সালটা ২০০৭ সেই সময় রাজনীতির ময়দানে মাঠ কাঁপা ছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তৎকালীন সময়ে হাসিনার পদক্ষেপে বড় সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন বাংলাদেশের শিল্পপতিরা। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল খালেদা জিয়া পুত্র তারেক রহমান। শিল্পপতি সরকার চাপা উত্তেজনায় ২০০৭ এ গ্রেপ্তার হতে হয়েছিল তারেক রহমানকে দীর্ঘ এক বছরের বেশি কারাবাস যাপন করার পর ২০০৮ এর ১১ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেয়ে দেশছাড়া হয়েছিল মিস্টার তারেক রহমান। তারপরে পদ্মা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গিয়েছে সেই হাসিনাই এখন বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতের আশ্রয় রয়েছে এবং বাংলাদেশ শাসনে একের পর এক চাল চেলে যাচ্ছেন শান্তিতে নোবেল প্রাপ্ত মুহাম্মদ ইউনূস। বর্তমানে মাস কয়েক আগেই চিকিৎসার জন্য মা খালেদা জিয়াকে বিদেশে ডেকে এনেছিলেন তারেক। তারেক বাংলাদেশ থেকে ভৌগলিক ভাবে দূরত্ব বজায় বরাবরই রেখে চললেও বিএনপি’র সাথে বরাবর যোগাযোগ রেখে চলেছেন। বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখন বদলে গিয়েছে। সেই ২০১৭ তে ছেড়ে আসা বাংলাদেশের পরিস্থিতি আবারো আগের মতোই উদ্বেগজনক।
শুধু একটাই তফাৎ। বর্তমান উপদেষ্টার সরকার তারেকের অনুকূলে প্রবাহ করছেন । কিন্তু তারপরেও বাংলাদেশের ফিরছে না কেন তারেক রহমান? শনিবার অন্তর্বতী সরকার স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে তারেক রহমানকে নিয়ে কোনও অসুবিধা নেই তাঁদের। বরং এক ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মোঃ ইউনূস।
এদিন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘তারেক রহমান এখনই দেশে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তাঁর হাতে এবং একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। সরকারের তরফে এ বিষয়ে কোনও বাধা বা আপত্তি নেই।’ কিন্তু হঠাৎ করে এই বার্তার যৌক্তিকতা কী? গত রবিবার থেকেই বেশ অসুস্থ বিএনপির প্রধান খালেদা জিয়া।কিন্তু মা অসুস্থ থাকলেও দেশের ফেরার প্রসঙ্গে মৌনতা পালন করছেন পুত্র তারেক। তবে সম্প্রতি নিজের সোশাল সাইডে তিনি লিখেছেন, ‘এমন সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্খা যে কোনও সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মতো সেটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাঁর একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ আমার নেই। আর এই বিষয়ে নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার অবকাশও নেই।’এরপরে পরেই বাংলাদেশ উপদেষ্টা তরফে প্রেস বিজ্ঞপ্তি করে তারেককে ফেরার আহ্বান জানানো বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। অবশ্য সরকারের তরফে এই নিয়ে কোনও বাধা নেই বলেই স্পষ্ট করে দিলেন প্রেস সচিব।এরই মধ্যে লাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। একাধিক জটিল রোগ নিয়ে বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডায়াবেটিস, কিডনি-জনিত সমস্যা, ফুসফুস ও চোখের সমস্যায় ভুগছেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। কিন্তু তা সত্ত্বেও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত ব্যাখ্যার সুযোগ সীমিত বলেও উল্লেখ করেন তারেক রহমান।
গত ২৩ নভেম্বর শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। বিএনপি নেত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনায় তাঁর দল বাংলাদেশ জুড়ে প্রার্থনা সভার আয়োজন করেছে। পাশাপাশি, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসও তাঁর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে প্রার্থনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তারেক রহমান তার পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে খালেদার আরোগ্য কামনায় দোয়া অব্যাহত রাখার জন্য ঐকান্তিক অনুরোধ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
এখন সর্বশেষ দেখার বিষয় যখন হাসিনার সাজার ঘোষণার পর বাংলাদেশের উত্তপ্ত পরিস্থিতি আর সেই মুহূর্তেই তারেককে নিয়ে ইউনূসের ‘মাখোমাখো’ ব্যবহার আদৌ এই জল কোন দিকে এগোয়।












Discussion about this post