সম্প্রতি ঢাকায় যান পাকিস্তান সেনার ‘জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ কমিটি’র পাক সেনাকর্তা শাহির শামসাদ মির্জা গিয়েছিলেন বাংলাদেশে। তিনি তদারকি সরকার প্রধান মুহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে পাক সেনাকর্তার হাতে একটি বই তুলে দেন ইউনূস। বইয়ের শিরোনাম ‘আর্ট অফ ট্রায়াম্প’। সেই বইয়ের প্রচ্ছদে রয়েছে একটি মানচিত্র। যেখানে দেখানো হয়েছে ভারতের উত্তরপূর্বের সাতটি রাজ্যকে বাংলাদেশের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই বিতর্কিত নকশা আঁকা ছবি নিয়েই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। চাপে পড়ে বাংলাদেশের তদারকি সরকার প্রধানের প্রেস উইং থেকে সমাজমাধ্যমে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের পতাকায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে জুড়ে দেওয়ার দাবি অসত্য।
কী অদ্ভূত দাবি। মানচিত্রে জ্বলজ্বল করছে এক আর বলা হচ্ছে অন্যকিছু। আসলে ভারতের উত্তরপূর্বের সাতটি রাজ্যের ওপর লোভ বাংলাদেশের একার নয়। লোভ রয়েছে চিনের। চিন তো হর হামেশাই অরুণাচলকে নিজের অংশ বলে দাবি করে। সে দেশ থেকে যারা চিনে যায়, তাদের সাদা কাগজে ভিসা দেওয়া হয়। অরুণাচলের তাওয়াংয়ে সাম্প্রতিক অতীতে চিনের লাল সেনা দিব্যি তাবু খাটিয়ে কয়েকদিন কাটিয়ে গিয়েছিল। তা নিয়ে বেজিংয়ের সঙ্গে দিল্লির কম টানাপোড়ে হয়নি। এবার বাংলাদেশর বিষনজরে পড়েছে উত্তর-পূর্বের এই সাতটি রাজ্য।
প্রতিবেশী দেশ এই সাতটি রাজ্যের কোনও একটিকে অশান্ত করতে পারলে কেল্লাফতে। সাউথব্লকের সব নজর গিয়ে পড়বে সেখানে। ভারতের প্রতিবেশীদের এই সাতটি রাজ্যের ওপর লোভ থাকার কারণ রয়েছে। এই সাতটি রাজ্য বা সেভেন সিস্টার্স খনিজ সম্পদে পরিপূর্ণ। অসম এবং মেঘালয়ে এখনও ১.১ বিলিয়ন টন কয়লা রয়েছে। চিন অতীতে প্রস্তাব দিয়েছিল তারা এই সাতটি রাজ্যের সমুদ্রপথ দিয়ে পণ্য নিয়ে আসতে চায়। ভারত পত্রপাঠ সে প্রস্তাব খারিজ করে দেয়। সম্প্রতি তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস গিয়েছিলেন চিনে। তাঁর মুখে শোনা গিয়েছিল হুমকি। জল না দেওয়া হুমকি। এদিকে আবার পাকিস্তানের সঙ্গে চিনের আচমকা একটা সদভাব গড়ে ওঠে। দেখলে মনে হবে পাকিস্তান ও চিন চাইছে, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে। বিষয়টি আদৌ তা নয়।
এদিকে আবার মেইতি এবং কুকীদের সংঘর্ষে তেতে ওঠে মণিপুর। সরকারিভাবে দুশোজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এই দুই সম্প্রদায়ের হাতে অস্ত্র কারা তুলে দিল? গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, অস্ত্র আসছে মায়ানমার থেকে। তারা সেখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসছে। মায়ান-মোরে রুট দিয়ে অস্ত্র ঢুকছে মণিপুর এবং নাগাল্যান্ডে। অসম-মায়ানমার সীমান্ত বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এই সীমান্ত দিয়ে মানুষ ভারত ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছে। সম্প্রতি সাগাই এবং কাছি থেকে উদ্ধার হয়েছে দুটি ডিটোনেটর। এই ডিটোনেটর তৈরি হয়েছে চিনে। সেই সব ডিটোনেটর নিশ্চই হেটে হেটে ভারতে ঢুকে পড়েনি। বোঝাই যাচ্ছে, বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি ভারতকে অশান্ত করার একটি নীল নকশা তৈরি করেছে। পাওয়া গিয়েছে স্যাটেলাইট রেডিও। চিন থেকে মায়ানমার ঘুরে ভারত ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ছে। অসমের বরপেটা এবং গোয়ালপাড়ায় সেফ হাউজের সন্ধান মিলেছে। এই সেফ হাউজে থাকে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যরা। এখানে তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া গিয়েছে, বেশ কিছু নথি, কাগজপত্র। অপর দিকে সোনালি ত্রিভূজ ধীরে ধীরে তার শাখা প্রশাখার বিস্তার ঘটাচ্ছে। বাড়ছে মাদকের ব্যবসা। তৈরি হচ্ছে একটা সমান্তরাল অর্থ ব্যবস্থা।












Discussion about this post