বাংলাদেশে শেষ হল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই সঙ্গে শেষ হল ছাপ্পাপর্ব। ভোট শুরু হয়, সকাল সাড়ে সাতটা থেকে। চলে, বিকেল সাড়ে চারটে পর্যন্ত। ভোটদানের সঙ্গে শুরু হয় নির্বিবাদে ছাপ্পাদান। এই প্রতিবেদন পাঠ করার সময় চলছে গণনা। গণনাতেও জল মেশানোর সম্ভাবনা প্রবল বলে মনে করছে রাজনৈতিকমহলের একাংশ। বিশেষ করে জল মেশানোর সম্ভাবনা রয়েছে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটে। ফলে, ভোটের ফল, থুড়ি ছাপ্পার ফল কার দিকে যাবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। কে, কার পক্ষে কত লিটার জল মেশাবে, সেটাও দেখার বিষয়।
এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেই। ফলে, তাদের বিরুদ্ধে আর যাই হোক ছাপ্পা ভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠবে না। সে দিক থেকে তাদের মান সম্মান রক্ষা পেয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ কর্মী বুথে না যাওয়ায় ভোটের হার অন্যান্যবারের তুলনায় অনেকটাই কম। এবারের লড়াই মূলত দুই রহমানের। একজন তারেক রহমান, দ্বিতীয়জন শফিকুর রহমান। তারকা প্রার্থী আরও অনেকেই আছেন। কিন্তু বাকিদের থেকে এই দুই রহমান বৃহস্পতিবার মিডিয়ার সব আলো শুষে নিয়েছে। লড়াই দুই রহমানের শুধু নয়, নবীন বনাম প্রবীণের। একজন পোড় খাওয়া নেতার সঙ্গে একজন আনকোড়া নেতার। তারেক রহমানের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক কস্মিনকালেও ছিল না। তাঁর মায়ের রক্তে ছিল রাজনীতি। সেই সূত্রে তাঁর রক্তে কিছুটা হলেও রাজনীতির রক্ত রয়েছে। আর জামাত নেতা শফিকুর রহমান রাজনীতির আগুনে একাধিকবার পুড়িয়েছেন। তবে এবার যেন তিনি আরও বেশি করে রাজনীতির আগুন থেকে ওম নিয়েছেন অন্যবারের তুলনায় বেশি। তাই, এই দুইয়ের লডা়ই কিন্তু ইজ্জতের লড়াই। দল জিতলেও নেতা পরাজিত হলে জনমানসে এক ধরনের বার্তা যায়। আবার দল হারল, সেই সঙ্গে নেতাও – তারও একটি ভিন্ন বার্তা রয়েছে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামীর না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হতেই এই দুই শিবিরের নেতা কর্মীদের মাঠ কামড়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির একটা নিজস্ব পরিচিত ছিলই। সে দিক থেকে বিচার করলে জামায়াতের উত্থান কিন্তু রকেট গতিতে। প্রচারে তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে, জনমানসে তাদের চিরাচরিত ভাবমূর্তির বদল ঘটাতে। বিএনপি ভোটারদের এই বার্তা দিতে চেয়েছে যে তারা গণতন্ত্রের পক্ষে ছিল, গণতন্ত্রের পক্ষেই থাকবে। বাংলাদেশে যে দুঃশাসন শুরু হয়েছে, তার ইতি ঘটাতে বিএনপিকে ক্ষমতা আনার দরকার। একই বার্তা দেওয়া হয়েছে জামাতের তরফে। তারা চেষ্টা চালিয়েছে ইসলামি কট্টরপন্থীর তকমা মুছে ফেলে একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে জনমানসে তুলে ধরতে। তারেকের জনসভায় যেমন ভীড় হয়েছিল, তেমন ভিড় হয়েছে শফিকুর রহমানের জনসভাতেও। এই জামায়াত নেতাকে এমন কথাও বলতে শোনা যায় যে দরকার হলে সোনার বাংলা করতে তারা বিএনপির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে। দেশের স্বার্থ আগে। দেশবাসীর স্বার্থ আগে – বারে বারে জামাত নেতা এই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বাংলাদেশ নির্বাচনী প্রচারের শেষ লগ্নে যে সব জনমত সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে জনপ্রিয়তার নিরিখে বিএনপির পরেই তাদের স্থান। তবে আশ্চর্যজনকভাবে টের পাওয়া গেল না জুলাই অভ্যুত্থানের কারিগরদের। অথচ বাংলাদেশে পালাবদলের ক্ষেত্রে এরাই ছিল মূল কারিগর। ভোট শেষ। চলছে গণনা। কার দিকে পাল্লা ঝুঁকবে, সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশবাসী কোন রহমানের পাশে রইলেন, সেটা জানার জন্য আমাদের আর কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশে কি তারেক যুগ না কি শফিকুর রহমান যুগ, সেটা জানার শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।












Discussion about this post