ভারতের স্বার্থের প্রশ্নে এবার কঠোর অবস্থান নিল রাশিয়া। কঠোর অবস্থান নিল আমেরিকা। ওয়াশিংটনকে তারা আল্টিমেটাম দিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশে দুজন সংখ্যালঘু যেভাবে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে, তার প্রতিবাদে দেশ তো বটেই, বিদেশের মাটিতেও হয়েছে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ। সব প্রতিবাদ-বিক্ষোভের একটাই সুর – চাই ন্যায়বিচার। খুনিদের ধরতে হবে। তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এই অবস্থায় ইজরায়েল এমন একটি পদক্ষেপ করেছে, যা দেখে সবাই বলতে শুরু করেছে ভারত কি তাহলে ইজরায়েলের পথে হাঁটবে? তাদের মতো কি কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে?
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের মধ্যে ক্ষোভ জমতে শুরু করেছে। ক্ষোভের কারণ দীপু চন্দ্র দাস বা অমৃত মণ্ডলের শুধু হত্যাকে কেন্দ্র করে নয়, এই ঘটনায় সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় তারা রীতিমতো ক্ষুব্ধ। ক্ষুব্ধ অন্যান্য রাষ্ট্র। তারা তাদের ক্ষোভের কথা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে। দিয়েছে কড়া বার্তা। আর সেই বার্তা হল হয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করুন, না হলে দুর্ভোগ ভোগ করার জন্য তৈরি থাকুন। বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে রাশিয়া থেকে দেওয়া হয়েছে কড়া বার্তা। কিন্তু ইজরায়েল যা করেছে, সেটা রাশিয়াও করেনি। কী করেছে ইজরায়েল, সেটা জানিয়ে দেওয়া হবে। তার আগে একবার বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে দেখা যাক।
পদ্মাপারে আজ যা কিছু হচ্ছে, সেটা কিন্তু একদিনে বা একটি রাতে তৈরি হয়নি। গত জুলাই-অগাস্টের পর থেকে তৈরি হয়েছে এই চিত্র। ক্ষমতার লোভে ডিপস্টেটের সাহায্যে মসনদে আসীন হন ইউনূস। একসময় সেনাবাহিনী তাঁর পাশে ছিল। সেই বাহিনী এখন আর তার পাশে নেই। তাঁর পাশে রয়েছে জামায়াত আর মৌলবাদী শক্তি। বিগত ১৫-১৬ মাস ধরে বাংলাদেশ সহ গোটা বিশ্ব দেখেছে তাদের বাহুবল। তাদের কণ্ঠবল। দেখতে হয়েছে তাদের পেশি প্রদর্শন। আর হাত গুটিয়ে বসেছিলেন ইউনূস। দীপু এবং অমৃতের ঘটনা ইউনূসের কফিনে হয়তো শেষ পেরেক পুঁতে দিল।
দীপুর বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ তোলা হয়েছে? তাঁর বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ। গত ১৮ ডিসেম্বর তাকে ঘিরে ধরে তৌহিদি জনতা। তাকে নির্বিবাদে পিটিয়ে গাছে ঝুলিয়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। বাহুবলীরা গোটা ঘটনা ভিডিও করে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে ওইদিন রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে দীপুর দেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। র্যা ব কিন্তু জানিয়ে দিয়েছে, দীপু সমাজমাধ্যমে বা প্রকাশ্যে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্তে নেমে প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে র্যা বকর্তারা জেনেছেন, সেদিন উপস্থিত জনতার কেউ দীপুকে উস্কানিমূলক কিছু বলতে নিজের কানে শোনেনি। প্রশ্ন হল এই ক্ষেত্রে ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক কোথায়। ইজরায়েল কী এমন করল, যার জন্য বলা হচ্ছে ভারত কি তাদের দেখানো পথে হাঁটবে?
সম্প্রতি সিডনিতে ইহুদিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় নেতানিয়াহু রীতিমতো চটে যান। চটে যায় ইজারেলবাসী। ইজরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডি অন সার ইহুদিদের উদ্দেশ্যে একটা বার্তা দেন। সেই বার্তাটি হল পৃথিবীর সব জায়গায় ইহুদিরা বিদ্বেষের শিকার। তাদের চোখে চোখ রেখে কথা বলা হচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া হচ্ছে ঘৃণা ভাষণ। কানাডা, ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী ইহুদিদের নিজের দেশে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। বলেছেন, নিজের দেশে ফিরে আসুন। নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন। প্রশ্ন এটাই বাংলাদেশে যেভাবে হিন্দুদের টার্গেট করা হচ্ছে, তার প্রেক্ষিতে আমাদের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে কী বলতে শোনা যাবে বাংলাদেশে বসবাসকারী ভারতীয় হিন্দু সহ সংখ্যালঘুরা দেশে ফিরুন। থাকুন নিরাপদে।












Discussion about this post