বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু পদত্যাগ করতে পারেন। তিনি গত ডিসেম্বর মাসেই বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ দাবি করেছিলেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। মঙ্গলবারেই সম্ভবত বাংলাদেশের নব নির্বাচিত সরকার শপথ নিতে চলেছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ফলে তাঁর মন্ত্রিসভায় কে কে স্থান পেতে চলেছেন তার চূরান্ত তালিকা যেমন বিএনপির অন্দরে তৈরির কাজ চলছে, তেমনই রাজনৈতিক মহলেও কাঁটাছেঁড়া চলছে। সেই সঙ্গে একটা প্রশ্নের উত্তরও খোঁজার চেষ্টা চলছে, বর্তমান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু যদি পদত্যাগ করেন, তাহলে কে হতে চলেছেন বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। সে ক্ষেত্রে বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে, তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম হল মুহাম্মদ ইউনূস। যিনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। তাহলে কি ইউনূস সাহেব বাংলাদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়ে যাবেন? বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরও ইউনূসের ভবিষ্যত সুরক্ষিত থাকছে? এ সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ব্যস্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে মুহাম্মদ ইউনূসের মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে তাঁর পরবর্তী পদ কী হবে তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। এমনকি তাঁর ভবিষ্যত নিয়েও অনেকে নানা কল্পনা করছেন। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের ৫ তারিখ আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর শান্তির নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী আঠারো মাস তিনিই বাংলাদেশের সর্বেসর্বা ছিলেন। কিন্তু সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের পর তাঁর সরে যাওয়া কার্যত পাকা। কিন্তু তিনি কোথায় যাবেন, তাঁকে কি আদৌ যেতে দেওয়া হবে, নাকি তাঁকে নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হবে। এমনই হাজারটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়ায়। তবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হুমায়ুন কবির ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে জানিয়েছেন, মুহাম্মদ ইউনূসের বিষয়েও নতুন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি দেশকে অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে পরিচালনা করতে আগ্রহী এবং সরকারে নির্বাচিত হলে তিনি তাঁর কাছে থাকা সমস্ত প্রতিভা ব্যবহার করতে চান। যদিও বিএনপি সূত্রে খবর, ইউনূসের নাম নিয়ে আলোচনা এখনও হয়নি, তবে মোহম্মদ সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদে যদি পদত্যাগ করেন, তাহলে কয়েকটি নাম নিয়ে আলোচনা হচ্ছে দলের অন্দরে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি নিজেও একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং বিএনপির হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে মির্জা ফখরুল দলের মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন। এবারের নির্বাচনে তিনিও জিতেছেন। ফলে হয় তিনি রাষ্ট্রপতি না হয় গুরুত্বপূর্ণ কোনও মন্ত্রিত্ব পাবেন।
কুমিল্লা–১ আসন থেকে এবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়া ৭৯ বছর বয়সী খন্দকার মোশাররফ হোসেনও রাষ্ট্রপতি পদে বিবোচিত হচ্ছেন। বিএনপির একটি সূত্র বলছে, খন্দকার মোশাররফ দলের কার্যক্রমে কিছুটা কম সক্রিয়। নিজেকে কিছুটা আড়ালে রাখেন, তাঁর স্বচ্ছ্ব ভাবমূর্তির জন্য রাষ্ট্রপতি পদে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নামও বিবেচিত। বিএনপির আরেক সিনিয়র নেতা আব্দুল মঈন খান এবার নিয়ে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘স্থায়ী কমিটি’র সদস্য হন মঈন খান। তাঁর নামও রয়েছে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতির নামের তালিকায়। আবার কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামটি আলোচনায়। এবার বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটিরও আহ্বায়ক ছিলেন তিনি। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে মুহাম্মদ ইউনূসের নামটাই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে সবচেয়ে জোরালো রয়েছে। এর পিছনে রয়েছে বিদেশি রাষ্ট্রগুলির প্রভাব। জানা যাচ্ছে, ইউনূসকে যাতে সহজে কাঠগড়ায় তোলা না হয়, সে কারণে তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে বসিয়ে দেওয়ার একটা আয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে এই ধরণের একটা চাপ থাকতে পারে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বাংলাদেশের নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগেই ইউনূসের সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। তারই পুরস্কার হিসেবে তিনি রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হতে পারেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post