জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিচ্ছে। এদিকে ডাকসুতে বিএনপির ভরাডুবির পর আলোচনা চলছিল কি অবস্থা নেবে বিএনপি। ঠিক সেই মুহূর্তে দেখা গেল, বিএনপির মহাসচিব যে মন্তব্য করেছেন, তার প্রেক্ষিতে সরকারের কি অবস্থান হবে, সেটা নিয়ে চলছে আলোচনা। জানা যাচ্ছে, বিএনপির মহাসচিব একাধিক উপদেষ্টাদের পদত্যাগ চাইলেন নতুন করে। তবে কি সরাসরি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, বিশেষত মহমুদ ইউনূসের সঙ্গে দ্বন্দ্বে যেতে চাইছে বিএনপি?
বেসরকারি টেলিভিশনকে সাক্ষাৎকারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নিরপেক্ষ করতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন
তিনি বলেন, ওই দুই উপদেষ্টার কথা আমরা আগেই বলেছি, তারা উপদেষ্টা পরিষদে থাকতে পারবেন না। অর্থাৎ বিএনপি চাইছে, আসিফ মহম্মুদ সজীব ভূঁইয়া এবং মাহফুজ আলম যাতে উপদেষ্টা পরিষদে না থাকে। তিনি বলেন,মহম্মদ ইউনূসের উচিত, নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে তাদের চলে যেতে বলা। তা না হলে প্রশ্ন উঠবেই।
তিনি আরও বলেন। তিনি বলেন, নির্বাচন ঘিরে সংকট বাড়তে থাকলে অনিশ্চয়তায় পড়বে পুরো জাতি। যেটা থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হবে। এমনকি তিনি সুর ছড়িয়েছেন শেখ হাসিনাকে নিয়েও। তিনি বলেন, ভারতে থেকে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছেন। এমনকি উল্লেখ করেন, জন্মের পর থেকেই আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে এসেছে।
এখানেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডাকসু নির্বাচনে ভরাডুবির পর মনে করা হয়েছিল, বিএনপি নির্দিষ্ট একটি অবস্থান নেবে। যেটা প্রমাণ করবে, অনেক বেশি অভিজ্ঞ রাজনৈতিক একটি দল বিএনপি। তাদের পরাজয় হলেও সেটা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী কাজ করবে। কিন্তু সেটা না করে আওয়ামী লীগের মতো একটি পুরোনো রাজনৈতিক দলের বিষয়ে এমন মন্তব্য করছেন তারা। বিএনপি কি দেখাতে পারবে, যে আওয়ামী লীগ জন্মের পর থেকে সন্ত্রাসী কাজক্রম চালিয়ে যাচ্ছে? এমনকি নির্বাচনের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মুদ ইউনূসের উপর বিএপি আস্থা রাখতে চাইছে। কিন্তু অভিজ্ঞ মহল বলছে, এই সরকারের উপর আস্থা রাখতে রাখতে বহু দেরী হয়ে যাবে। কারণ যা পরিস্থিতি তাতে আখেরে লাভ হবে না বিএনপির। শুধু তাই নয়, যেভাবে জামাত এবং তাদের ছাত্রশিবিরের জয় দেখা যাচ্ছে, তাতে এর প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন বিএনপির উচিত, সঠিক অবস্থান নেওয়া। কারণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্ণরূপে বদলে যাচ্ছে। যেটা প্রমাণ করল এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলির নির্বাচনের ফলাফলে। এখন বিএনপির উচির একটি অভিজ্ঞ
রাজনৈতিক দল হিসাবে সন্তপর্ণে পা ফেলা। এখন দেখার, শেষমেশ কি পরিস্থিতি তৈরি হয়।












Discussion about this post