‘একি কথা শুনি আজ মন্থরার মুখে!’
অথবা এটাও বলা যেতে পারে – যা শুনলাম সেটাই কি শুনলাম?
এতো নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছি না। একবার নয়, দুইবার নয়, একাধিকবার শোনার পরেও মনে হচ্ছে কান কি শরীরের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে? কারণ, যার মুখ থেকে যা শোনা গেল এবং তা শোনার পর তো নিজের কানকে বিশ্বাস করাই কঠিন হয়ে পড়ছে। কার মুখ থেকে কী শোনা গেল, তা অবশ্যই আমাদের পাঠক, আমাদের দর্শককে শোনাব। শুনলে তারাও হয়তো বিশ্বাস করতে পারবেন না।
বিশ্বাস না হওয়ারই কথা। কারণ, গত ১৫-১৬ মাস ধরে তাঁর গলায় তো বটেই, তাঁর দল ভারত বিরোধিতায় সোচ্চার ছিল। দলের নেতাদের মুখ থেকে বেরিয়েছে একাধিক ভারত-বিরোধী স্লোগান। কারণ, তারা চেয়েছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যে দেশকে তাঁরা তাঁদের মতো করে দেখতে চেয়েছিল। সেটা পূর্ণ হয়েছে। শুধু পূর্ণ হয়েছে বললে হয়তো কিছুই বলা হবে না। একেবারে ষোলো কলার ওপর আঠার কলা পূর্ণ হয়েছে। তারা এখন চাইছে ক্ষমতায় পৌঁছতে।
দিন কয়েক আগে দলটি সে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের প্রধান মুখের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁদের সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্ত নেন। এক নতুন বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার করেন। তিনি ভারতের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারত নিয়ে যা বলেছেন, তাতে তো সেই সাংবাদিকের চোখ নির্ঘাত কপালে উঠেছে। আমাদের সকলের চোখ কপালে উঠবে। কী করে তিনি এ কথা বললেন, তা নিয়ে গবেষণাও হতে পারে। জটায়ু বেঁচে থাকলে তিনিও ওই ডায়লগ শুনে নির্ঘাত বলতেন, “ হাইলি সাসপিসাস”। আমাদের পাঠক এবং দর্শকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া যাক ওই নেতার।
তিনি শফিকুর রহমান। পরিচয় জামাতের সর্বময় কর্তা। শনিবার ভারতের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁকে বলতে শোনা যায় – ভারত তাদের বন্ধু রাষ্ট্র। বিশ্বাস করা যায়! এতো অবিশ্বাস্য স্বীকারোক্তি! সেটা যদি দলের মধ্যে বলতেন তাহলে না হয় কথা ছিল। একেবারে প্রকাশ্যে, ক্যামেরার সামনে। শুনুন তাঁর গলায় –
কীসের প্রেক্ষিতে বলছেন, সেটাও একবার তুলে ধরা দরকার। প্রশ্ন করা হয়েছিল হাসিনার প্রত্যার্পণ নিয়ে। সেই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে শফিকূর রহমান বলেন, “এটা অবশ্যই উদ্বিগ্নের বিষয়। কারণ, ভারত আমাদের বন্ধু। আমরা সেই চোখে দেশটিকে দেখি। কিন্তু ভারত সেভাবে আমাদের দেখছে না। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দোষী সাব্যস্তকে তারা আশ্রয় দিয়েছে। ভারত তাঁকে আমাদের হাতে তুলে দিলে তাতে ভারতের মঙ্গল হবে, বাংলাদেশের মঙ্গল হবে। ”
মঙ্গল হবে কি হবে না, সেটা তো পরের কথা। কিন্তু তাঁর মুখে যা শোনা গেল সে তো সুকুমার রায়ের অবাক জলপান-য়ের মতো। একজন চেয়েছে জল। আর যাঁর কাছে সে জল চেয়েছে, সে শুনেছে জলপাই। শফিকুরের মুখে ভারতকে বন্ধু রাষ্ট্র বলে সম্বোধন করাটা সত্যি অবাক করার মতো ঘটনা। আসলে, জামাত নেতারা রীতিমতো চাপে পড়ে গিয়েছে। কারণ, তারেক সেই সঙ্গে তাঁর দল বিএনপির সঙ্গে দূরত্ব মিটিয়ে নিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সাউথব্লক। আর জামাত যে তারেকের কাছে আতঙ্কসম, তা তো সবাই জানে। এই অবস্থায় ভারতের সাহায্য এবং সমর্থন ছাড়া তাদের কাছে আরও কোনও দ্বিতীয় রাস্তা যে নেই, সেটা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
আর তারেকের সঙ্গে তাঁর বৈঠক প্রসঙ্গে শফিকুর বলেন, ‘বেগম জিয়া গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নাগরিক অধিকার আদায়ের জন্য আজীবন লড়াই করে গেছেন। তিনি ইতিহাসের বিরল সম্মান নিয়ে বিদায় নিয়েছেন, যা তাঁর প্রাপ্য ছিল। আমরাও যদি জাতির জন্য এমন অবদান রাখতে পারি, তবে আমরাও একই সম্মান পাব।’












Discussion about this post