নির্বাচনের প্রাক্কালে যমুনার সামনে রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলনে যমুনার পরিস্থিতি অশান্ত হতে ওঠে। অন্যদিকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতারাও জমায়েত হয়ে আন্দোলন শুরু করে। তাদের দাবি ছিল, হাদি হত্যার তদন্ত জাতিসংঘকে করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি ঢাকাতে একটি মহ সমাবেশের ডাক দিয়েছিল। যেটি ছিল ৮ তারিখ, রবিবার। কিন্তু ঢাকার যা পরিস্থিতি, তাতে বিএনপি এই কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে এল। তবে কি নির্বাচন নিয়ে কোনও জটিলতা তৈরি হচ্ছে? বিএনপি কি নির্বাচনে কারসাজির আশঙ্কা করছে? বিএনপি নির্বাচন বর্জন করতে পারে, এই আলোচনা যখন ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তখন মহা সমাবেশ স্থগিত করল বিএনপি।
৮ তারিখের ঘোষিত মহা সমাবেশ বাতিল করল বিএনপি। কিন্তু এর পিছনে কি কারণ রয়েছে? এই প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। বিএনপি বলছে, ৮ই ফেব্রুয়ারির সমাবেশ বাতিল । তবে দুদিন ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। অর্থাৎ পথসভা করবেন তিনি। ৮ ও ৯ তারিখ বিভিন্ন প্রান্তে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বক্তব্য রাখবেন।
ছাত্রদলকে ঢেলে সাজানোর কথা বলেন ছাত্রদলের সভাপতি। নতুন নেতৃত্ব আসছেন ছাত্রদলের। কিন্তু বিএনপি হঠাৎ করে এই মহা সমাবেশ বাতিল করল কেন? সমাবেশ বাতিল করে শুধু পথসভার আয়োজন কেন করল? কারণ মহা সমাবেশ অনেক বেশি মানুষের মনে প্রভাব ফেলে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন জন বিভিন্ন প্রশ্ন তুলছেন। জানুয়ারির শেষ দিক থেকেই আলোচনা চলছে, যে ফেব্রুয়ারির ৬,৭,৮ এই সময়ের মধ্যে একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। নির্বাচন কেন্দ্রিক নতুন নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে। ঠিক সেরকমই ফেব্রুয়ারির ৬ তারিখ দেখা গেল যমুনার সামনে রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি।
তবে কি বিএনপি আশঙ্কা করছে, যে তাদের সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোনও ঝামেলা তৈরি হতে পারে? কিংবা তারা কি এটা মনে করছে, যে মহা সমাবেশ না করে ছোট ছোট পথসভা করবেন? যেটা আরও বেশি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের মধ্যে? তবে অনেকে বলে থাকেন, রাস্তায় যতই ট্রাফিক জ্যাম হোক না কেন, সাধারণ মানুষ মহা সমাবেশ পছন্দ করে। তবে কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল তারেকের দল? অনেকে বলছেন, এখন সেই কারণটা সামনে না এলেও পরে অবশ্যই জনসমুক্ষে আসবে। আর মাত্র ৫ দিন বাকি রয়েছে নির্বাচনের। তার আগের মুহূর্তে এমন পরিস্থিতি। যা অনেক প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। সরকার থেকে নানা রাজনৈতিক দল আশঙ্কা করছিল, যে আওয়ামী লীগ কি কোনও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে? যে কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানাভাবে তৎপর হয়েছে। এমনকি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যথেষ্ট তৎপর ছিল। পাশাপাশি এখনও কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। অনেকে বলছেন, আওয়ামী লীগের কোনও ছায়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অথচ আওয়ামী লীগ বিরোধী যারা আন্দোলন করেছিল, সেই জুলাই আন্দোলনকারীদের একাংশ এই জটিলতা তৈরি করছে। অবরুদ্ধ করছে শহর। দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এখন দেখার, শেষমেশ কি পরিস্থিতি তৈরি হয়।












Discussion about this post