পরশি দেশ সবুজে ঘের, আকাশে বাতাসে এক আনন্দের অনুভূতি নিয়ে গর্জে উঠতো ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ধ্বনিতে। হাসিনার আমলে ভারত এবং বাংলাদেশ ছিল মোরা একই বৃন্তে দুইটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান। ভারতের আম বাংলাদেশের ইলিশ ছিল যেন এক মেলবন্ধনের আরেক নাম। আজ তা ইতিহাস।পদ্মা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গেছে ২৪ শে পাঁচই আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ছেড়ে হাসিনাকে আশ্রয় নিতে হয়েছে ভারতের কাছে। এবং সে দেশে বর্তমানে রাজত্ব চালাচ্ছে মৌলবাদে বিশ্বাসী মুহাম্মদ ইউনূস এবং যার রাজত্বে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুরাও আতঙ্কিত। ভাঙা হচ্ছে একের পর এক হিন্দু মন্দির সাথে চিন্ময় প্রভুর দিনের পর দিন কারাগারে পড়ে থাকা এসবেরই উত্তর দেয় কোন নীতিতে বাংলাদেশ চালনা করছেন ইউনূস অন্যদিকে সন্ত্রাস যেন আজ বাংলাদেশের জলভাত হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার থেকেও বড় বিষয় যে ভারতের জন্য পূর্ব পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশের জন্ম সেই ইতিহাস মুছতে বসেছে ইউনূস। এমনকি সেই বন্ধু ভারতের হাত ছেড়ে সন্ত্রাসের ভরসা করে চলা পাকিস্থানের হাত ধরে এগোচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা। কিভাবে হাসিনা সহ ভারতের পিছনে খোঁচা দিয়ে দেওয়া যায় তা আজ ইউনূসের স্বপ্নের মহীয়সী নারী রূপে বারংবার ধরা দিচ্ছে।
২০০৯ সালে বাংলাদেশের পিলখানায় সেনা সদর দফতরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৭৪ জনের মৃত্যু হয় সেই সময়। আর সেই বিষয় নিয়ে বর্তমানে ইউনূসের গড়ে দেওয়া তদন্ত কমিশন এক বিরাট দাবি করে বসলেন। তাদের মতে সেই ঘটনায় ভারতের যোগ ছিল। ছিল শেখ হাসিনারও সবুজ সঙ্কেত ছিল। বর্তমান বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তার ভয়ংকর অভিযোগ এনে তিনি কি আবারও হাসিনাকে পাওয়ার এক গভীর চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছেন?পিলখানা বাংলাদেশের রাইফেল্সের সদর দফতরে ২০০৯ সালে যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল গতকাল অর্থাৎ রবিবার তার তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশিত করেছে ইউনূস সরকার। এই ঘটনার তদন্ত চেয়ে বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসার পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করেছিলেন। গত ১১ মাস ধরে তারা তদন্ত করেছে এবং গতকাল অর্থাৎ রবিবার রিপোর্ট জমা দিয়েছে ইউনূসের দফতরে। এখানেও হাসিনার সাজা দেওয়ার আদালত ট্রাইবুনালের মতনই ইউনুস নিজেই নিজের চাহিদা মেটাতে কমিশন গঠন করছে এবং নিজের পছন্দময়ী রিপোর্টিং সেই কমিশন ইউনূসের হাতে জমা দিচ্ছে। সেই রিপোর্টের দাবি- ১৬ বছর আগের সেই ঘটনায় ভারতেরও হাত ছিল। শুধু তাই নয় এই বিষয়ে ভারত সরকারের কাছে জবাব চাওয়ার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন।ইউনূসের কমিশনের রিপোর্টে ২০০৯ সালের ঘটনায় দায়ী করা হয়েছে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা ও কর্মী বৃন্দকে। তদন্ত রিপোর্টের দাবি হাসিনার সবুজ সঙ্কেতেই ওই ঘটনা ঘটেছিল। নেপথ্যে মূল কান্ডারি ছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস।
এখন প্রশ্ন ঠিক কী ঘটেছিল ১৬ বছর আগের অভিশপ্ত সেই দিনে? কী ভাবে তার সঙ্গে ভারতের যোগ ছিল বলে দাবি করছে বর্তমান ইউনূস রাজত্বের ঢাকা?
