আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তার আগে উত্তপ্ত বাংলাদেশ। যমুনার সামনে সরকারি কর্মচারীরা পে স্কেলের দাবিতে জমায়েত হন। বিক্ষোভ শুরু করেন। যা থেকে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হয়। এরপর যমুনার অভিমুখে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যাওয়ার চেষ্টা করে। ফের রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হয়। দফায় দফায় কার্যত ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হল। সাংবাদিকরা আহত হন। বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ আহত হন। অন্যদিকে জামাতের জয়েন্ট সেক্রেটারির হাসপাতালে ছুটে যাওয়া। নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর নতুন করে ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা সংসদ পদপ্রার্থী হয়েও। যেগুলি একাধিক ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে শাহবাগে আবার সমবেত হওয়ার চেষ্টা চলছে। একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। হঠাৎ করে নির্বাচনের প্রাক্কালে এই পরিস্থিতি কেন তৈরি হল বাংলাদেশে? কি বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং সালাউদ্দিন আম্মার তারা আহত হয়েছেন। জাবেরের পায়ে রাবার বুলেট লেগেছে। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়। তবে প্রশ্ন উঠছে, যমুনা কেন বারবার টার্গেট হচ্ছে? এই মুহূর্তে দেশের স্পর্শকাতর এলাকার মধ্যে অন্যতম যমুনা। সেখানে বারবার আন্দোলন কেন? শুধুই কি প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য? নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে? অদ্ভুতভাবে আন্দোলনকারীরা বারবার…. হয় বঙ্গভবন, না হলে ক্যান্টনমেন্ট, আর না হলে যমুনার সামনে আন্দোলন করছে। হাদির মৃত্যুর তদন্ত যেন জাতিসংঘ করে। সেই দাবি নিয়ে মূলত আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ শুরু করে যমুনার সামনে। এরমধ্যে সরকার জানিয়েছে, তাদের দাবি মানা হবে। কিন্তু তারপরও কেন এই বিক্ষোভ?
হাতে গুনে পাঁচ দিন বাকি নির্বাচনের। এরমধ্যে সরকারি কর্মচারীরা কেন এত আক্রমনাত্মক হল? কেন ইনকিলাব মঞ্চ হঠাৎ করে জাতিসংঘের তদন্ত চাইছে? তবে কি তারা বুঝে গেল, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বিষয়গুলিতে এতদিন কোনও কাজ করেনি? নাকি অন্য কোনও পক্ষ থেকে উস্কানি রয়েছে?
এদিকে বিএনপি বলছে, নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিমধ্যেই সরকারি কর্মচারী, ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলন প্রকাশ্যে এসেছে। যেখানে স্লোগান দেওয়া হচ্ছে, কিসের নির্বাচন, আগে হাদি খুনের বিচার হোক। কিসের নির্বাচন, আগে পে স্কেল হোক। অর্থাৎ কোথাও গিয়ে নির্বাচন কেন্দ্রিক একটি যোগাযোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এদিকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন মন্তব্য করেছেন, আরও দুঃসময় আসতে পারে। তবে কি তিনি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিচার করে এই মন্তব্য করলেন? তবে এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না, যে আরও দুঃসময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তরফে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে, ইনকিলাব মঞ্চের উপরে কোনও ধরনের কোনও সহিংস আচরণ করা হয়নি পুলিশের পক্ষ থেকে। যখন জাবের গুলিবিদ্ধ হন, তখন এই রকম একটি বিজ্ঞপ্তি দেয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। ডিএমপি জানায়, জন শৃঙ্খলা রক্ষা, ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা এবং তার সংলগ্ন এলাকায় যে কোনও ধরনের জমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন থাকা সত্বেও একাধিক গোষ্ঠী পুলিশের বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য, পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছোঁড়ে। জলকামান ছোঁড়ে। অর্থাৎ পুলিশ কোনওরকম গুলি চালায়নি বলে তারা দাবি করে। তবে জাবের কিভাবে আহত হলেন? কাদের ছোঁড়া গুলিতে তিনি আহত হলেন? তবে কি পুলিশকে বিতর্কিত করার জন্য এই কাজ করেছে কোনও স্বার্থান্বেসী গোষ্ঠী? ঠিক যেমনটা হয়েছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। এখন দেখার, অন্তবর্তীকালীন সরকার এই পরিস্থিতি কিভাবে মোকাবিলা করে! তবে নির্বাচন আদেো ১২ই ফেব্রুয়ারি হবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গিয়েছে।












Discussion about this post