গত ১৫-১৬ মাস ধরে ভারতকে কথায় কথায় খালি কেটে ফেলা, মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। হুমকি দেওয়া হয়েছে ভারতের সেভেন সিস্টার্সকে ছিনিয়ে নেওয়ার। ধমকি দেওয়া হয়েছে ভারতের সেপারেটিস্টদের আশ্রয়, প্রশ্রয় দেওয়ার। ভারত মুখ বুজে সহ্য করে এসেছে। এবার পাল্টা চাপ এলো আমেরিকা থেকে। সেই চাপের কাছে মাথা নত করতে বাধ্য হলেন ইউনূস সরকার।
বাংলাদেশে মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে নরসিংদী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অভিযোগের ভিত্তিতে আতাউর রহমানকে নরসিংদী থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাকে জিএমপি-তে হস্তান্তর করা হয়।
কে এই আতাউর রহমান?
আতাউর রহমান বিক্রমপুরী আসাদুল্লাহ বা আতাউর নামেও পরিচিত। বাবার নাম হুমায়ুন সরদার। মা রোকেয়ে বেগম। তাঁর বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার টংগীবাড়ী উপজেলার আমতলী গ্রামে। তিনি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ইস্তা গ্রামের অবস্থিত মারকাজুল হুনাফা আল মুসলিমিন মাদ্রাসার প্রিন্সিপ্যাল। এ ছাড়াও হুনাফা ইসলামিক স্কুলেরও প্রিন্সিপ্যাল।
গত অক্টোবরে গাজিপুর কালিয়াকৈকের উপজেলায় হিন্দু যুবক কর্তৃক মাদ্রাসার এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ওই মাসেই সেখানকার একটি মসজিদের ইমাম মুফতি মুহিবুল্লাহ মিয়াজীর কথিত এক অপহরণের ঘটনা ঘটে। জানা গিয়েছে, এই দুটি ঘটনায় থানায় দৌড়াদৌড়ি করেছিলেন এই আতাউর বিক্রমপুরী। যদিও মুহিবুল্লাহ মিয়াজির ঘটনাটি অপহরণ নয় বলে নিশ্চিত করে পুলিশ। সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে ঢাকার রাজপথ দখল করে মানুষ শাহবাগে আয়োজিত একটি বিক্ষোভে এই আতাউর রহমানকে দেখা যায়। যদিও অন্য বিক্ষোভকারীরা তাঁদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখায় তিনি মাঝপথে কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করেন। বিক্রমপুরী সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘অতি উগ্র কথাবার্তা প্রচারের জন্য’ পরিচিত। তিনি ২০২৪ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো‘র সামনের বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া কয়েকজনকে থানা থেকে জোর করে ছাড়িয়ে নেওয়ায় ‘নেতৃত্ব’ দিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার রাত থেকেই আতাউর রহমান বিক্রমপুরীর ভক্ত ও অনুগামীরা তাঁর বিষয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করেন। বলা হয়, ভৈরব থেকে আসার পথে বাস থামিয়ে তাঁকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ২২ ডিসেম্বর তিনি সামাজিক মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশের একটি প্রথম সারির নাম উল্লেখ করে বলেন, আমাকেও গ্রেফতার করুন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যে তাঁর যে ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে, সেটা ৩৯ মিনিটের। যদিও নিউজ বর্তমান সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। এই আতাউর রহমান প্রধানমন্ত্রী মোদিকে খুন করার হুমকি দেওয়া পর্যন্ত।
বলা হচ্ছে আমেরিকার চাপে পড়ে ইউনূস সরকার তাকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়েছে। এর কারণও রয়েছে। সম্প্রতি তুলসি গ্যাবার্ড একটি মন্তব্য করেছিলেন। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ইসলামিস্টরা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক। বাংলাদেশের দুটি প্রথম সারির সংবাদপত্রে অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে এই আতাউর রহমান জড়িত বলে খবর পেয়েছে তদারকি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তাঁকে গ্রেফতার করার জন্য চাপ দিয়েছিল ভারত। বাংলাদেশে এই মাওলানার সঙ্গে আলকায়দা নেতা জসিমুদ্দিন রহমানির ভালো যোগাযোগ রয়েছে। যোগ রয়েছে লস্কর নেতা হারুন ইঝারের সঙ্গেও। আতাউরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে গ্রেফতার করা হয়। বাংলাদেশ সরকার যে আমেরিকার কাছে হার শিকার করে নিল সেটা এই গ্রেফতারি থেকে স্পষ্ট।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post