প্রসঙ্গত ২০০৯ সালের ঘটনা বাংলাদেশে পিলখানা হত্যাকাণ্ড নামে পরিচিত। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বর্তমানে যারা পরিচিত বিজিবি নামে আগে তা ছিল বাংলাদেশ রাইফেল্স। এই আধাসামরিক বাহিনীর উপর মূলত বর্ডার রক্ষার ভার ছিল। ২০০৯ সালে বিডিআর-এর একাংশের সদস্যেরা বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। মূলত তাদের দাবি ছিল শীর্ষ নেতৃত্বের বদল এবং সেনার সঙ্গে সমানাধিকার নিয়োগ। সেই সময় বিদ্রোহ আগুনে জ্বলছে বিডিআর বাহিনী তারা পিলখানার সদর দফতর দখল করে নেয় এবং বেশ কিছু শীর্ষ সেনাকর্তাদের হত্যা করে। বিদ্রোহের আগুন এতটাই ছিল যে ২৫ এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি টানা দু’দিন ধরে চলে হত্যালীলা।
শুধু তাই নয় তৎকালীন বিডিআর-এর ডিরেক্টর জেনারেল শাকিল আহমেদকে সদর দফতরের ভিতরেই গুলি করে খুন করা হয়। তাঁর পরিবারকেও নিশানা করেছিলেন বিদ্রোহী বিডিআররা। দাবিদাওয়া আদায়ের জন্য অনেক সেনাকর্তাকে পণবন্দি করা হয়েছিল। তাঁদের উপর নৃশংস অত্যাচার হয় এই টানা দুদিন। তা বাংলাদেশের ইতিহাসে পিলখানা হত্যাকাণ্ড নামে পরিচিত।সেই পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন সেনাকর্তা-সহ মোট ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল যা পড়ে সরকারি ভাবে প্রকাশ করা হয়। সেই সময় ২০০৯ এর প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত অস্ত্র ছেড়ে আত্মসমর্পণ করেন অধিকাংশ বিদ্রোহী বিডিআর সদস্য। হাসিনা সরকারিভাবে প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন খুন ও নৃশংসতার সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁরা ছাড়া বাকি বিদ্রোহীদের ক্ষমা করে দেওয়া হবে। ঢাকা আদালতে এই সংক্রান্ত বিচার চলেছে দীর্ঘ দিন যাবত। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর আদালত পিলখানা হত্যাকাণ্ডে বহু মানুষকে দোষী সাব্যস্ত করে। শুধু তাই নয় অবাক করা এই রায়ে মৃত্যুদণ্ডে দন্ডিত করা হয়েছিল ১৫২ জনকে। ১৬১ জনকে দেয়া হয়েছিল আজীবন কারাবাসের আদেশ। এ ছাড়া, আরও ২৫৬ জনকে তিন থেকে দশ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। মুক্তি দেওয়া হয়েছিল ২৭৭ জনকে। যদিও ঢাকার আদালতের এই বিচারপ্রক্রিয়াকে ‘অস্বচ্ছ’ এবং ‘প্রতিশোধমূলক’ বলে অভিযোগ করেছিলেন কেউ কেউ। রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টেও তেমন দাবি উঠেছিল। সেই সময় ২০০৯ সালে ভারতে ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেসের সরকার।আর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মনমোহন সিংহ।
বর্তমানে শাসনের সিংহাসনে বসে ইউনূসের নিযুক্ত কমিশনের রিপোর্টে বলা হচ্ছে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ভারতের সরাসরি যোগ ছিল। এর থেকেও বড় দাবি করে বলেন বাংলাদেশের সেনাকে দুর্বল করে দিতে চেয়েছিল ভারত সরকার।কারণ তৎকালীন বাংলাদেশের বিডিআর আন্দোলন থেকে ভারত মুনাফা লুটেছে। প্রতিবেশী বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চেয়েছিল ভারত এবং সেনাবাহিনী ও বিজিবি-কে দুর্বল করতে চেয়েছিল। যদিও বক্তব্যের সপক্ষে কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেননি ফজলুর রহমান।
এই নিখোঁজ হওয়া ৬৭ জনের খোঁজ নিতে ইউনূস সরকারকে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে এই তদন্ত কমিশন। ভারতের তরফে এ বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ২০০৯ সালের ঘটনা নিয়ে নয়াদিল্লিকে কোনও চিঠি ঢাকা দেবে কি না, তা-ও এখনও স্পষ্ট নয়। আর এরই মধ্যে মোহাম্মদ ইউনূসের এই পিলখানা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি হাসিনার পাশাপাশি ভারতকে যুক্ত করে দেওয়া রাজনৈতিক মহল ইউনূসের এক অন্যরকম চক্রান্তের স্বাদ পাচ্ছে।
প্রকাশ্যে গুলি। একবার নয়, একাধিকবার। বলা হচ্ছে গুলি মাথার এফোঁড় ওফোঁড় করে বেরিয়ে গিয়েছে। যারা গুলি চালিয়েছে, তারা এসেছিল বাইকের...
Read more












Discussion about this post