যে জামায়াতে যুদ্ধপরাধে অভিযুক্ত, সেই জামায়াত এখন খেল দেখাতে শুরু করেছে। তারা একটি সংগঠিত শক্তি। জামায়াত যদি পূর্ণ শক্তিতে মাঠে নামতে শুরু করে তাহলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব প্রশ্নের মুখে পড়ে যাবে। দলের শীর্ষ নেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ভারতকে হুমকির সুরে জানিয়েছে, ভারত যদি বাংলাদেশ সেনাকে নিয়ে দেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে তাহলে তারা পবিত্র যুদ্ধেও যেতে প্রস্তুত। তাহের এটাও জানিয়েছে, ভারতের বিরুদ্ধে লডা়ই করতে সে দেশের ৫০ লক্ষ তরুণ প্রস্তুত। তারা তাদের প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ঠিক যেমনটা হয়েছিল ৭১-য়ের মুক্তিযুদ্ধে।
বাংলাদেশের ভিতরে ও বাইরে তাদের নিয়ে একটা বড় ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত বছর পালাবদলের পর থেকে এই প্রশ্নটা উঠতে শুরু করে। বাংলাদেশ কি ধীরে ধীরে একটি ইসলামিক মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হতে চলেছে? বাংলাদেশের প্রথম সারির দৈনিকে তো বটেই নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতো প্রথম সারির দৈনিকে তাদের নিয়ে খবর তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বাংলাদেশকে পুরোপুরি হাতের তালুর মধ্যে বন্দী করতে চলেছে। তারা ইসলামপন্থী অন্যদলগুলিকে কাছে টেনে একটা নেতিবাচক ফোর্স তৈরি করছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এখন আর বিএনপি আর আওয়ামী লীগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আওয়ামী লীগ অনুপস্থিতি এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনীতির দূর্বল অবস্থার তারা সুযোগ নিতে শুরু করেছে। ইসলামপন্থী এই জোটকে মাঠ দখলের সুযোগ করে দিয়েছে। বিএনপির তাদের এই চাপ সামাল দিতে পারছে না। এই চাপ শুধু রাজনৈতিক নয়, এই চাপের মধ্যে রয়েছে জঙ্গিবাদী মনোভাব, আছে ক্ষমতা দখলের স্পষ্ট উচ্চাশা। কার্যত তারা বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ করছে। তারা একটি আন্দোলন মঞ্চ তৈরি করতে চাইছে।
এই প্রথম সংগঠনের পক্ষ থেকে হুমকি বার্তা দেওয়া হল তা নয়। ফেব্রুয়ারিতে জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকূর রহমান বলেন, ‘’আমরা আমাদের অস্তিত্ব অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছি। এই জাতির অস্তিত্ব পাওয়ার লড়াই শুরু করতে হবে। এটি হচ্ছে মর্যাদার লড়াই। এই লড়াইয়ে আমরা বিজয়ী হলে আল্লাহ তা’আলা জনগণকে একটা মানবিক বাংলাদেশ দিবে। সেই মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের আপোষহীন সংগ্রাম ও লড়াই অব্যাহত থাকবে।’’
তাঁকে এও বলতে শোনা যায়, ক্ষমতায় গিয়ে আমরা মানুষের ওপর ছড়ি ঘোরাব না। ক্ষমতার গরম দেখাব না। নিজের কপাল অবৈধভাবে বড় করার চেষ্টা করব না। এটা আমাদের ইচ্ছাও নেই। ভালোবাসার জায়গা থেকে যে মানুষটা মানুষের কাছে শ্রদ্ধার উপযুক্ত সে শ্রদ্ধা পাবে। ভালোবাসা পাওয়ার যে যোগ্য সে ভালোবাসা পাবে। আর যেখান থেকে অত্যাচারের খবর আসবে আমাদের সংগঠন ঝাঁপিয়ে পড়বে।
এদিক, বিএনপি জানিয়ে দিয়েছে, ভোটে জামায়াতের সঙ্গে তাদের জোটের কোনও সম্ভাবনা নেই। তারা অর্ধেক আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। খুব শীঘ্রই তারা সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে।
সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিকল্প নেই শীর্ষক আলোচনাসভা দলের শীর্ষ নেতা হাফিজউদ্দিন এই বক্তব্য পেশ করেন। তিনি বলেন, অগাস্ট আন্দোলনে মিত্র দলগুলির জন্য অর্ধশত আসন দল ছাড়তে রাজি আছে বলেও উল্লেখ করেন। হাফিজের অভিযোগ, জনগণের রায়কে জামায়াত ভয় পায়। ইউরোপ-আমেরিকা থেকে আসা কিছু বুদ্ধিজীবীর পরামর্শে দু-একটি রাজনৈতিক দল কোনও নির্বাচনী ব্যবস্থা চাপিয়ে দিতে পারে না।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post