এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান চিন সফরে। এদিকে দেশে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের বিদায় ঘন্টা বেজে গিয়েছে। গঠিত হতে যাচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। বাংলাদেশের পরবর্তী ক্ষমতায় দেশের প্রধান বিচারপতি। যিনি আগামী মাসেই নাকি অবসর নিতে যাচ্ছেন বলে খবর। কেউ কেউ বলছেন, ইউনূসের দীর্ঘদিনের কাঙ্খিত কাজ গুলিকে স্থগিত রেখেই বিদায় নিতে হবে তাকে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ১২ টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে। তারমধ্যে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত চারটি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। এই চারটি নির্বাচনের আগে সরকারের যে দল ছিল, তারা নির্বাচনে জিততে পারেনি। বা ফের সরকার গঠন করতে পারেনি। এই চারটি নির্বাচনকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবথেকে সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন বলে গণ্য করা হয়। যদিও ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিরোধী দলগুলি আন্দোলন করছিল, তখন ক্ষমতাসীনরা মানতে পারেনি। পাগল ও শিশু ছাড়া কেউই নিরপেক্ষ হয় না। এনপি প্রধানের এমন মন্তব্যে তোলপাড় তৈরি হয়েছিল তৎকালীন বাংলাদেশে। অন্যদিকে ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করে দিয়েছিল। ২০১১ সালে ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। এবং ওই সংশোধনীর মাধ্যমে বাতিল করা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। এরপর দেশের তিনটি নির্বাচন আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত হয়। যদিও এর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে এখন শেখ হাসিনা ভারতে বসে দাবি করছেন, আগামী নির্বাচন বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতিতে করতে হবে।
যদিও পড়ে আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে রায় দেয়। তবে পুরোপুরি এই সরকার পেতে আরো কিছু কাজ বাকি রয়েছে। জানা যাচ্ছে, ২৬ অগাষ্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে রিভিউ শুনানি রয়েছে। সেদিন আদালত সমস্ত পক্ষে কথা শুনবে বলে জানা যাচ্ছে।
অন্যদিকে আপিল বিভাগ যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থার পক্ষের রায় দান করে, তাহলে কি হবে? বলা হচ্ছে, তাহলে অনিবার্যভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন হয়ে যাবে।অনেকে বলছেন, ইউনুস সরকারের বাইরে যারা কাজ করছেন তারা চাইছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেই হোক নির্বাচন। এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন হয় তিন মাসের জন্য। এই সরকারের কাজ মূলত নির্বাচন পরিচালনা করা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হওয়ার কথা সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ছিলেন ওবায়দুল হাসান। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ২৪ তম প্রধান বিচারপতি। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ১২ ই সেপ্টেম্বর তাকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন। ফলে ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মবের কারণে গত বছরে ১০ ই আগস্ট তিনি পদত্যাগ করেন। জানা যাচ্ছে, যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার হয় তবে ওবায়দুল হাসান প্রধান হবেন না। হবেন বর্তমান প্রধান বিচারপতি। কারণ তিনি নাকি আগামী মাসেই অবসরে যাচ্ছেন।
অনেকে বলছে, গত এক বছর ধরে নির্বাচন নিয়ে যে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশে, সেটা ২৬ আগস্ট ঘুরে যেতে পারে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন হলে মহম্মদ ইউনূসকে বিদায় নিতে বাধ্য। বলছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post