। এমনটাই মন্তব্য করনে নাহিদ ইসলাম । তিনি বলেন, এখন আমরা সমাজের যে ফ্যাসিবাদ রয়েছে, তার নানা ধরণের আলামত দেখতে পাচ্ছি। সামাজিক ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটলে বিদেশী বিনিয়োগকারী বা বিদেশী পুঁজিও আসবে না। দেশ স্থিতিশীলতার দিকে যাবে না। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন। তিনি জানান, আমাদের যেমন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা লাগবে, সুশাসন বাগবে, একইভাবে সামাজিক স্থিতিশীলতা লাগবে। এমনকি সংস্কার, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন…চীনের এই নীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশে টেকসই অর্থনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। শেষে তিনি বলেন, বৈষম্য দূরীকরণে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে সেভাবে সংস্কার করতা পারলে আমাদের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্কা পূরণ হবে। সেই আকাঙ্খা পূরণ না করে সেটাকে কোনোরকমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে অভ্যুত্থানের শক্তি বারবারই রাজপথে নামবে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, জুলাই যোদ্ধারা গোটা দেশকে স্বপ্ন দেখিয়েছিল, দেশে স্থিতিশীলতা ফিরবে। কিন্তু আদেও কি ফিরেছে স্থিতিশীলতা? কেন তারা লাগাম টানতে পারছে না মব কালচারের? উল্টে জুলাই যোদ্ধারাই মব করছে। প্রশাসন সরকার, তারাই তো গঠন করেছে। সময় পেয়েছে দীর্ঘ। তারপরও কেন দেশের এমন করুণ পরিস্থিতি? এই প্রশ্নের সন্মুখীন তো হতে হবে নাহিদ ইসলামদের। তিনি যে ব্যর্থতার কথা বলছেন, তাতে তাদের দায়ও এড়িয়ে যাওয়া যায় না। আর কার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের কথা বলছেন নাহিদ? এই বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে? তাহলে তো দেশ আরও বিশৃঙ্খলার দিকে এগিয়ে যাবে। বলছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বরং যাতে আগামী ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচন সুষ্ঠভাবে হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত জুলাই যোদ্ধাদের।












Discussion about this post