বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কি লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমে চলে গেছে? কেউ কেউ বলছেন, যে কোনও সময় পতন ঘটতে পারে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের। কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, বাংলাদেশ ঢুকে পড়ল জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশনের আওতায়। সংস্থাটির ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ২০০ দেশের মাঝে জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশনের অফিস রয়েছে মাত্র ১৬টি দেশে। এই দেশগুলি হল, বুরকিনা ফাসো, কম্বোডিয়া, চাড, কলম্বিয়া, গুয়াতেমালা, গিনি, হুন্ডুরাস, লাইবেরিয়া, মৌরিতানিয়া, মেক্সিকো, নাইজার, প্যালেস্তাইন, সুদান, টিউনিশিয়া, ইয়েমেন ও সিরিয়া। তবে সিরিয়ার কার্যালয়টি পার্শ্ববর্তী দেশ লেবাননের বেইরুট থেকে পরিচালিত হয়। লক্ষ্য করার বিষয়, এই প্রতিটি দেশই হয় দাঙ্গাবিদ্ধ্বস্ত না হয় যুদ্ধ বিদ্ধ্বস্ত। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল বাংলাদেশের নাম। তবে মুহাম্মদ ইউনূসের বাংলাদেশ কোন পর্যায়ে পড়ছে, সেটা নিয়েই চলছে জোর চর্চা। ওয়াকিবহাল মহল এই বিষয়ে দুটি মতবাদে বিভক্ত। একদল মনে করছেন, গত এক বছরে বাংলাদেশে যেভাবে অরাজকতা বেড়েছে, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে, সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার হয়েছে, ছাত্র বিক্ষোভের উপর পুলিশের নির্বিচারে লাঠিচার্জ বা গোপালগঞ্জে গ্রামবাসীদের উপর সেনার গুলিবর্ষণ হয়েছে। তা নিয়ে উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ। আরেক দল মনে করছেন, মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর এনজিও উপদেষ্টামণ্ডলী প্রভাব খাটিয়ে বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশনের অফিস খুলতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। কারণ এতে এনজিওগুলি আরও অর্থ কামাতে পারবে। পকেট ভর্তি হবে ওই এনজিও মালিকদের। তবে এই ঘটনায় বাংলাদেশের যে বদনাম হল, সেটা কেউই অস্বীকার করছেন না।
কয়েকটি সূত্র বলছে, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই মারফত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জানতে পেরেছিল খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভারত বাংলাদেশে একটা বড় ধরণের অভিযান করতে পারে। এর মধ্যেই গোপালগঞ্জে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে যায়। আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকদের ভয় ধরাতে গিয়ে মর্মান্তিকভাবে গুলির মুখে মরতে হল পাঁচজন নিরীহ গ্রামবাসীকে। তাঁরা আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং সন্ত্রাসী বলেও নিজের দায় এড়াতে পারেনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বাংলাদেশের সেনাবাহিনী। আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এটা নিয়ে কম কাটাছেঁড়া হয়নি। তখনই বিমান দুর্ঘটনার এক ভয়াবহ পরিকল্পনা ছকা হয়েছিল বলেই সূত্রের খবর। তবে এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। কিন্তু একটা বিষয়ে অনেককেই ভাবাচ্ছে, ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজ ক্যাম্পাসে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় এতজন শিশুর মৃত্যুর পরও কেন প্রধান উপদেষ্টা যমুনার বাইরে বের হলেন না। প্রশ্ন উঠছে, তিনি কি গৃহবন্দি? যদি তাই হয়, তাহলে কারা তাঁকে গৃহবন্দি করলো? সেনাবাহিনী নাকি জামাত-এনসিপি? যদিও বিমান দুর্ঘটনার পর গুরুতর আলোচনার জন্য এনসিপি, জামাত, বিএনপি ও বাংলাদেশের এক কট্টরপন্থী মুসলিম সংগঠনের নেতাদের ডেকে যমুনায় বৈঠক করেন মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে তাঁকে হাসতেও দেখা যায়, খাওয়া-দাওয়া করতেও দেখা য়ায়। যা নিয়েও বিতর্ক চলছে বাংলাদেশে।
এখন প্রশ্ন হল, নেপথ্যের কারণ যাই হোক না কেন, বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশনের কার্যালয় চালু হয়ে গেলে বাংলাদেশও সেই সব বিরল দেশের পর্যায়ে চলে যাবে যেখানে প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। এটা যেমন বাংলাদেশের জন্য জাতীয় লজ্জার বিষয়, তেমনই ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে আরও একটা অভ্যুত্থানের কারণ হতে পারে। কেউ কেউ বলছেন, ২০২৪ সালে মার্কিন ডিপ স্টেটের ইচ্ছায় ও প্রভাবে যেমন শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছিল। তেমনই যদি ভারতের প্রভাবে ইউনূস সরকারের পতন হয়? বাংলাদেশের ছাত্রনেতারা বা উপদেষ্টামণ্ডলীর কেউ কেউ যেমন প্রতি পদে ভারতীয় অগ্রাসনের দাবি করে ঝড় তুলে আসছেন, এবার ভারত যদি সত্যিই তেমন কোনও অগ্রাসন দেখায় বাংলাদেশে? তাহলে কি হবে? মনে রাখা প্রয়োজন, বাংলাদেশে বরাবরই ভারতের জন্য একটা স্পর্ষকাতর জায়গা। আর ভারতও চাইবে না, বাংলাদেশে জঙ্গি জিহাদিদের উত্থান হোক।












Discussion about this post