শেখ হাসিনা এবং তাঁর আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। তারা এই দুইকে ফেরত পেতে চেয়ে দিল্লিকে নোট ভার্বাল পাঠিয়েছে। দিল্লি জানিয়েছে তারা ওই নোট ভার্বাল খতিয়ে দেখছে। হাসিনা দিল্লির আশ্রয়ে আছেন। মনে করা হচ্ছে আসাদুজ্জামান খান কামালও দিল্লিতে রয়েছে। হাসিনা দৃশ্যমান অন্তরীন হওয়ার পর বাংলাদেশের অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক বোমা ফাটিয়ে গিয়েছেন। আর সেই বোমা থরথর করে কেঁপে উঠেছেন যমুনাবাসী। দেখার ছিল পাকিস্তান কী প্রতিক্রিয়া দেয়।
ইসলামাবাদ কৌশলী বার্তা দিয়েছেন। সে দেশের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র তাহির হুসেন আন্দ্রাবি গত শুক্রবার রুটিন প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় বলেন, ‘হাসিনা এবং তাঁর আমলের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে বাংলাদেশের অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। এই রায়ের বিষয়ে আমরা অবগত। তবে রায় নিয়ে পাকিস্তানের কিছু বলার নেই। কারণ, এটা বাংলাদেশের একান্ত ঘরোয়া বিষয়। ’ ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ তাদের দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে এই ধরনের বিষয় মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে বলে তাদের বিশ্বাস।’ প্রশ্ন হল মোকাবিলা বলতে তিনি কী বলতে চাইছেন। তিনি কী বোঝাতে চাইছেন যে হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই রায়কে কেন্দ্র করে পদক্ষেপ অবশ্যই করবে বলে তাদের বিশ্বাস। না কি সরকার এই রায় যে কোনও মূল্য কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর।
পাকিস্তান বিষয়টিকে বাংলাদেশের ঘরোয়া ব্যাপার বলে এড়িয়ে যেতে চাইছে। কিন্তু সত্যি কী পাকিস্তান এই রায়ে অখুশি? তাদের তো খুশি হওয়া কথা। কারণ, এই রায় তো আসলে তাদেরও পক্ষে গিয়েছে। যেমনটা গিয়েছে বাংলাদেশের তদারকি সরকারের পক্ষে। হাসিনা ক্ষমতায় না থাকলে পাকিস্তানের যে কত সুবিধা সেটা তো সাম্প্রতিক অতীতে আমরা দেখেছি। আগামীদিনেও যে দেখা যাবে, তা নিয়ে কারও মনেই কোনও সন্দেহ নেই। হাসিনা যতদিন না ক্ষমতা মসনদে আসীন হবেন, ততদিন ইসলামাবাদের পোয়া বারো।
বাংলাদেশের আইসিটির রায় নিয়ে ইসলামাবাদ খুব বেশি কথা খরচ না করলেও ভারতের বিরুদ্ধে কিন্তু সেদিনের প্রেস ব্রিফিংয়ে তেড়ে গাল দিয়েছে। বলেছে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে লাগাতার মানবাধিকারের ঘটনা ঘটে চলেছে। ভারত সরকার সেখানে নির্বিবাদে দমনপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। যাকে খুশি তাকে গ্রেফতার করছে। সেখানকার বাসিন্দাদের বাক স্বাধীনতার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ভারতের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ তুলেছেন পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের ভূখণ্ড দিল্লি বদলে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কাশ্মীরের বহু তরুণের খোঁজ মিলছে না। বহু তরুণকে জেলে আটকে রাখা হয়েছে। কাশ্মীরের বিভিন্ন দলের নেতাদের জেলে আটকে রাখা হয়েছে। মুখপাত্রটি বলেন,‘আন্তর্জাতিকমহলের কাছে আমাদের আর্জি তারা যেন এই জায়গায় যে সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, তারা যেন সে সব অভিযোগ খতিয়ে দেখে। যথাযথ পদক্ষেপ করে। ’
তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়াল কী? তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রায়ের ওপর প্রতিক্রিয়া। তিনি বিষয়টিকে সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে এড়িয়ে গেলেন। আর যা ভারতের অংশ তা নিয়ে দিল্লির বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন। তাহির হুসেন আন্দ্রাবির প্রতিক্রিয়া মনে করায় হিন্দির একটি প্রচলিত কথকথা – গোলি মারা রামকো, লাগ গ্যায়া শ্যামকো, মর গ্যায়া তেওয়াড়ি।












Discussion about this post