যে কোনও দেশের সেনাবাহিনীকে শ্রদ্ধা এবং সম্ভ্রমের চোখে দেখা হয়। হাসিনা আমলে বাহিনীর প্রতি দেশবাসীর যে শ্রদ্ধা ছিল, যে বাহিনীকে তাঁরা সম্মানের চোখে দেখতেন, সেই বাহিনী এখন দেশবাসীর কাছে হয়ে উঠেছে খলনায়ক। সৌজন্যে তদারকি সরকার প্রধান। রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে মানুষ তাদের যেভাষায় গালিগালাজ করছেন, তা সাম্প্রতিক অতীতে দেশে কোনওকালে হয়েছিল কি না, তা কেউ বলতে পারছে না। জেনারেল ওয়াকার এখন বুঝতে পেরেছেন তিনি কী ভুল করেছেন। গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে তিনি ইউনূসের কথায় চলে বাহিনীর মান সম্মান তো গিয়েছে, বাহিনীর মনোবল কার্যত তলানিতে ঠেকেছে। যে সরকারকে তার বাহিনী ক্ষমতায় বসিয়েছিল, সেই সরকারের তরফে কোনও সেফ গার্ড দেওয়া হয়নি। উলটে বাহিনীর বিরুদ্ধে যাতে আরও বেশি করে বিষোদগার করা যায়, তার রাস্তা প্রশস্ত করেছেন।
ওয়াকারের হাতে আর খুব বেশি সময় নেই। তাঁর অবসরের দিন এগিয়ে আসছে। বাহিনীর হৃত মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন ওয়াকার । তার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গত ১ নভেম্বর তিনি বাহিনীর আরও দুই প্রধানকে নিয়ে যমুনায় তদারকি সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, যমুনায় হওয়া ওই বৈঠকে স্থলসেনাপ্রধান জানিয়ে দিয়েছেন, বাহিনীর ৫০ শতাংশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হবে। ফেব্রুয়ারির পর বাহিনী আর রাস্তায় থাকবে না। আর এই নিয়ে মহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে শুরু হয়েছে তাঁর দরকষাকষি। ওয়াকার চাইছেন বাকি সেনাসদস্যরা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাস্তায় থাকুক। সেনা সদর থেকেও সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যম থেকে দাবি করা হয়েছে, সেনাপ্রধান ইউনূসকে জানিয়ে দিয়েছেন, মাসের পর মাস নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করা বাহিনীর পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। তাঁর এই বার্তায় ইউনূস পড়েছেন চাপে। কারণ, তিনি জানেন বাহিনী তাঁর পাশে না থাকলে তিনি একচুলও এগোতে পারবেন না। পাশাপাশি ৫০ শতাংশ সদস্য ইতিমধ্যে ব্যারাকে ফিরে গিয়েছে। বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা। এই ক্ষমতা খালেদা জিয়ার আমলেও বাহিনীকে দেওয়া হয়েছিল। তখনকার পরিস্থিতি ছিল অন্যরকম। জিয়ার পক্ষে দেশ শাসন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি সেই সময় বাহিনীর হাতে তুলে দেন ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার। বর্তমান তদারকি সরকার প্রধানও ওয়াকারের হাতে সেই ক্ষমতা দিয়েছে। কিন্তু গত এক বছরে দেখা গেল বাহিনী একপ্রকার নিষ্ক্রিয়। অস্বাভাবিক হারে বেড়েছ চাঁদাবাজি। বেড়েছে নানাবিধ অসামাজিক কার্যকলাপ। হিংসাশ্রয়ী ঘটনা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া চলছে। সেই সব দৃশ্য দেখে বাহিনী ভয় পেয়ে গিয়েছে। তারা নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত। অথচ তাদের হাতে রয়েছে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার।
বাহিনীর কাছে একটা বিষয় স্পষ্ট। আর তা হল তাদের দিকে যতই গালিগালাজ ধেয়ে আসুক না কেন, ইউনূস বা তাঁর সরকারের সেই সব গালিগালাজ, কটু মন্তব্য বন্ধ করার কোনও ক্ষমতা নেই। কারণ, তাঁর আমলে বাহিনীকে কদর্য ভাষায় গালিগালাজ দেওয়ার একটি ব্ল্যাংক চেক দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাহিনীর সম্মান এখন তাঁকেই বাঁচাতে হবে। তাই, এবার জেনারেল ওয়াকার পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছেন। সেই পদক্ষেপের প্রথম ধাপ ৫০ শতাংশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে নেওয়া।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post