বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা এবং তাঁর আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছে সে দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)। রায় কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর তদারকি সরকার। ঢাকার তরফ থেকে এই দুয়ের ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সে দেশের বিদেশমন্ত্রকের উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। গত রবিবার, ২৩ নভেম্বর তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার দিল্লির বাংলাদেশ দূতাবাস মারফত ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের কাছে ওই চিঠি পাঠানো হয়েছে। যদিও দিল্লি এই চিঠি নিয়ে কোনও জবাব দেয়নি (এই খবর লেখা পর্যন্ত)। প্রশ্ন এখন একটাই – ঢাকার দাবি মেনে হাসিনা এবং তাঁর সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কি সে দেশের হাতে তুলে দেবে দিল্লি? এই নিয়ে একটা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, হাসিনা এবং আসাদুজ্জামানের ক্ষেত্রে আইসিটির রায় কার্যকরে বাংলাদেশের প্রধান বাধা হয়ে উঠেছে ভারত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের ছাড়েন হাসিনা। আশ্রয় নিয়েছেন দিল্লিতে। এর আগেই একবার তাঁকে দিল্লিতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। সেটা ১৯৭৫। ছয় বছর বাদে ১৯৮১ সালে তিনি দেশে ফেরেন। বুঝতে পারেন, তাঁকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল আশা তৈরি হয়েছে। একই সময় বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন খালেদা জিয়া। জাতীয় রাজনীতির অভিমুখ ঘুরে যায়।
১৯৯৬ সালে হাসিনা প্রথমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হন হাসিনা। ২০০৮ সালে আবার তাঁর ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন ঘটে। প্রায় সাড়ে ১৫ বছর তিনি দেশ শাসন করেন। এই এক দশকের বেশি সময়ে তাঁর শাসনামলে বাংলাদেশের অর্থনীতির মাইলফলক স্পর্শ করে। হাসিনার শাসনামল পুরোপুরি নিষ্কলঙ্ক ছিল না। তাঁর আমলে হয়েছে সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ। বিরোধীদের দমিয়ে রাখার অভিযোগ তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে উঠেছিল। উঠেছিল মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ। এমনকী তিনি একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন বলেও নানা প্রান্ত থেকে অভিযোগ ওঠে।
যদিও এই অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয়। কারণ এই দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের রাজনীতিতে বিরোধীদল নির্বাচন বয়কট করেছে। তাদের নীতি ছিল জ্বালাও, পোড়াও। যাকে বলে ধ্বংসের রাজনীতি। তারা সংসদে গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সরব হতে পারত। বিরোধীরা সংসদও বয়কট করে। তাদের এই কর্মকাণ্ডের ফলে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ করে আওয়ামী লীগ।
তবে এই এক দশকে তিনি প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে হার্দিক সম্পর্ক তৈরি করেন। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ভারত-পাক নিয়ে যেমন চর্চা হয়েছে, তার থেকেও বেশি চর্চা হয়েছে ঢাকা-দিল্লি সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে। সেই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কারণেই হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামালকে ঢাকার হাতে কোনও অবস্থাতেই তুলে দেবে না দিল্লি। সাউথব্লকের এক কূটনীতিক জানিয়েছে, ঢাকা-দিল্লির মধ্যে যে প্রত্যর্পণচুক্তি রয়েছে সেখানে বলা হয়েছে উভয় দেশ যদি মনে করে প্রত্যর্পণ চাওয়া হয়েছে রাজনৈতিক অপরাধের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য, তাহলে তারা সংশ্লিষ্টের প্রত্যর্পণ নাকচ করে দিতে পারে। শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। আর হাসিনা তো তাঁর রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিলেন। শেষবার গত জুলাই অগাস্টে। ওই আন্দোলনের উদ্দেশ্যে ছিল বঙ্গবন্ধুকন্যাকে হত্যা করা। সেবারও রক্ষা পেয়েছিলেন। এবারও তিনি রক্ষা পাবেন। কারণ ত্রাতায় ভূমিকায় যে বন্ধু ভারত।












Discussion about this post