এতোদিন চিনের সঙ্গে ভারতে স্থলপথে ছিল শেয়ানে শেয়ানে লড়াই। এবার লড়াই গড়াল জলপথে। গোয়েন্দা ও সেনাসূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতরে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিন ভারতকে তিনটি গুপ্তচর জাহাজ (স্পাইশিপ) দিয়ে ঘিরে রেখেছে। এই তিন স্পাইশিপ রয়েছে ভারত মহাসাগর, আরবসাগর এবং বঙ্গোপসাগরে। চলতি বছর জানুয়ারি এবং তিন মাস বাদে মে মাসে বেজিং এই কায়দা নিয়েছিল। নতুন করে ড্রাগনের শয়তানির জেরে ভারত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানুয়ারি এবং মে মাসেও ভারত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সময় বেজিং এইরকম শয়তানি করেছিল। সর্বশেষ ঘটনার প্রেক্ষিতে সাউথব্লক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেজিংয়ের এই স্পাইশিপ যতদিন ইকোনমিক্যাল এক্সক্লুসিভ জোনে থাকবে, ততদিন ভারত কোনও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করবে না।
চিনের আসল উদ্দেশ্য কিন্তু অন্য। বেজিং চাইছে জলপথেও দিল্লিকে টক্কর দিতে। ফিলিপিন্সের ক্ষেত্রেও চিন একই কৌশল নিয়েছিল। ফিলিপাইন্স সেই স্পাইশিপগুলির প্রতিটি নিষ্ক্রিয় করে দেয়। কোন স্পাইশিপ কোথায় আছে সেটা একবার দেখে নেওয়া যাক। একটি রয়েছে ভারতের গা ঘেঁসে, আন্দামান –নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের আন্তর্জাতিক জল সীমার খুব কাছাকাছি। সেখানে রয়েছে সি ইয়াং সিক্স। বাকি দুটি স্পাইশিপের একটি ল্যান হিয়াং টু জিরো ওয়ান, অপরটি হল শেন হিয়াই হাও।
ল্যান হিয়াং টু জিরো ওয়ান এখন আরব সাগরে অবস্থান করছে। চিন বলছে মাছ ধরার জন্য সেগুলিকে তারা পাঠিয়েছে। স্পাইশিপ দিয়ে মাছ ধরবে! রাজকন্যা কী কম পড়িয়াছে – ধাঁচের প্রশ্নের সুরে বলতে হয় মাছ ধরার নৌকা কি কম পড়িয়াছে চিনের? শেন হিয়াং ই হাও স্পাইশিপ চিন ২০২০ সালে লঞ্চ করে। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী। সমুদ্রের সাত হাজার ফিট নীচে নিশ্চিন্তে থাকতে পারে। এর কাজ হল সমুদ্রের নীচে কোন দেশ কেবল রেখেছে, তার খোঁজ করা। চিন এটাকে ব্যবহার করে ডুবোজাহাজের রুট ম্যাপিংয়ের কাজে। এটাকে ডিপ ড্রাইভারও বলা হয়ে থাকে। এর গুরু দায়িত্ব হল মিসাইল টার্গেটিং ডেটা কালেকশন। অর্থাৎ ভারত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করলে সেই ক্ষেপণাস্ত্রের যাবতীয় তথ্য চিনের হাতে চলে যেত। অটোমিটেক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম থাকায় কোনও দেশ যদি অস্ত্র ব্যবহার করে এই স্পাইশিপ সেটা দ্রুত ডিটেক্ট করতে পারে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য অপারেশন সিঁদুরের সময় পিএল ফিফটিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল চিন। একটিকে ভারতীয় সেনা নিউট্রালাইজড করে দেয়। একটি ভারত হাতে পেয়েছে। সেটা রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মধ্যে দিয়ে ভারত তার ডেটা সংগ্রহ করেছে।
প্রশ্ন হল কেন চিন এই সময় কেন তিনটি স্পাইশিপ তিন দিকে পাঠিয়ে দিল। উদ্দেশ্য ভারত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করলে দ্রুত সেই ক্ষেপণাস্ত্রের ডেটা বা তথ্য চুরি করে হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা। অরুণাচল এবং লাদাখের কাছে চিন মিলিটারি বেস তৈরি করেছে সেটাও ভারতের স্যাটেলাইট ইমেজে ধরা পড়েছে। সেই খবর সাউথব্লকের কানে চলে গিয়েছে। ওই দুই জায়গায় তৈরি হওয়া সেনাছাউনিতে রাখা আছে ফাইটার জেট। তৈরি করা হয়েছে যুদ্ধবিমান রাখার হ্যাঙার।। স্থলপথে চিন ভারতকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এবার জলপথেও বেজিং দিল্লিকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করছে। দিল্লি কিন্তু ঠাণ্ডা মাথায় বসে ঘুঁটি সাজাচ্ছে।
প্রকাশ্যে গুলি। একবার নয়, একাধিকবার। বলা হচ্ছে গুলি মাথার এফোঁড় ওফোঁড় করে বেরিয়ে গিয়েছে। যারা গুলি চালিয়েছে, তারা এসেছিল বাইকের...
Read more












Discussion about this post