শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছে সে দেশের ক্যাঙারু আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)। সেটা কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর তদারকি সরকার। হাসিনা রয়েছেন ভারতে। অনুমান তাঁর প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও দিল্লিতে রয়েছেন। যদিও এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রান্ত থেকে কিছু বলা হয়নি। আইসিটি-র রায় কার্যকর করতে চেয়ে ফের ঢাকার তরফ থেকে দিল্লিকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দিল্লি জানিয়েছে, তারা চিঠি খতিয়ে দেখবে। মূল প্রশ্ন এখানে ঢাকার দাবি মেনে তাঁরা যাকে হায়নার হাত থেকে বাঁচাতে আশ্রয় দিয়েছিল, তাকে আবার একদল হায়নার খাদ্য করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে? প্রশ্ন আরও একটা বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন কি মাইনাস হাসিনা অ্যান্ড আওয়ামী লীগ হতে চলেছে? তদারকি সরকার, জামাত আর সে দেশের মৌলবাদী শক্তিগুলির গোপন বাসনা সেরকমই। তাদের সেই স্বপ্ন আদৌ সফল হবে কি?
বাংলাদেশের বুনিয়াদি রাজনীতির সঙ্গে আওয়ামী লীগ অতোপ্রতোভাবে জড়িয়ে রয়েছে। আর সে দেশের রাজনীতিতে অন্তর্কলহ শুরু থেকেই ছিল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে খুন করেছিল রাজাকারের দল। তাঁর মৃত্যুর পর বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ছিল সামরিক শাসনের অধীনে। শেখ মুজিব ছাড়া অন্তর্কলহের স্বীকার হয়েছিলেন বিএনপির সর্বোচ্চ নেতা মেজর জিয়াউর রহমান। তাকেও গুপ্ত শত্রুর হাতে প্রাণ দিতে হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখেছিল জামাত। তারা আজও তাদের স্বপ্নপূরণ করতে পারেনি। অথচ, আজ যারা দেশটা চালাচ্ছে তাদের নিয়ন্ত্রণ করছে এই জামাত এবং তাদের দোসর বাংলাদেশের মৌলবাদী শক্তিগুলি। তারা চাইছে যে কোনও মূল্যে বাংলাদেশের পরিচালন ভার তাদের হাতে নিতে। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। এদের প্রধান বাধা আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি। কিছুদিন আগে একটি প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে জামাত এবং মৌলবাদী শক্তির যাত্রা ভঙ্গ করতে প্রয়োজনে আওয়ামী লীগের ‘নৌকায়’ চড়তে দ্বিধা করবে না তারা। আর বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলি আওয়ামী লীগকে সব থেকে বেশি ভয় পায়। বস্তুত হাসিনার নাম শুনলে তাদের পা ঠকঠক করে কাঁপে। বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশের পিছনে রয়েছে আওয়ামী লীগ। বিরোধী দল বিএনপিতেও এমন অনেক শীর্ষনেতা আছেন, যারা মনে প্রাণে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। কারণ, স্বাধীন বাংলাদেশ গঠিত না হলে তো তাদেরও জন্ম হত না।
পরিস্থিতির চাপে পড়ে সুশীলসমাজ চুপ করে রয়েছে। ভোটের ময়দানে আওয়ামী লীগ নামলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তাদের দিকে ঝুঁকবে সেটা বেশ ভালোই জানেন ইউনূস। তাই, ভোট ঘোষণার আগেই হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের যাত্রা ভঙ্ক করার জন্য ইউনূস নিজের নাক কেটেছিলেন। তার প্রমাণ আন্তর্জাতিক আদালতের রায়। আর আওয়ামী লীগ যদি জোর করে ভোটে লড়াই করতে নামে, সে ক্ষেত্রে জামাত এবং তাদের দোসরেরা হাত মিলিয়ে হাসিনার পথ রুখবে। এই রায় নিয়ে আরও একটি বিষয় বলার। তা হল হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনিয়ে আওয়ামী লীগকে দূর্বল করার চেষ্টা করা। সেই চেষ্টা সফল হবে না, সেটা ধরে নেওয়া যেতে পারে।












Discussion about this post