লালকেল্লায় বিস্ফোরণের পর থেকে নাকি পদ্মাপারে যমুনা ভবনের বাসিন্দার শরীর নাকি বেশ অস্থির অস্থির করছে। দিল্লিতে কী হচ্ছে, সাউথব্লকের তরফ থেকে কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে, সীমান্তে ভারতীয় সেনা কী করছে তার মিনিটস টু মিনিটস রিপোর্ট নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং অমিত শাহ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই নাশকতার সঙ্গে যে বা যারা জড়িত থাকুক না কেন, তাদের কাউকে রেয়াত করা হবে না।
বুধবারের একটি খবরে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের খইপুর তামেওয়ালিতে লেট একটি সমাবেসের আয়োজন করে। সেই সমাবেশের প্রধান অতিথি ছিলেন সইফুল্লা সইফ। তিনি জানিয়ে দেন, বাংলাদেশে লস্কর-ই-তৈবি রীতিমতো সক্রিয়। অপারেশন সিঁদুরের সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। প্রশ্ন উঠছে দিল্লির হামলার সঙ্গে বাংলাদেশ কি কোনওভাবে জড়িত? সময় আসেনি সেই সিদ্ধান্ত উপনীত হওয়ার। সাউথব্লক থেকেও কিন্তু এই নিয়ে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত এই হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে যাদের ধরা হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকের সঙ্গে বাংলাদেশের একটা যোগ সূত্র পাওয়া গিয়েছে।
হামলার সঙ্গে বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কি না, সেটা সরাসরি না বলে কয়েকটি দৃশ্য বা ঘটনাবলীর অবতারণা করা যাক। ইউনূস ক্ষমতায় বসার আগে ভারতের উদ্দ্যেশে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। সেই হুঁশিয়ারির পিছনে সাউথব্লকের কোনও প্ররোচনা ছিল না। নোবেল ম্যান বলেছিলেন, ভারত বাংলাদেশ আক্রমণ করলে পালটা জবাব মিলবে। সেই জবাবের হাত থেকে রেহাই পাবে না কলকাতা। সেই থেকে শুরু। থামার কোনও লক্ষণ নেই। এর পর চিনে গিয়ে ভারতের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে দিয়েছেন জ্বালাময়ী ভাষণ। চিনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। সম্পর্ক তৈরি করেছেন পাকিস্তানের সঙ্গেও।
একটা ঘটনা বা একটি দৃশ্য কিন্তু আমরা কোনওভাবেই এড়িয়ে যেতে পারি না। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করার পাশাপাশি সে দেশের সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় পদমর্যাদার অফিসার জেনারেল সাহির শামসাদ মির্জা বাংলাদেশ গিয়েছিলেন। ইউনূস সরকার তাঁর হাতে একটি বই উপহার দেন। যে বইয়ের প্রচ্ছদে একটি বিকৃত মানচিত্রের ছবি আঁকা হয়েছে। দেখানো হয়েছে ভারতের উত্তর-পূর্বের বেশ কিছুটা অংশ তাদের। তার মধ্যে সেভেন সিস্টার্স রয়েছে।
দিল্লিতে বিস্ফোরণ হল কিন্তু সেই সাক্ষাতের পর। ইতিমধ্যে কিন্তু ভারতীয় সেনার গোয়েন্দাদের এক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ গিয়েছিল। বৈঠক করে সেনাপ্রধান ওয়াকারের সঙ্গে। তাঁর হাতে তুলে দেয় বেশ কিছু নথিপত্র। যে নথিপত্রে দেখানো হয়েছে পাকিস্তানের আইএসআইয়ের মদতে সীমান্তে তৈরি হয়েছে একাধিক জঙ্গি শিবির। বাহিনীর তরফ থেকে কিন্তু বাংলাদেশ সেনাপ্রধানকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সীমান্তে থাকা ওই সব জঙ্গি শিবির যেন অবিলম্বে নিষ্ক্রিয় করা হয়। তদারকি সরকার কি সেই সব শিবির গুঁড়িয়ে দিয়েছে? তদারকি সরকার থেকে কিন্তু এই ব্যাপারে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। এমনকী ভদ্রতা করে বাংলাদেশ সরকার কিন্তু দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে একটি শব্দ খরচ করেনি। হামলায় যাদের মৃত্যু হয়েছে, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা ন্যূনতম একটি সৌজন্য। সেই সামান্য সৌজন্যটুকু দেখানোর প্রয়োজন বোধ করেনি ঢাকা। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কী দিল্লির হামলার পিছনে তাদের প্রত্যক্ষ মদত ছিল? বা ঢাকা চেয়েছে এবং এখনও চাইছে ভারতকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ায় অশান্ত হয়ে উঠুক। উত্তর দেবে সময়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post