গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এমনকি ভারত বিরোধীতা চরম আকার ধারণ করে ওপার বাংলায়। এদিকে ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়। তারমধ্যে অন্যতম ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তি বাতিল। এবার খবর, বাংলাদেশ থেকে সড়কপথে ভুটানের পণ্য আটকে দিল ভারত। তবে এখন প্রশ্ন, ভারত কি বাংলাদেশের জন্য ভয়ানক কিছু পরিকল্পনা করছে? এই ঘটনার পর অনেকে বলছেন, ইউনূস সরকারের ভবিষ্যতের জন্য ভয়ানক সংকেত।
বাংলাদেশের সড়ক পথ ব্যবহার করে ভারতের ভিতর দিয়ে ভুটানকে বর্ণ নেওয়ার অনুমোদন দেয়নি ভারত। তাই থাইল্যান্ড থেকে আসা জাহাজে করে ভুটানের কিছু পণ্য বুড়িমারী স্থলবন্দরে আটকে দেয় ভারত। জানা গিয়েছে, ব্যাংককের আবিত ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড আর ২৮ সেপ্টেম্বর ভুটানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আবেগ ট্রেডিং এর জন্য স্বধরনের পণ্য কন্টেইনারে পাঠায়। থাইল্যান্ডের ল্যাম চ্যবাং বন্দর থেকে পাঠানো ওই চালান ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে এসে পৌঁছায়। এরপর বুড়িমারীর স্থলবন্দরের ইয়াডে কন্টেনারটি আনা হয়। তবে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে সড়ক পথে ভারত হয়ে ভুটানের ট্রানশিপ প্রিন্ট এর বর্ণ যেতে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ওই স্থলবন্দর পায়নি। যেহেতু চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর অনুমোদন পায়নি, তাই সেখানেই আটকে রয়েছে ভুটানের ট্রান্সশিপমেন্টের পণ্য।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে ২২ শে মার্চ বাংলাদেশ ভুটানের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়। এর এক বছর পরে ২০২৪ সালের এপ্রিলে ভুটানের আয়োজিত দুই দেশের বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়, বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দর ও সড়ক পথ এবং ভারতের সড়ক পথ ব্যবহার করে ভুটানে ট্রান্সশিপমেন্ট চালান পাঠানো হবে। আর সেই সিদ্ধান্ত মেনে বুড়িমারী স্থলবন্দরে পাঠায় চট্টগ্রাম বন্দরে আসা প্রথম কন্টেইনারটি। তবে ওই চালানটি ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে প্রবেশ করতে গেলে আটকে দেয় ভারত।
চলতি বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে ট্রান্সসিপমেন্ট চুক্তি বাতিল করে দিয়েছে ভারত। আর এতে বিপদে পড়েছিল বাংলাদেশ। কারণ বিভিন্ন দেশে পণ্য আমদানি-রফতানি ভারতের মাটিকে ব্যবহার করে করত বাংলাদেশ। আর তাতেই সুবিধা হত বাংলাদেশের। কিন্তু সেই চুক্তি ভারত বন্ধ করে দেয়। এক্ষেত্রেও ভূটানের পণ্য আটকে দিল ভারত। এখনও পর্যন্ত যা খবর, তাতে ভারত স্থলপথে অনুমতি না দিলে বিমানে করে নিয়ে যেতে হবে পণ্য। কিন্তু তাতে খরচ পড়ে যাবে আকাশছোঁয়া। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্প্রতি ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং একটি মন্তব্য করেছেন। তিনি মুহাম্মদ ইউনূসকে কথা বলার সময় সতর্কতা গ্রহণের কথা জানান। অর্থাৎ যেভাবে দিনে দিনে বাংলাদেশের মাটিতে ভারত বিরোধীতা বাড়ছে, তাতে ভারত কঠর হতে বাধ্য হচ্ছে। বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারকে ধারেভারে বুঝিয়ে দিচ্ছে, ভারত চাইলে অনেক ক্ষেত্রেই বিপদে পড়তে পারে মুহাম্মদ ইউনূসের দেশ। অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারের তরফে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতকে চিঠি দিয়েছে তারা। ভারত জানিয়েছে, সেটা পরীক্ষা করে দেখছে। এরমধ্যে ভারত যে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক চাইছে, সেটা পরিষ্কার। এমনকি কাতারের দোহাতে খলিলুর রহমান যে উড়ে গিয়েছিলেন, সেখানে বিভিন্ন দেশ থেকেও নাকি চাপ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। ফলে সবমিলিয়ে বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারের পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন। এদিকে ভারত ট্রান্সসিপমেন্টের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিল, তাতেও বিপদে বাংলাদেশে। এখন দেখার, এরপরও বাংলাদেশ পাকিস্তান প্রীতি বাড়িয়ে আর কতদূর এগোতে পারে ভারত বিরোধীতা করে!












Discussion about this post