বাংলাদেশে ভোটের আর বেশি বাকি নেই। আগামী বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচন। ওই দিন জুলাই সনদ নিয়েও ভোট হওয়ার কথা। ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রথমবার নির্বাচিত সরকার গড়তে চলেছে বাংলাদেশ। এতদিন অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশ পরিচালনা করেছে। অবাধ নির্বাচনের লক্ষ্যে ইউনূস-নেতৃত্বাধীন কেয়ারটেকার প্রশাসন গড়া হয়েছে। এতদিন সেই সরকারই দেশ পরিচালনা করছে। যার নেতৃত্বে রয়েছেন মহম্মদ ইউনূস। তারপর থেকে বেশ কিছুদিন ধরে সেখানে নির্বাচিত সরকারের দাবি উঠছিল। এই পরিস্থিতিতে গত বছর ডিসেম্বর মাসে নির্বাচনের ঘণ্টা বাজে বাংলাদেশে। দিনক্ষণ ঘোষণা করে সে দেশের কমিশন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বাংলাদেশে নির্বাচন হতে চলেছে বলে জানিয়ে দেন বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। বাংলাদেশে মোট ভোটার ১২৭.৬ মিলিয়ন। বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন। বাংলাদেশের ৩০০ কেন্দ্রে ভোট পরিচালিত হবে।
ভোটের ঠিক পাঁচ দিন আগে আচমকাই তেতে উঠল বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার সকালে দেশের অন্তবর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুসের বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভে শামিল হলেন সরকারি কর্মীরা। পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। জানা যাচ্ছে, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী। সকাল ১১.৩০ মিনিট নাগাদ বিক্ষোভকারীরা শাহবাগে পুলিশ ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা প্রবেশপথের দিকে অগ্রসর হয়। সেই সময় পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য লাঠিচার্জ করে। বিক্ষোভ যাতে বাসভবনে পৌঁছাতে না পারেন তার জন্য ইউনিফর্মধারী বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছিল। সেই সময় সংঘর্ষে অনেকে জখম হয়েছেন বলে খবর।
শাহবাগ এলাকায় নতুন করে ধস্তাধস্তি শুরু হলে উত্তেজনা আরও বাড়ে। কিছু বিক্ষোভকারী ইউনুসের বাসভবনের সামনে পৌঁছে প্রতিবাদ দেখানোর চেষ্টা করলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় যখন এক সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক ডেপুটি কমিশনার মাসুদ আলম প্রতিবাদী আধিকারিককে প্রশ্ন করেন, ভোটে অন্তর্ঘাতের জন্য কি আপনারা যমুনায় এসেছেন ? এক প্রতিবাদী বলেন, ‘যদি এভাবে আক্রমণ চালিয়ে যাওয়া হয় তাহলে আমরা ভোট বয়কট করব।’ পরে পুলিশ জানায়, তারা বিক্ষোভ সামলানোর চেষ্টা করছিল।পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেয়। সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।পুলিশের ডেপুটি কমিশনার মাসুদ আলম জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের একাংশ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দাবি না মানা হলে তাঁরা নির্বাচন বয়কটের পথেও হাঁটতে পারেন।বিক্ষোভ রুখতে ঢাকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ব্যারিকেড বসানো হয়। তবে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা একের পর এক ব্যারিকেড ভাঙতে শুরু করলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পুলিশ লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ শাহবাগে আরও একটি ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা হলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে এবং জল কামান ব্যবহার করে। কিছু বিক্ষোভকারী ইউনূসের বাসভবনের সামনেও পৌঁছে যান। পরে পুলিশ টেনে-হিঁচড়ে তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।
এদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পরে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছিলেন এই দলের তাকর্মীরা। শুক্রবার সন্ধে নাগাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে বসে পড়েন তাঁরা। এতে তীব্র যানজট দেখা দেয়। রাত ৮টার পর পুলিশ অবরোধে অংশ নেওয়া কর্মীদের লাঠিপেটা শুরু করলে তাঁরা আশেপাশের রাস্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আশ্রয় নেন। রাত ৯টা নাগাদ ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা ফের শাহবাগ মোড়ে অবরোধ শুরু করলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ (রাকসু)-এর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার-সহ বেশ কয়েক জন জখম হয়েছেন বলে ইনকিলাব মঞ্চ দাবি করলেও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বলেছে, যমুনার সামনের ইনকিলাব মঞ্চ নেতাকর্মী ও অনুসারীদের বিক্ষোভের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি ছোড়েনি।












Discussion about this post