ভারত থেকে চাল না গেলে সে দেশের লোক না খেতে পেয়ে মরে যাবে। লঙ্কা রফতানি বন্ধ হয়ে গেলে সে দেশের বাজারে এই সবুজ আনাজের দাম ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায়। পিঁয়াজ না পেলে চোখ দিয়ে জল গড়ায়। তিস্তার জল আটকে দিলে সে দেশের নদী শুকিয়ে যাবে। ফরাক্কার একটা লক গেটে খুলে দিলে দেশটা ভেসে যাবে, এটা জানার পরেও ভারত-বিরোধিতা বন্ধ হচ্ছে না। আর এবার তারা যেটা করল, তা তো ভারতকে পিছন থেকে ছুরি মারার সামিল।
সম্প্রতি ভারতীয় সেনাবাহিনীর স্যাটেলাইটে কিছু ছবি ধরা পড়েছে। সেই সব ছবিতে দেখা গিয়েছে, ঢাকা থেকে তুরস্কের উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছে TB2T1071 ড্রোন। তুরস্ক এই ধরনের ড্রোন ব্যবহার করে অন্য রাষ্ট্রের ওপর নজরদারির জন্য। বাংলাদেশ এখন শিলিগুড়ির করিডোরের জল মাপার চেষ্টা করছে। দেখতে চাইছে, সেখানে ভারতের সেনা মোতায়েনের বহর। বাংলাদেশ ভারতে গত দু-তিন দিন ধরে অস্থির করে তোলার চেষ্টা করছে। সেটা ধরা পড়ে যায় সেনাবাহিনীর স্যাটেলাইট ইমেজ। ভারত কিন্তু তুরস্ককে জবাব দিতে শুরু করেছে।
তুরস্ক কি চাইছে, সেটা একবার উল্লেখ করা দরকার। তুরস্ক শরিয়ত আইন ফিরিয়ে আনতে চায়। তার জন্য তারা পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে বাজি ধরেছে। তারা এই দুটি দেশকে কাজে লাগিয়ে ভারতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে। সম্প্রতি লালকেল্লার কাছে যে হামলা হয়েছে, সেই হামলার নকশা তৈরি করা হয়েছিল তুরস্কে বসে। সম্প্রতি ঢাকায় একটি স্বেচ্ছাসেবি সংস্থা, যে সংস্থার পিছনে তুরস্ক রয়েছে, তারা ভারতের একটি বিকৃত মানচিত্র প্রকাশ করে। দিল্লি কডা ভাষায় তাঁর প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
তুরস্ককে পাল্টা চাপ দেওয়ার রাস্তায় হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাউথব্লক। ভারত তুরস্কের যে সব সংস্থা রয়েছে, সেগুলিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে। এবার তুরস্কের অর্থনীতিতে ঝাঁকুনি দিতে ভারত ওমানের সঙ্গে শুল্ক-মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই করেছে। বুঝিয়ে দিল যে তুরস্ক যদি বাংলাদেশকে বাজি ধরে ভারতকে অশান্ত করে তোলার চেষ্টা করে তাহলে ভারত চুপচাপ হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। ঘুরিয়ে আঘাত করবে। আঘাত করবে অর্থনীতির ভিতকে। ভারতীয় পর্যটকের তুরস্ককে বয়কটের ডাক দিয়েছে।
ভারত এই মুহূর্তে যত মার্বেল ব্যবহার করে তার বেশিরভাগটাই আসে তুরস্ক থেকে। আমদানির পরিমাণ ৫৫ শতাংশ, টাকার অঙ্কে ১৮৯ মিলিয়ন ডলার। ওমানের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে, সে চুক্তির দৌলতে ভারত সে দেশ থেকে পাবে কাঁচা মার্বেল ব্লক দেবে। ওমান এই প্রথম কোনও একটি দেশকে কাঁচা মার্বেল ব্লক রফতানি করার সিদ্ধান্ত নিল। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য কিন্তু তুরস্ক। তুরস্ককে অর্থনৈতিকভাবে দূর্বল করে দেওয়ার লক্ষ্যে ভারত ওই দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে।
কিছুদিন আগে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইজরায়েল গিয়েছিলেন। তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পর ইজরায়েল একটি তিনটি দেশের একটি সম্মেলন ঘোষণা করে। সেই তিনটি দেশ হল ইজরায়েল, গ্রিস ও সাইপ্রাস। সম্মেলনের লক্ষ্য কিন্তু ইজরায়েল। ইজরায়েল বাকি দুটি দেশকে নিয়ে একটি জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এস জয়শঙ্কর ইজরায়েল গিয়ে এই কলকাঠি নেড়ে আসেন। উদ্দেশ্য ছিল তুরস্ককে কূটনৈতিকভাবে চাপে ফেলে দেওয়া। সে ক্ষেত্রে তিনি যে সফল, তা বলাই বাহুল্য।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post