আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নিতে চলেছেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি বললেন হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কে।
তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর কি শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরবেন, অথবা আওয়ামী লীগের বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ কতটা!
জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে আসার পর আওয়ামী লীগ ও ভারতের সঙ্গে তারেকের সম্পর্কের ওঠা-নামা কোন পর্যায়ে যেতে পারে!
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এখনও পর্যন্ত ঠিক আছে আগামী ১৭ নভেম্বর তিনি শপথ নেবেন তিনি। এখন প্রশ্ন উঠছে, তারেক প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের উন্নতি হবে, নাকি ইউনূস জমানার মতোই সম্পর্ক থাকবে ভারতের সঙ্গে! কিন্তু এর থেকেও বড় প্রশ্ন হল, বিএনপির সরকার দেশের ক্ষমতায় আসার পর তারেক প্রধানমন্ত্রীর পদে বসার পর আওয়ামী লীগের ভবিষ্যত কি হতে চলেছে? শেখ হাসিনা কি বাংলাদেশে ফিরবেন, আওয়ামী লীগের উপর থাকা সমস্ত নিষেধাজ্ঞা কী উঠতে চলেছে? এমনই অনেক প্রশ্ন সামনে আসতে পারে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর। তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে কার্যত নির্বাসনে ছিলেন। তাঁর মা বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী তথা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া যখন মৃত্যুসজ্জায়, তখনও তারেক রহমান সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছিলেন তাঁর দেশে ফেরার বিষয়টি তাঁর একক সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে না। সেটা ছিল ২০২৫ সালের নভেম্বর মাস। কিন্তু একমাসের আগেই তারেকের সিদ্ধান্ত বদলে যায়। তিনি সপরিবার লন্ডন থেকে ঢাকায় আবতরণ করেন ২৫ ডিসেম্বর। এতটুকু সময়ে কিভাবে গোটা পরিস্থিতি বদলে গেল, সেটা নিয়েই জল্পনা-কল্পনা চলছে বাংলাদেশে। কিন্তু এটা ঠিক, যে তারেকের দেশে ফেরা বিএনপির জন্য সাপে বর হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিএনপির এই ভূমিধস জয় অনেকটাই সম্ভব হয়েছে তারেক রহমানের দেসে ফেরার পরই। আরও একটা বিষয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, সেটা হল আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটা বিপুল সংখ্যক ভোট এবার বিএনপির বাক্সেই গিয়েছে। তাই তাঁদের ভূমিধস জয় হয়েছে। এটা একান্তে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অনেকেই মানছেন। কিন্তু আবার শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি সামনে আসতেই বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ বলছেন, হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করানো হবে।
তবে সালাউদ্দিন আহমেদের এই বক্তব্যের পর সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান কিন্তু সাবধানী প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁর সরকারের বিদেশনীতি ঠিক হবে বাংলাদেশের জনগণের মঙ্গলচিন্তা করেই। তাঁর বিদেশনীতিতে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশিদের স্বার্থই প্রথমে ভাবা হবে।
অপরদিকে, নির্বাচনে জয়ের পরেই সাংবাদিক বৈঠক করে ঐক্যের বার্তা দিয়েছিলেন বাংলাদেশের হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আওয়্মী লীগকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভোট প্রচারেই তারেক রহমান দাবি করেছিলেন, তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি নিষেধাজ্ঞা চাপানোর পক্ষপাতি নন। তিনি মনে করেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই সব রাজনৈতিক দলের অধিকার রয়েছে সাধারণ মানুষের রায় মেনে রাজনীতি করার। তখনই মনে করা হয়েছিল, বিএনপি ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগের বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে আসার পথ সুগম হতে পারে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তা কি সম্ভব? জানা যাচ্ছে, তারেক রহমান জামাত ও এনসিপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে চলেছেন। প্রথমে তিনি প্রথমে ঢাকায় জামাতের আমীর শফিকুরের বাড়িতে যাবেন, পরে তিনি যাবেন এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামের বাড়িতে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসার আগে সে দেশের বিরোধী দলের আসনে বসতে চলা জামাত এবং এনসিপির শীর্ষনেতার সঙ্গে তারেক সাক্ষাৎ করলে তা ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে আজ নয় তো কাল, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতির মূল অঙ্গনে ফিরে আসার সম্ভাবনা থেকেই যায়। তবে সেটা কবে আর কিভাবে, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন।












Discussion about this post